• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
সমস্যার নাম দাঁতের সেনসিটিভিটি

সংগৃহীত ছবি

স্বাস্থ্য

সমস্যার নাম দাঁতের সেনসিটিভিটি

  • প্রকাশিত ০৭ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগেরও বেশি মানুষ দাঁতসংক্রান্ত এক বা একাধিক সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু তাদের মধ্যে খুব কম মানুষই এই সমস্যার কারণ চিহ্নিত করতে পারেন। আশার বিষয় হলো, নিত্যদিনের দাঁতের যত্নে কিছু অভ্যাস বদলানোর মাধ্যমেই এই সমস্যা থেকে খুব সহজে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পেরে।  কমবেশি দাঁতের সমস্যায় ভোগেন না, এখন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। বরং বলা যায় এই সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষই খুব সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। অবাক করা বিষয় হলো, শুধু সেনসিটিভিটির প্রাথমিক লক্ষণ বা কারণ সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকার কারণেই বেশিরভাগ মানুষ এই দাঁতের সেনসিটিভিটি সমস্যায় ভুগে থাকেন। সেনসিটিভ দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া উচিত। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বাজারে সেনসিটিবিটি উপশম করে এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত। ডেন্টিস্টরাও এর প্রতিকার হিসেবে সেনসিটিভিটির জন্য তৈরি বিশেষ টুথপেস্টের কথা বলে থাকেন। ডেন্টিস্টের পরামর্শে সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে সেনসিটিভির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

এমনটাই মত দিয়েছেন প্রায় ৯ শতাংশ ডেন্টিস্ট। তারা মনে করেন, এমন টুথপেস্ট দাঁত শিরশিরের যন্ত্রণা থেকে আপনাকে অনেকটাই রেহাই দেবে। আপনি যদি দাঁত নিয়ে কোনো অস্বস্তিতে পড়েন বা যদি মনে হয় যে তা দীর্ঘায়িত হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সরাসরি ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়াটাই সমীচীন হবে। এ ছাড়া সাধারণ টুথপেস্টের পরিবর্তে সেনসিটিভ দাঁতের জন্য বিশেষ টুথপেস্ট এর প্রতিকার ও প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। দিনশেষে, মুখের সঠিক যত্নই আপনার দাঁত এবং দাঁতের মাড়ির সুস্থতা নির্ধারণ করে।

ওরাল হেলথ ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদন এমন কিছু তথ্য পাওয়া যায়, যা আপনাকে চমকে দেবে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন দিনে দুবার নিয়মিত ব্রাশই করেন না; দশজনের মধ্যে একজন ব্রাশ করার কথা নিয়ম করেই ভুলে যান; প্রাপ্তবয়স্কদের ৪২% টুথপেস্ট এবং টুথব্রাশ ব্যবহার করে থাকেন এবং প্রতি তিনজনের একজন কখনোই তাদের দাঁত ফ্লস করাননি। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে ডেন্টিস্টরা দাঁতের যত্নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ রাখেন-

১। কমপক্ষে দুই মিনিট সময় নিয়ে প্রতিদিন নিয়ম করে দুবার দাঁত ব্রাশ করুন।

২। নিয়মিত দাঁত ফ্লস করান।

৩। মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন।

৪। চিনিমুক্ত গাম খাওয়া যেতে পারে।

৫। জিহ্বা পরিষ্কার রাখুন।

৬। খাবার ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।

৭। মচমচে সবজি খান। যেমন শসা, গাজর ইত্যাদি। 

৮। অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় পরিহার করুন।

৯। দাঁত ব্রাশ করার জন্য সেনসিটিভিটি রোধ করে এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।

দাঁতের সমস্যা নিয়ে ভাবতে ভাবতে বিগত কয়েক বছরে মানুষ এ সম্পর্কে বেশকিছু ভুল ধারণা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। অনেক সময় আমরা সমস্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করার চেষ্টা না করে এই ভুল ধারণাগুলোকেই বিশ্বাস করে থাকি। তাই দাঁতের সেনসিটিভিটি থেকে মুক্তি পেতে হলে সবার আগে এই ভুলগুলো ভাঙাতে হবে এবং সত্যটা জানতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ভুল ধারণাগুলো এবং তার সত্যতা-

ক্যাভিটির কারণে সেনসিটিভিটি হয় :

হ্যাঁ, ক্যাভিটি দাঁতের সেনসিটিভিটি হওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, তবে শুধু ক্যাভিটির কারণেই এই সমস্যা হয় এ ধারণাটা ভুল। মূলত সেনসিটিভিটি দেখা দেয় দাঁতের ক্ষয় থেকে, তবে ক্ষয় ছাড়াও এ সমস্যা হতে পারে।

শুধু ঠান্ডা-মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলেই সেনসিটিভিটি হয় :

ডেন্টিনের সংস্পর্শে গরম বা ঠান্ডা, মিষ্টি বা টকজাতীয় কিছু লাগলেই তা দাঁতের অভ্যন্তরের নার্ভকে সরাসরি আঘাত করার মাধ্যমে সেনসিটিভিটি তৈরি করে। এর ফলে দাঁত শিরশির করবে। শুধু ঠান্ডা-মিষ্টিজাতীয় কিছু খেলেই সেনসিটিভিটি হয়- এই ধারণাটা ভুল।

সেনসিটিভিটি সাময়িক, একসময় আপনাআপনি ঠিক হয়ে যাবে :

এটি ভুল ধারণা। সেনসিটিভিটির সমস্যা দেখা দিয়ে আবার তা সেরে যায়। তবে যখন সমস্যা দেখা দেয়, তখন যদি এর সঠিক চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে তা বারবার ফিরে আসবে এবং আপনাকে কষ্ট দিতে থাকবে।

৪। খাওয়ার পরপরই দাঁত ব্রাশ করে নেওয়া ভালো : ব্রাশ করা শুধু দাঁতের জন্য নয়, বরং দাঁতের মাড়ি এবং জিহ্বার জন্যও ভালো। তবে কোনো কিছু খাওয়া বা পান করার পরপরই ব্রাশ করা উচিত না; কেননা এই সময় দাঁতের ওপরিভাগ তুলনামূলক কোমল থাকে। ফলে খাওয়ার সাথে সাথে ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেলের অবক্ষয় দেখা দেয় এবং সেনসিটিভিটি দেখা দেয়। তাই বিশেষজ্ঞরা খাওয়ার কমপক্ষে আধাঘণ্টা পর দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দেন। শুধু দাঁত নয়, দাঁতের মাড়ি এবং জিহ্বা নিয়মিত ব্রাশ করা উচিত।

-ফিচার ডেস্ক

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads