• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
ads
৫৫০ বছরের পুরনো মসজিদ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ইতিহাস-ঐতিহ্য

ঐতিহ্যবাহী চেহেলগাজী মাজার শরীফ জামে মসজিদ

৫৫০ বছরের পুরনো মসজিদ

  • মো. শাহাদৎ হোসেন শাহ, দিনাজপুর
  • প্রকাশিত ১১ মে ২০১৯

প্রায় ৫৫০ বছর ধরে দিনাজপুরের চেহেলগাজী মাজার শরীফের মসজিদে নামাজ আদায় চলছে। চলতি রমজান মাসে খতমে তারাবী নামাজ আদায়ের আয়োজন করেছে মাজার শরীফ কমিটি। মসজিদটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ছোট হওয়ায় তার পাশে নির্মিত অপর ১টি মসজিদেও পবিত্র রমজান মাসে খতমে তারাবি নামাজ আদায়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছেন কমিটির লোকজন।

দিনাজপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে অবস্থিত চেহেলগাজী মাজার। মাজারের সাথেই রয়েছে প্রায় ৫৫০ বছরের পুরনো একটি মসজিদ। দেশের বহু প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে একটি চেহেলগাজী মাজার জামে মসজিদ। মসজিদটি প্রাচীন হওয়ায় ভেঙ্গে গেছে। তবে ভাঙ্গা অংশের মধ্যে নিয়মিত মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। ভাঙ্গা মসজিদটির সঙ্গে লাগিয়ে নির্মিত হয়ে অপর একটি মসজিদ। প্রায় ৫৫০ বছরের পুরাতন মসজিদটিতে যখন ধারণ ক্ষমতার বেশি লোক তখন পাশের নতুন মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায়র করেন।

চেহেলগাজী মাজারে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য একটি অলংকৃত মেহরাব আছে যদিও মেহরাবটি অরক্ষিত, সংস্কারের অভাবে অনেকাংশ ভেঙ্গে গিয়েছে এবং মেহরাবের দুই পাশে দুটি ছোট মেহরাব রয়েছে সেগুলির অবস্থাও একই। উপরের অংশ দেখে বোঝা যায়, মসজিদটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এবং মসজিদটির সামনে একটি সুসজ্জিত দরজা ভেদ করে বারান্দা। তারপর সামনের দিকে তিনটি দরজা ও উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে একটি করে দরজা রয়েছে। মসজিদের নির্মাণকাল নির্দেশক তিনটি শিলালিপি ছিল বলে জানা যায়। এর একটি দিনাজপুর জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এই শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৪৬০ খ্রিঃ (১ডিসেম্বর) মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সেই অনুযায়ী মসজিদটির বয়স প্রায় ৫৫৯ বছরের কাছাকাছি। এই মসজিদটি দিনাজপুর জেলার প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত।

চেহেলগাজী মাজার ও মসজিদের খাদেম মোঃ মোমিনুল ইসলাম জানান, তিনি বহুদিন ধরে প্রায় ৫৫০ বছরের পুরাতন মসজিদে ইমামতি করে নামাজ আদায় করে আসছেন। মসজিদটি ছোট, ঝুকিপূর্ণ ও ভেঙ্গে যাওয়ায় পাশের মসজিদেও একই সঙ্গে নামাজ আদায় করা হয়। প্রথমে পুরাতন মসজিদে লোকজন নামাজের জন্য দাড়িয়ে যান। পরে লোকজন বেশি হলে পাশের নতুন মসজিদে গিয়ে একই সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষের নামাজ পড়ার মত ধারণ ক্ষমতা আছে এই মসজিদে। পবিত্র রমজান মাসে খতমে তারাবীর বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হবে এই মসজিদে। তারাবী নামাজ আয়োজনের জন্য সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে।

মসজিদে নামাজ পড়তে আসা চেহেলগাজী গ্রামের বাসিন্দা আলম হোসেন ও রুবেল ইসলাম জানান, তারা ছোট থেকেই দেখে আসছেন এই মসজিদটিকে। তখন যেভাবে দেখেছেন এখনো তেমনই আছে। এলাকার প্রবীণ লোকদের মুখে শুনেছে, এখানে এই মসজিদটি ছিল জেলার প্রথম মসজিদ। তারাও বলতে পারেননি কে নির্মাণ করেছে এই মসজিদটি। তবে দিন দিন মসজিদটি ভেঙ্গে গিয়ে আরো ছোট হয়ে এসেছে। এই মসজিদটি আমাদের দিনাজপুরের একটি ঐতিহ্য,এটাকে রক্ষা করা আমাদের সবার দরকার। তারা এই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে আসেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads