• রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
মেদ কমাতে বেল্ট ব্যবহার নয়!

সংগৃহীত ছবি

স্বাস্থ্য

মেদ কমাতে বেল্ট ব্যবহার নয়!

  • প্রকাশিত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নতুন পোশাক পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলেন পেটের মেদে বাদ সাধছে পোশাকের সৌন্দর্য। ডায়েট না মানতে পারার প্লানি ও শরীর চর্চার অভাবে মেদ বাড়ছে আড়ে-বহরে। আর তাকে বাগে আনতেই কম পরিশ্রমের উপায় খুঁজতে বসেন অনেকে। অনলাইনে করেন বেল্টের অর্ডার। ভাবেন, বিনা শ্রমে অল্প দিনে ঝরিয়ে ফেলা যাবে বাড়তি মেদ। কিন্তু সত্যিই কি কাজ হয় এতে? জানাচ্ছেন এস আর শশি।

চিকিৎসকদের মতে, আসল সত্যিটা জানলে এই ফাঁকিবাজি করে মেদ ঝরানোর আগে অন্তত দুবার ভাবতে হবে। তবে শঙ্কা নিয়ে কথা বলতে গেলে বেল্টের কর্মপদ্ধতি জানাটা আগে জরুরি। চওড়া বেল্ট পেটে টাইট করে আটকে নিয়ে বেশি তাপমাত্রার সাহায্যে ঘর্ম গ্রন্থি বা সোয়েট প্ল্যান্ডের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে ওই অংশে প্রচুর ঘাম হয়। আর এই কারণে কিছুটা হালকা লাগে। সামান্য ছিপছিপে যে লাগে না তা-ও নয়। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এতটাই বেশি, যা শরীরের পক্ষে মোটেই ভালো নয়।

ভারতীয় পুষ্টিবিদ সুমেধা সিংহের মতে, বাজারে পাওয়া বেশির ভাগ বেল্টে শরীরের মাঝের অংশের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয় ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত। এর ফলে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকের র্যাশ তো বটেই, এগজিমা বা সোরিয়াসিসের প্রবণতা থাকলে তা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অতিরিক্ত ঘাম বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ওজন কমছে বলে মনে হলেও আসলে ঘাম ঝরার জন্যই একটু ঝরঝরে লাগে মাত্র। আসলে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে অনেকটা পানি বেরিয়ে যায় বলে ওজন কিছুটা কমলেও তা কিন্তু খুব সাময়িক।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, চটজলদি মেদ কমানোর হাতিয়ার বেল্টের আরো অনেক ক্ষতিকর দিক আছে। ফাঙ্গাল ইনফেকশনের পাশাপাশি রক্তচাপ থাকলে তা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অনেকের হার্টে চাপ পড়ে বুক ধড়ফড় করতে পারে। ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি পেটে এই বেল্ট বেঁধে রাখলে পরবর্তীকালে পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ায়। আসলে স্পার্মের জন্য লাগাতার গরম মোটেও ভালো নয়। এর ফলে একদিকে স্পার্ম কাউন্ট কমে যায়, অন্যদিকে টেস্টিকুলার টেম্পারেচর বেড়ে যায় বলে স্পার্ম উৎপাদন বরাবরের জন্য ব্যাহত হতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার প্রস্টেট ও টেস্টিকুলার ক্যানসারও ডেকে আনতে পারে। আর এক ভুল ধারণা হলো-এই বেল্ট ব্যবহারের পরেই কনকনে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে নাকি রাতারাতি ওজন কমে যায়। জাপানের ‘সেন্ট মারিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত সমীক্ষা অনুযায়ী, এই কাজটি করে প্রতি বছরই অজস্র অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে মারাত্মক জ্বরের শিকার হয়।

ওজন কমাতে বেল্টের ব্যবহার দেশে দেশে এতটাই জনপ্রিয় যে, প্রতি বছর এ ধরনের বেল্ট দিয়ে মেদ কমানোর চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। ২০১০ সালে রাশিয়ায় আয়োজিত এমনই এক চ্যাম্পিয়নশিপে এক খেলোয়াড়ের মৃত্যুও হয়। তারপর থেকেই বেল্টের ব্যবহারে রাশ টানছে বিশ্বের উন্নততম দেশগুলো।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads