• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads
বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে স্বামীর দু’কান কাটলেন স্ত্রী!

স্ত্রীর ভয়ে প্রায়ই বাড়ি ছেড়ে এদিক সেদিক পালিয়ে যেতেন তানভীর

ছবি : ইন্টারনেট

ভারত

বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে স্বামীর দু’কান কাটলেন স্ত্রী!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৮ জুলাই ২০১৮

মাঝেমধ্যেই অত্যাচার করতেন নিজের প্রায় দ্বিগুণ বয়সের স্ত্রীকে। কিন্তু এই স্ত্রী যে এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নারকেলডাঙা নর্থ রোডের বছর কুড়ির যুবক মোহম্মদ তানভীর। বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে তার দু’টি কানই কেটে নিয়েছে স্ত্রী মুমতাজ বিবি। মুমতাজের সঙ্গে তার বোনেরাও এ কাজে সাহায্য করেছে বলে নারকেলডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তানভীর। ঘটনার পর কোনোক্রমে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছেন তানভীর। পরে এলাকার বাসিন্দারা তাকে এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযুক্তমুমতাজ বিবি ও তার বোনেদের খুঁজছে পুলিশ।

তানভীর মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, বছর দুয়েক আগে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী প্রচণ্ড অত্যাচার করতেন। সেই ভয়ে প্রায়ই বাড়ি ছেড়ে এদিক সেদিক পালিয়ে যেতেন। কিন্তু প্রতিবারই নিজের বাপের বাড়ির লোকজন দিয়ে তাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসতেন স্ত্রী মুমতাজ। চলত মারধর। সোমবার রাতেও মল্লিকপুরে পালিয়ে গিয়েছিলেন তনভীর। কিন্তু সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন মুমতাজ ও তার বোনেরা। তানভীর আরো অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার ভোরে মুমতাজ ও তার বোনেরা প্রচণ্ড মারধর করে। তারপর সবাই মিলে তাকে চেপে ধরে বুকে বন্দুক ধরে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে দু’টি কানই কেটে নেওয়া হয়।

তানভীর বলেন, ‘স্ত্রী ও শ্যালিকারা ভেবেছিলেন, আমি মারা গিয়েছি। তাই ওইভাবে ফেলে রেখেছিল। তারপর সুযোগ পেয়ে কোনো রকমে বাইরে বেরিয়ে আসি। এলাকার লোকজন আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান।’

তানভীরের বাড়ি নারকেলডাঙা নর্থ রোডের কসাই বস্তি সেকেন্ড লেনে। কিন্তু বিয়ের পর থেকে মুমতাজের বাড়িতেই থাকতেন তানভীর। তানভীরের অভিযোগ, ‘এই অত্যাচারের কারণে আমার মা মুমতাজকে বলেছিলেন আমাকে ছেড়ে দিতে। এতে প্রাথমিকভাবে রাজি হয়ে আমাদের একটি বাড়ি বিক্রি করে টাকাও নিয়ে নেন মুমতাজ। কিন্তু আমাকে ছাড়েননি। উল্টো আমার বাড়িতে যেতে বা পরিবারের কারো সঙ্গে দেখা করতে দিতেন না।’

কিন্তু তার থেকে প্রায় বছর কুড়ির বড় মুমতাজকে কেন বিয়ে করলেন তানভীর। এক্ষেত্রে তার যুক্তি, দাদার এক বন্ধু তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছিলেন। তাই বাধ্য হয়ে মুমতাজকে বিয়ে করতে হয়েছিল। এদিকে নারকেলডাঙা থানার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন তানভীরের পরিবারের লোকজন। তাদের দাবি, থানায় অভিযোগ জানালেও এফআইআর-এর কপি দেয়নি পুলিশ। কাউকে গ্রেফতারের চেষ্টাও করা হচ্ছে না। এই সব অভিযোগ নিয়ে রাতে ফের নারকেলডাঙা থানায় যান তানভীরের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads