• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

কেদায় রায় প্রতিষ্ঠিত জমিদার বাড়ির ভগ্নাংশ

ছবি : সংগৃহীত

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কেদার রায়

  • প্রকাশিত ১৬ এপ্রিল ২০১৮

কেদার রায় ছিলেন বিক্রমপুরের জমিদার এবং বাংলার বিখ্যাত বারোভুঁইয়াদের অন্যতম। কথিত আছে, তিনি সম্ভবত পনেরো শতকের গোড়ার দিকে কর্ণাটক থেকে এসে বিক্রমপুরের আরা ফুলবাড়িয়ায় বসতি স্থাপনকারী জনৈক নিম রায়ের বংশধর। নিম রায় ছিলেন কায়স্থ হিন্দু। সম্ভবত তিনিই ছিলেন এ বংশের প্রথম ভুঁইয়া এবং পুরুষানুক্রমে ভুঁইয়া উপাধি ধারণের সপক্ষে তৎকালীন শাসকের মঞ্জুরিও তিনি লাভ করেছিলেন। কেদার রায় ছিলেন যাদব রায়ের পুত্র। তার রাজধানী ছিল কালীগঙ্গা নদীর তীরবর্তী শ্রীপুরে।

জানা যায়, বিপুলসংখ্যক রণতরীর অধিকারী কেদার একটি সুশিক্ষিত নৌবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন এবং কিছু ভাগ্যান্বেষী পর্তুগিজকে তার রণতরীর অধ্যক্ষ নিয়োগ করেছিলেন। তাদের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন কার্ভালো।

কেদার রায় ঈসা খান মসনদ-ই-আলার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং তার সঙ্গে মিলিতভাবে মুঘলদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। ব্রিটিশ রানী এলিজাবেথ কর্তৃক সম্রাট আকবরের দরবারে প্রেরিত দূত রালফ ফিচ উল্লেখ করেছেন, তার শ্রীপুর সফরকালে (১৫৮৬) তথাকার শাসক আকবরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হন। কুতলু লোহানীর (উড়িষ্যার লোহানী রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা) সঙ্গে কেদার রায়ের সখ্যতা ছিল। তিনি খাজা সুলায়মান লোহানীর সহযোগিতায় মুঘল দুর্গাধিপতির নিকট থেকে ১৫৯৩ সালে ভূষণা দুর্গ দখল করেন এবং ১৫৯৬ সাল পর্যন্ত এ দুর্গ স্বীয় অধিকারে রাখেন। ওই বছরই দুর্জন সিংহের নেতৃত্বে মুঘল বাহিনী ভূষণা দুর্গ আক্রমণ করে। মুঘল অবরোধকালে দুর্গের অভ্যন্তরে কামানের গোলা বিস্ফোরণে সুলায়মান লোহানী নিহত হন এবং কেদার রায় আহত হন। কেদার পালিয়ে সোনারগাঁওয়ে ঈসা খানের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করেন।

১৬০২ সালে মানসিংহ কেদার রায়ের বিরুদ্ধে এক বাহিনী প্রেরণ করে তাকে সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করেন। ১৬০৩ সালে আরাকানের মগদের বিশাল নৌবহর জলপথে ঢাকা অভিমুখে আক্রমণ পরিচালনা করে এবং ত্রিমোহনীতে মুঘল দুর্গের উপর তীব্র আক্রমণ চালায়। কিন্তু মুঘল বাহিনী তাদের তাড়া করলে সংঘর্ষে বহুসংখ্যক মগ নিহত হয়। এ সময় কেদার রায় তার নৌবাহিনী নিয়ে মগদের সঙ্গে যোগ দেন এবং শ্রীনগরে মুঘল সেনাঘাঁটি আক্রমণ করেন। বিক্রমপুরের অনতিদূরে দু’পক্ষে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে কেদার রায় আহত ও বন্দি হন। বন্দি অবস্থায় তাকে রাজা মানসিংহের নিকট নেওয়ার পর পরই তার মৃত্যু হয়।

আরা ফুলবাড়িয়ায় কেদার রায়ের পরিবারের আদি বাসস্থল এখনো চিহ্নিত করা যায়। এখানে একটি উঁচু বিস্তৃত ভিটা এখনো ‘কেদার বাড়ি’ নামে পরিচিত। আরা ফুলবাড়িয়ায় কেদার রায়ের খননকৃত একটি দিঘি এখনো বর্তমান। কেদার রায়ের অগ্রজ চাঁদ রায়ের সময়ে খনন করা অপর একটি দিঘিও টিকে আছে। চাঁদ রায়ের এক দাসীর নামে দিঘিটির নামকরণ হয় ‘কেশব মা কা দিঘি’। শ্রীপুর জমিদারদের নির্মিত সর্বাধিক সুবিদিত স্থাপত্য নিদর্শন সুউচ্চ রাজবাড়ির মঠ। একসময় পদ্মার তীরে যেখান থেকে শ্রীপুর শহর শুরু হয় তার অনতিদূরেই নির্মিত হয়েছিল মঠটি। এই সুউচ্চ মঠটি কয়েক মাইল দূর থেকেও দেখা যেত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads