• শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
কেমন আছে হৃদযন্ত্র

প্রতীকী ছবি

স্বাস্থ্য

কেমন আছে হৃদযন্ত্র

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ০৩ অক্টোবর ২০১৯

বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হার্ট অ্যাটাক। বলা হয় বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, বুকে ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাবার মতো ঘটনা সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে হয়। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা বলছে, হৃদরোগের প্রাথমিক উপসর্গ খেয়াল না করলে তার ফলে কেবল মৃত্যু নয়, বেঁচে থাকলেও অনেক জটিলতা নিয়ে বাঁচতে হয়। সবল হার্ট সুস্থ, স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের জন্য আবশ্যিক বিষয়। শরীরের প্রতি অবিচার কিংবা দীর্ঘদিনের অনিয়মের ফলে হৃদযন্ত্রে বাসা বাঁধছে নানা অসুখ। বয়সের সঙ্গে এসব অনিয়মের ফলে উচ্চরক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত মেদ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মদ্যপান, মানসিক চাপ এগুলোই মূলত হার্ট অ্যাটাকের কারণ। হার্ট বা হৃদযন্ত্র যদি ঠিকমতো কাজ না করে তবেই হার্ট অ্যাটাক হয়। হার্ট অ্যাটাক বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথা ২০-৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মৃত্যুবরণ করে। তাই এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। করোনারি আর্টারি নামে হৃৎপিণ্ডের গায়ে থাকে দুটি ছোট ধমনি। এরাই হৃৎপিণ্ডে পুষ্টির জোগান দেয়। কোনো কারণে এই করোনারি আর্টারিতে যদি ব্লক সৃষ্টি হয় তাহলে যে এলাকা ওই আর্টারি বা ধমনির রক্তের পুষ্টি নিয়ে চলে সে স্থানটিতে হৃৎপেশি কাজ করে না। আর তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়।  অনেক সময় হার্ট অ্যাটাক হলেও বোঝা যায় না। কারণ এমন অনেক সময় আছে যখন বুকে কোনো রকমের ব্যথাবোধ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হয়। বেশির ভাগ মানুষেরই নিয়মিত হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়ে ওঠে না। হার্ট অ্যাটাক হলে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ধরা বা অস্বস্তি যেমন থাকতে পারে, থাকতে পারে ঘাম, বমি, অসম্ভব ক্লান্তি ও দুর্বলতা। এছাড়া হাতে বা পিঠে ব্যথা, বদহজম, বুক ধড়ফড় করতেও পারে। কাজেই মধ্যবয়সে বা হৃদরোগের রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে এসব হলে কষ্ট কমার অপেক্ষায় বসে না থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ সমস্যার জন্য প্রধানত দায়ী অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। জেনে অবাক হবেন, প্রতি বছর পুরো পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে ১৭ মিলিয়ন মানুষ হৃদরোগের কারণে মৃত্যুবরণ করে। অথচ খাদ্যাভ্যাস আর লাইফস্টাইলে চেঞ্জ এনে যে হৃদরোগ শতকরা ৮০ ভাগ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বে প্রতি বছর এক কোটি ৭৫ লাখ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দাঁড়াবে দুই কোটি ৩০ লাখে। আর পৃথিবীতে মোট মৃত্যুর ৩১ ভাগই ঘটে হৃদরোগের কারণে। হার্ট অ্যাটাক মানে সব শেষ নয়। বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে, ওষুধপত্র খেলে ও নিয়ম মেনে চললে হার্ট  অ্যাটাকের পরেও দিব্যি ভালো থাকা যায়। হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক উপসর্গগুলো আমরা দেখে সাবধানতা অবলম্বন করতে পারলে অনেকাংশে ঝুঁকি কমানো যায়।

কেন হয় হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক?

আমাদের হৃৎপিণ্ডে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, তা হৃদযন্ত্রে আসে ধমনি দিয়ে। সেটি যখন সরু হয়ে যায়, তখন নালির ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। ফলে নালির ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রের পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যায়, ফলে আর সে অক্সিজেন প্রবাহিত করতে পারে না। হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে অক্সিজেন প্রবাহিত না হতে পারলেই হার্ট অ্যাটাক হয়।

হার্ট অ্যাটাক হলে কী করণীয়

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চিকিৎসা পেতে এক ঘণ্টা দেরির জন্য মৃত্যুর হার বেড়ে যায় ১০ শতাংশ। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তাই রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন এবং গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন।

হার্ট অ্যাটাকের পর যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তার কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করুন।

হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর যদি বমি আসে তাহলে তাকে একদিকে কাত করে দিন। যাতে সে সহজেই বমি করতে পারে। এতে ফুসফুসের মতো অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ষা পাবেন।

যেভাবে ঠেকানো যাবে হার্ট অ্যাটাক

- খাবার ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে, নিয়মিত হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করতে হবে, সক্রিয় থাকতে হবে।

- ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

- নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখতে হবে।

- ধূমপান বন্ধ করতে হবে।

- মাঝে মাঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

১ মাস আগেই দেহের ৭টি লক্ষণ

অস্বাভাবিক রকমের শারীরিক দুর্বলতা : রক্তপ্রবাহ কমে গেলে এবং রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এমনটা হয়। রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোতে চর্বি জমে বাধা সৃষ্টি করলে এবং মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়লে হৃদরোগের প্রধানতম এই লক্ষণটি দেখা দেয়।

ঝিমুনি : দেহে রক্তের প্রবাহ কমে গেলে ঝিমুনিও দেখা দেয়। মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে গেলে ঝিমুনির সৃষ্টি হয়।

ঠান্ডা ঘাম : রক্তপ্রবাহ কমে গেলে দেহে ঘাম ঝরলে স্যাঁতসেঁতে ও ঠান্ডা ভাব অনুভূত হবে।

বুক ব্যথা : বুক, বাহু, পিঠ এবং কাঁধে ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বুকে ব্যথা এবং সংকোচন হৃৎপিণ্ডের অসুস্থতার বড় লক্ষণ।

শ্বাসকষ্ট : ফুসফুসে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন এবং রক্ত সরবরাহ না হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। হার্টের সমস্যা থাকলে ফুসফুসে রক্ত চলাচল কমে যায়। আর শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস ছোট হয়ে আসার মতো সমস্যা দেখা যায়।

ঠান্ডা বা ফ্লু: হার্ট অ্যাটাকের শিকার অনেককেই এক মাস আগে থেকে ঠান্ডা-সর্দি বা ফ্লুতে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে।

বমি, বদহজম, তলপেটে ব্যথা : বমিভাব, বদহজম, বুক হৃৎপিণ্ডে জ্বালাপোড়া করা বা তলপেটে ব্যথাও অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। সুতরাং এই লক্ষণগুলো দেখা গেলেও হৃদরোগের ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads