• শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
মার্ভেল-কন্যা ব্রি লারসন

ছবি : সংগৃহীত

হলিউড

মার্ভেল-কন্যা ব্রি লারসন

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৩ অক্টোবর ২০১৯

মার্ভেল-কন্যা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি তার।  পাশাপাশি একজন নির্মাতাও তিনি। ক্যাপ্টেন মার্ভেল সিনেমায় অভিনয় করে উঠে আসেন আলোচনায়। অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পান একাডেমি পুরস্কার, বাফটা পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার ও স্ক্রিন অ্যাক্টরের গিল্ড পুরস্কার।

মাত্র ছয় বছর বয়সে সান ফ্রান্সিস্কোর আমেরিকান কনজারভেটরি থিয়েটারে ভর্তি করা হয় লারসনকে। এখানেই চলে তার অভিনয় ও পড়াশোনা। এই থিয়েটারের বদৌলতেই ‘দ্য টুনাইট শো’তে অভিনয় করার সুযোগ পান লারসন। এরপর মার্কিন টেলিভিশনের ‘রাইজিং ড্যাড’ নামের একটি ধারাবাহিকেও কাজের সুযোগ পেয়ে যান ব্রি। এভাবেই শুরু হয় লারসনের অভিনয় জীবন।

২০০৪ সালে কিশোরী লারসন ‘গোয়িং অন থার্টি’ চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান। এতে দুর্দান্ত অভিনয়ের সুবাদে মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের চোখে পড়েন তিনি। একে একে অভিনয় করেন, স্কট পিলগ্রিম ভার্সাস দ্য ওয়ার্ল্ড, টোয়েন্টি ওয়ান জাম্প স্ট্রিট ও দ্য স্পেক্টাকুলার নাউ সিনেমায়। বড় পর্দার সাথে মার্কিন টিভি সিরিজেও অভিনয় শুরু করেন এই তারকা।

২০১৫ সালে লারসন যুক্ত হন ‘এমা ডোনোঘর’ নামের একটি চলচ্চিত্রের সঙ্গে। ছবিটি মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী যেমন সমাদৃত হয়েছে, তেমনই রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্য করেছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব সিনেমায় লারসন আবার লাইমলাইটে চলে আসেন। ছবিতে একজন অপহূত নারীর চরিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অর্জন করেন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস।

আর ২০১৭ সালে রোমাঞ্চকর সিনেমা স্কাল আইল্যান্ডে চিত্রগ্রাহক চরিত্রে অভিনয় করেও পান ইতিবাচক সাড়া। একই বছর যুক্ত হন পরিচালনার সঙ্গে। একটি হাস্যরসাত্মক সিনেমা পরিচালনার মধ্য দিয়ে সিনেদুনিয়ায় নিজেকে পরিচিত করেন অন্য আবেশে। তখন নিজের ঝুলিতে কুড়ান লাখো দর্শকের প্রশংসা। এভাবে লারসনের সাফল্যের পাল্লায় একের পর এক ভারী হতে থাকে।

এরপর আসে লারসনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সংযোজন। পর্দায় হাজির হন মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের সুপারহিরো সেজে। এটি মার্ভেল সিরিজের প্রথম কোনো নারীকেন্দ্রিক সিনেমাও। এ সিনেমাটি করার জন্য লারসনকে মার্কিন এয়ারফোর্সে ছয় মাস ট্রেনিং পর্যন্ত নিতে হয়েছিল। ক্যাপ্টেন মার্ভেল চরিত্রে লারসন অভিনয় করেছেন মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক যোদ্ধা হিসেবে। যিনি একটি দুর্ঘটনার মাধ্যমে সুপার পাওয়ারের অধিকারী হন। তার মধ্যে সৃষ্টি হয় অতিমানবীয় শক্তির। পরবর্তীতে তার ওপর দায়িত্ব বর্তায় পৃথিবী ও মহাকাশের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ সৃষ্টি করা। আবেগহীন ও অসাধারণ এক যোদ্ধার ভূমিকায় লারসন এত ভালো করবেন খোদ নির্মাতারও বিশ্বাস হয়নি। তবে সেটাই করে দেখিয়েছেন এ অভিনেত্রী।

অভিনেত্রী লারসনকে নিয়ে মার্ভেল স্টুডিওর প্রধান কেভিন ফেইগ সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ চরিত্রটির জন্য দরকার ছিল একজন সক্ষম নারী। যিনি মানবিক ও অতি মানবিক বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেন। লারসন তেমনই একজন অভিনেত্রী। যার মধ্যে এসব গুণ বিদ্যমান।’ কেভিনের কথা যে সত্য, তা চলতি বছরের মার্চ মাসেই বোঝা গেছে। ক্যাপ্টেন মার্ভেল মুক্তির বিশ্বব্যাপী এ সিনেমা নিয়ে উন্মাদনাই প্রমাণ দিয়েছে লারসনের সক্ষমতাকে।

মাত্র ২৬ বছর বয়সে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন লারসন। এই অভিনেত্রী কলেজের চৌকাঠ পেরোতে পারেননি। অবশ্য ‘পারেননি’ বলা ভুল হবে। তিনি ইচ্ছা করেই পড়াশোনা ছেড়ে মন বসিয়েছিলেন অভিনয়ে। কারণ, অভিনয়ের প্রতি তার ছিল অগাধ ভালোবাসা ও টান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads