• মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬
ads
মরণঘাতীর ভয় সচেতন হলে আছে নিরাময়

সংগৃহীত ছবি

স্বাস্থ্য

ক্যানসার

মরণঘাতীর ভয় সচেতন হলে আছে নিরাময়

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ক্যানসার সম্পর্কে ভয়ংকর একটি স্লোগান বহুল প্রচলিত— ‘ক্যানসার হ্যাজ নো অ্যানসার।’ এমন প্রচারণার ফলে মানুষের মাঝে ক্যানসার যত বড় অসুখ তার চেয়েও বেশি আতঙ্কের কারণ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। শুরুতে ধরা পড়লে ক্যানসার নিরাময়যোগ্য অসুখ। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই রোগের চিকিৎসা অধিক ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে আমাদের মতো দেশের জনগণ ক্যানসারের মানে মৃত্যুকেই নিয়তির লিখন হিসেবে ধরে নিয়েছে। কারণ এর চিকিৎসা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি অপর্যাপ্ত এবং একই সঙ্গে এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। এসব কারণে একটি পরিবারে একজনের ক্যানসার হওয়া মানে পরিবারটির আর্থিক ও মানসিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সমান। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। আবার ক্যানসারের চিকিৎসা চালিয়ে অসংখ্য পরিবার সর্বস্ব খুইয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়েছে। অপরদিকে দৃষ্টান্ত কম হলেও মনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে ক্যানসারকে জয় করার নজিরও আছে। পাঠকের জ্ঞাতার্থে আমরা আজকের প্রতিবেদনে তারই বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করব।

প্রতিরোধে নজর দেওয়া উচিত

ক্যানসার একটি জটিল রোগ। আগে এই রোগটি ধনী দেশগুলোর রোগ হিসেবেই স্বীকৃতি পেয়ে এলেও ক্যানসারে নতুনভাবে আক্রান্তের ৬০ শতাংশই ঘটছে দরিদ্র ও মধ্য আয়ের দেশগুলোয়। এসব দেশের মৃত্যুজনিত কারণের দুই-তৃতীয়াংশই হচ্ছে ক্যানসার। এরই ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৫ সাল নাগাদ ক্যানসারকে বিশ্বব্যাপী তিন-চতুর্থাংশ মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশ্বে ক্যানসার জলোচ্ছ্বাসের মতো মহামারী আকারে ধেয়ে আসছে। জোয়ারের ঢেউয়ের মতো তা ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এখনই অ্যালকোহল সেবন ও চিনির ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা উচিত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিউএইচও)। ডবিউএইচও বলেছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হবে। তবে এখনই পদক্ষেপ নিলে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামানো সম্ভব হবে। ডব্লিউএইচও বলেছে, বর্তমানে ক্যানসার প্রতিরোধের দিকে নজর দেওয়া উচিত। সে জন্য ধূমপান, মদ্যপান ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

বর্তমানে প্রতি বছর এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। তবে ২০২৫ সালে এ সংখ্যা এক কোটি ৯০ লাখে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০৩০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ২০ লাখে। আর ২০৩৫ সালে এ সংখ্যা হবে ২ কোটি ৪০ লাখ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭১ সালের দিকে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ক্যানসারের গবেষণাতে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন খুব দ্রুত এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে মানুষ জয়ী হবে। কিন্তু আফসোস  এখনো ক্যানসার আমেরিকার জনগণের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়েই আছে। তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী,  যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর যত মানুষ মারা যায় তার মধ্যে ২৫% মানুষ ক্যানসারে মারা যায়, যুক্তরাজ্যে এই হারটা ২৯%। অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অসংক্রামক রোগের মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে ক্যানসার। দেশে দিনে দিনে ক্যানসার রোগী বাড়ছে। আবার বাড়ছে চিকিৎসা সুবিধাও। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি, ভোগান্তি ও খরচ বাড়ার অভিযোগও উঠছে প্রতিনিয়ত। সরকারি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি ঘটলেও তা পর্যাপ্ত নয় এখনো। ওষুধের সহজলভ্যতা থাকলেও দাম নিয়ে মানুষ অস্থির।

সময়মতো চিকিৎসা হলে সুস্থ হওয়া সম্ভব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য একটি ক্যানসার সেন্টার প্রয়োজন। সেই হিসাবে দেশে এখনো ১৬০টি ক্যানসার সেন্টার দরকার। কিন্তু আমাদের সরকারি পর্যায়ে আছে মাত্র ৯টি এবং বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল দেশের ক্যানসার আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা। সারা দেশে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ অনকোলজিস্ট ও নার্স নেই। তবে সরকার ২০ বছর মেয়াদি তিনটি স্তরে দীর্ঘ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রথম স্তরে রয়েছে আটটি বিভাগীয় শহরে আটটি ক্যানসার সেন্টার স্থাপন। দ্বিতীয় স্তরে প্রতিটি মেডিকেল কলেজে এবং তৃতীয় স্তরে প্রতিটি জেলা শহরে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আটটি বিভাগে ক্যানসার চিকিৎসার দ্বার উন্মোচিত হলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমবে এবং সবাই চিকিৎসা নিতে পারবে।  ক্যানসারের চিকিৎসা জটিল হলেও সময়মতো চিকিৎসা হলে সুস্থ হওয়া সম্ভব।  প্রাথমিক অবস্থায় যদি ক্যানসার ধরা পড়ে তাহলে তা প্রতিরোধ করা যায়। তাই সবার উচিত সচেতন হওয়া। সচেতন হলেই এ রোগ মোকাবেলা করা যাবে। আমাদের মাত্র ১২০ জন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রয়েছেন যা রোগীর তুলনায় খুবই কম। কাজই ক্যানসার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সামাজিকভাবে সবাইকে ক্যানসার রোগীর চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে হবে।

চিকিৎসায় অগ্রগতির বার্তা

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সাফল্যের খবর দিলেন যুক্তরাজ্যের গবেষকরা। একই সঙ্গে তারা চিকিৎসার জন্য নতুন কিছু ধারণাও নিয়ে এসেছেন। তারা বলছেন, এখন থেকে ক্যানসারের চিকিৎসায় পুরো শরীরের জন্য ঔষধ না দিয়ে শুধুমাত্র আক্রান্ত্ত কোষগুলোর চিকিৎসা সম্ভব। ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের একটি দল ত্রিশ ধরনের ক্যানসার থেকে ক্যানসারের কোষগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এখানে ঔষধ প্রয়োগ করে প্রায় ছয়শ নতুন ধরনের ঝুঁকি নিরসন করা সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, ক্যানসারের চিকিৎসায় এখন যে কেমোথেরাপি দেওয়া হয় এবং এর প্রতিক্রিয়ায় পুরো শরীরেই কমবেশি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। ডা. বেহান বিবিসিকে বলছেন, এখন যে চিকিৎসা আমরা করছি তা ক্যানসার রোগীর পুরো শরীরের চিকিৎসা। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষগুলোকে চিহ্নিত করছি না। এ গবেষণায় আমরা ক্যানসার কোষগুলোর দুর্বলতম স্পটগুলোকে শনাক্ত করেছি এবং এটি আমাদের ঔষধ তৈরিতে সহায়তা করছে। এগুলো শুধু ক্যানসার কোষগুলোরই চিকিৎসা দেবে এবং ভালো কোষগুলোকে অক্ষত রাখবে।

২০৩০ সালে ক্যানসারে মৃত্যুহার কমবে

২০৩০ সালের মধ্যে ক্যানসারে মৃতের হার নাটকীয়ভাবে কমে আসবে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের ক্যানসার গবেষণা সংস্থা-ক্যানসার রিসার্চ ইউকে। সংস্থাটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমছে এবং একই সঙ্গে ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসার ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। এসব কারণে ক্যানসারে মৃত্যুহার ১৭ শতাংশ কমে যাবে। প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ১৭০ জন ক্যানসারে মারা যান। এ সংখ্যা কমে প্রতি ১ লাখে ১৪২ জনে এসে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।  ফুসফুস, স্তন, অন্ত্র ও প্রোস্টেট ক্যানসারে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। এসব ক্যানসারে মৃত্যুর হার কমে যাবে বলে এ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। ওভারি ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমে যাবে এবং এ ক্যানসারে মৃত্যুর হার আগামী কয়েক দশকে ৪২ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ সময়ে লিভার ও ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর হার বাড়বে বলে আশংকা করা হয়েছে।

সংকেতগুলো উপেক্ষা করা উচিত নয়

কোনো অসুখ হলে আমাদের শরীরই নানা রকম সংকেতের মাধ্যমে তা জানান দেয়। মানুষের যত রকম ক্যানসার হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীর সে সম্পর্কে কোনো না কোনো পূর্বসংকেত দেয়। কিছু লক্ষণ দেখে আপনি সন্দেহ করতে পারবেন যে আপনার দেহে হয়তো ক্যানসার হয়ে থাকতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন সেই সংকেত মূলত সাতটি-

- হঠাৎ শরীরের ওজন কমতে শুরু করেছে কিন্তু তার তেমন কোনো ব্যাখ্যা নেই।

- হজম ও মল-মূত্র ত্যাগের অভ্যাসে কোনো ধরনের পরিবর্তন হওয়া।  যেমন আপনার হয়তো কোষ্ঠকাঠিন্য নেই কিন্তু সেটিই হচ্ছে ইদানীং। অথবা পাতলা পায়খানা।

- সারাক্ষণ জ্বর বা খুসখুসে কাশি যা ঠিক যাচ্ছেই না।

- শরীরের কোথাও কোনো পিণ্ড বা চাকার উপস্থিতি।

- ভাঙা কণ্ঠস্বর যা কোনো চিকিৎসায় ভালো হচ্ছে না।

- তিল বা আঁচিলের সুস্পষ্ট পরিবর্তন।

- শরীরের কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ।

চিকিৎসা খরচ কমছে

আমাদের দেশি কোম্পানিগুলো উৎপাদনে আসার পর দেশে চিকিৎসা ব্যয় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। দিন দিন দাম আরো কমবে। বর্তমানে দেশে পাঁচ-ছয়টি কোম্পানি ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসার ৯৫ শতাংশ ওষুধ  দেশে  উৎপাদন হচ্ছে এটি একটি বড় সাফল্য। আশা করা হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশ ক্যানসারের জন্য আর ওষুধ আমদানি করবে না। কারণ তখন দেশেই ক্যানসারের ওষুধ শতভাগ উৎপাদন সম্ভব। বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বাংলাদেশে প্রথম, অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদন করছে। জানা গেছে, বিকন ফার্মা ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদন করার আগে বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল।

‘ভার্চুয়াল টিউমার’ চিকিৎসায় নতুন উপায়

কম্পিউটার সফটওয়্যারের সাহায্যে টিউমারের মতো একই ধরনের একটি ত্রিমাত্রিক প্রতিকৃতি পুনর্নির্মাণ করা হয়। ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যানসারের ‘ভার্চুয়াল টিউমার’ তৈরি করেছেন ক্যামব্রিজের বিজ্ঞানীরা, যেটি ক্যানসার রোগটি শনাক্ত করার নতুন উপায় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে কোনো রোগীর শরীর থেকে টিউমারের নমুনা নিয়ে সেটিকে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে। সেটিকে সবদিক থেকে দেখে প্রতিটা কোষ আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যাবে। গবেষকরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ক্যানসার রোগটিকে আরো ভালোভাবে বুঝতে এবং ক্যানসার মোকাবেলায় নতুন চিকিৎসা বের করতে সহায়তা করবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না সাত ধরনের ক্যানসার

কিডনির ক্যানসার : উপসর্গ- পিঠের নিচের দিকে যন্ত্রণা, সারাক্ষণ ক্লান্তি ভাব, আচমকা ওজন অস্বাভাবিক কমে যাওয়া এবং মূত্রের সঙ্গে রক্তপাত। 

প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার : প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার শনাক্ত করা বেশ কঠিন। কারণ, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও সাধারণ জন্ডিসের মতোই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রাথমিকভাবে তেমন ব্যথা হয় না, তেমন কোনো উপসর্গও প্রকাশ পায় না।

লিভার ক্যানসার : লিভারের বেশিরভাগ অংশই পাঁজরের নিচে ঢাকা থাকে। যাদের মদ্যপানের অভ্যাস রয়েছে বা লিভার সিরোসিস রয়েছে, তাদের লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি।

লাং ক্যানসার : বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লাং বা ফুসফুসের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার পড়েই ধরা পড়ে। তেমন কোনো বিশেষ উপসর্গও থাকে না। শুধু তাই নয়, চেস্ট এক্সরেতেও ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়ে না। পিইটি বা সিটি স্ক্যানে একমাত্র ধরা পড়তে পারে।

ওভারিয়ান ক্যানসার : মহিলারা যত রকমের ক্যানসারে আক্রান্ত হন তার মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ ওভারিয়ান ক্যানসার বা জরায়ুর ক্যানসার। কিন্তু মাত্র ২০ শতাংশ ওভারিয়ান ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। সাধারণত, তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ের পর ওভারিয়ান ক্যানসার ধরা পড়ে।

ব্রেন টিউমার : মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের টিউমার শনাক্ত করা যায় তখনই যখন তার উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়। যেমন, হাত কাঁপা, মাথাব্যথা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, ব্যক্তিত্বে সূক্ষ্ম পরিবর্তন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্তরা উপসর্গগুলোকে তেমন একটা গুরুত্ব দেন না । সাধারণত এমআরআই বা মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান ছাড়া ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়ে না।

সার্কোমা ক্যানসার : শরীরের বিভিন্ন টিস্যু যেমন পেশি, চর্বি, ত্বকের গভীরের কোষ, হাড় বা তরুণাস্থিতে বাসা বাঁধে সার্কোমা ক্যানসার। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যানসারের তেমন কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। সাধারণত, শিশুদের মধ্যেই এহেন ক্যানসার বেশি দেখা যায়। এই ক্যানসার সাধারণত দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ের পর বায়োপসির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।

কেমোথেরাপি কতটা কাজে লাগে

ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় কেমোথেরাপি একটি বহুল ব্যবহূত চিকিৎসা পদ্ধতি।  কেমোথেরাপি এমন এক ধরনের চিকিৎসা যার মাধ্যমে ক্যানসারের সেলগুলোকে ধ্বংস করা হয় এবং সেগুলোর বিস্তার থামানো হয়। কেমোথেরাপির সর্বোচ্চ ভালো ফলাফলের জন্য আট ধরনের ঔষধের সমন্বয়ে ঘটানো হয়। কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা উন্নত করার জন্য চিকিৎসকরা নতুন ধরনের ঔষধের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছেন। অধিকাংশ সময় কেমোথেরাপির কারণে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। কেমোথেরাপির ঔষধ রক্তের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এটি তখন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ক্যানসারের সেল যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই ধ্বংস হবে। অনেক সময় স্যালাইনের মতো কেমোথেরাপি দেয়া হয়। রেডিওথেরাপির মাধ্যমেও ক্যানসার সেল ধ্বংস করা যায়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট ছোট জায়গায় রেডিও থেরাপি দেওয়া যায়। তবে এর মাধ্যমে শরীরের সুস্থ কোষগুলো নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

লেখক : স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads