• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
হকিতে লজ্জার হার বাংলাদেশের

ছবি : সংগৃহীত

হকি

হকিতে লজ্জার হার বাংলাদেশের

  • কবিরুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ২৫ আগস্ট ২০১৮

বিশ্ব হকির র্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান যেখানে ১২ নম্বরে, সেখানে বাংলাদেশ রয়েছে ৩১ নম্বরে। দুই দলের শক্তির ফারাকটা এখানেই স্পষ্ট। শক্তিশালী এই মালয়েশিয়ার সঙ্গে যে কুলিয়ে উঠা সম্ভব নয়, সেটা আগেই অনুমেয় ছিল। মাঠের লড়াইয়ে হলোও তাই। তবে ব্যবধান যে এত বড় হবে, সেটা ধারণায় ছিল না। কম গোলে হারের একটা লক্ষ্য ছিল কোচ গোপীনাথন কৃষ্ণমূর্তির। কিন্তু হারতে হলো ৭-০ গোলে। গতকাল এশিয়াড হকিতে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বড় হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়ে শিটুল-জিমি-চয়নরা।

জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এ ম্যাচে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি লাল-সবুজরা। পুরো ম্যাচেই একক আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়ানরা। একের পর এক আক্রমণ আর ছন্দের জাদুতে মুগ্ধ করে রেখেছিল তারা। হকিতে বাংলাদেশ যে কতটা পিছিয়ে, সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল র্যাঙ্কিংয়ে ১২ নম্বর স্থানে থাকা দলটি। এশিয়াডে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্বল কাজাখস্তানকে ৬-১ গোলে পরাস্ত করে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের ধারা অব্যাহত ছিল। ওমানকে ২-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের গ্রাফটা বেশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল টিম বাংলাদেশের। প্রত্যাশা ছিল মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ভালো কিছু করার। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত বছর একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে লাল সবুজরা ৩-০ গোলে হারলেও এবার হারতে হলো ৭-১ ব্যবধানে।

তবে, মালয়েশিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও বাংলাদেশ যে হকিতে আগের জায়গায়ই রয়েছে সেটি মানতে নারাজ কোচ গোপীনাথন কৃষ্ণমূর্তি, ‘ছেলেরা চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। স্পিড, স্কিল এবং স্টেমিনায় পিছিয়ে থাকলেও তারা ভীত ছিল না। গোল হজম করার পরও তারা আক্রমণে গিয়েছে। পুরোপুরি ডিফেন্সিভ কখনোই ছিল না। আগে তো তারা আক্রমণের চিন্তাই করতে পারত না। ১১টি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলে টিম বাংলাদেশ সেই ভীতি কাটাতে পেরেছে। আরো ইমপ্রুভমেন্ট দরকার, যা একদিনে হওয়ার কথা নয়। কমপক্ষে পাঁচ বছরের টার্গেট হাতে নিতে হবে। শুরু করতে হবে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নতুনদের দিয়ে।’

বাংলাদেশের তো আর শীর্ষে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তাই আগামী ম্যাচে থাইল্যান্ডকেই টার্গেট করেছে ফরহাদ হোসেন শিটুল বাহিনী। তাদের বিপক্ষে জয় পেলেই অন্তত পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ স্থানের জন্য লড়বে বাংলাদেশ। তাই সে লক্ষ্যটাকেই সামনে রেখে হাঁটছে বাংলাদেশ। এখন পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ স্থান পেলেই বিশাল পাওয়া হবে জিমি-চয়নদের। চারটি এশিয়ান গেমস খেলা চয়নও একটা তৃপ্তির ঢেঁকুর দিয়ে তুলে রাখতে পারবেন জাতীয় দলের জার্সি।

গতকাল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাত্র চারটি আক্রমণই করতে পেরেছে গোপীনাথনের শিষ্যরা। সারাক্ষণ ব্যস্ত ছিল নিজেদের রক্ষণভাগ সামলাতে। কয়েকবার দেখা গেল কোচকে উত্তেজিত হতে। এক পর্যায়ে হাতের কলমও ছুড়ে ফেললেন। পরে জানা গেল তার শেখানো পথে হাঁটেনি শিষ্যরা। প্রথম কোয়ার্টারে নিজেদের কিছুটা ধরে রাখতে পারলেও দ্বিতীয় কোয়ার্টারে হজম করতে হয়েছে ৩ গোল, তৃতীয় কোয়ার্টারে আরো ৩টি এবং শেষ কোয়ার্টারে ১ গোল। সাত গোলের দুটি পিসি, চারটি ফিল্ড গোল এবং একটি স্ট্রোক থেকে। আর একাধিক পিসি পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি চয়ন-মিমোরা। তাই হতাশা নিয়েই ছাড়তে হয় মাঠ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads