• বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
মোদিবিরোধী জোট গড়তে মমতার ব্রিগেড সমাবেশ

মমতার বিজেপি বিরোধী দলগুলির ব্রিগেড সমাবেশের ঠিক আগে কংগ্রেসকে স্পষ্ট জোট বার্তা

ছবি : ইন্টারনেট

ভারত

মোদিবিরোধী জোট গড়তে মমতার ব্রিগেড সমাবেশ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৯ জানুয়ারি ২০১৯

বিজেপিবিরোধী ফেডারেল ফ্রন্ট গঠনের জন্য আজ শনিবার কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ঐতিহাসিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ব্রিগেড সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসে মমতা জানান, ভারতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১২৫টির বেশি আসন পাবে না। তিনি বলেন, কংগ্রেস কত আসন পাবে তা আমি বলতে পারব না। তবে এই সভায় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া, তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন জাতীয় স্তরের নেতা থাকবেন। তারা তাদের নিজেদের মতামত ব্যক্ত করবেন। মমতা বলেন, ‘আমি শুধু শুনব। কারো ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না। গতকাল শুক্রবার থেকেই কুমারস্বামী, অখিলেশ যাদব, শারদ পাওয়ার, শারদ যাদব, মায়াবতীর ডান হাত বলে পরিচিত সতীশ মিশ্র, ওমর আবদুল্লাহ ফারুক, বাবুলাল মারান্ডিরা আসবেন। আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি।’ ব্রিগেডের এই সমাবেশ ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করার এক ঐতিহাসিক সমাবেশ। এর আগে এত বড় সমাবেশ হয়নি।

এই ব্রিগেডের সমাবেশ থেকেই বিজেপির কফিনে শেষ পেরেক মারা হবে। মমতা জানান, ১৯ তারিখ ব্রিগেড সভা শেষে নেতাদের জন্য চা-চক্রের আয়োজন করা হবে। যারা আসবেন, তারা যদি মিডিয়াকে কিছু বলতে চান তার ব্যবস্থাও করা হবে। মমতা দাবি করেন, বিজেপির বিরুদ্ধে জনতার মহাজোট তৈরি হচ্ছে। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, আগামী নির্বাচনে ভারতের আঞ্চলিক দলগুলো নির্ণায়ক শক্তি হবে। ১৯৯৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বামদের বিদায়ের জন্য মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়েছিলাম, এবার বিজেপির পালা।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মমতার তৃণমূল পেয়েছিল ৪২টি আসনের মধ্যে ৩৪টি আসন। এবার রাজ্যের সবগুলো আসন দখলের লক্ষ্য নিয়েছে তৃণমূল।

এদিকে মমতার ডাকে কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশের আগে বিজেপির বিদ্রোহী সাংসদ তথা তারকা শত্রুঘ্ন সিনহা বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে জানিয়েছেন, আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম যখন দুই সাংসদের দল ছিল বিজেপি। তারপর তা শক্তিশালী করার চেষ্টা করে গিয়েছি। কিন্তু এখন আর সেই বিজেপি নেই।

তিনি বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসসহ আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট তৈরি করছেন। ইতোমধ্যেই মমতার ফর্মুলা বহু জায়গায় কাজে লেগেছে। হিন্দি বলয়ের বহু জায়গায় হেরে গেছে বিজেপি। আমি সেই ফ্রন্টকে শক্তিশালী করতে চাই। তিনি মমতাকে জাতীয় পর্যায়ের নেত্রী বলেও অভিহিত করেন। পাশাপাশি মমতার আজকের ব্রিগেড সমাবেশকে সমর্থন করে শুক্রবার মমতাকে চিঠি লিখেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। ওই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতাদি বলে সম্বোধন করে রাহুল লেখেন, কলকাতার ব্রিগেডের সমাবেশ ঐক্যবদ্ধ ভারত সমাবেশ হবে।

রাহুল আরো লেখেন, ‘মমতাদি, আপনি যেভাবে ভারতকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করতে চলেছেন তাকে আমি পূর্ণ সমর্থন জানাই। আমার বিশ্বাস, সমস্ত বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয়তাবাদ এবং উন্নয়ন দিয়ে গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধর্মনিরপেক্ষতার স্তম্ভকে রক্ষা করবে, যা বিজেপি ও কেন্দ্রের মোদি সরকার ধ্বংস করে দিচ্ছে। লাখ লাখ ভারতীয় নাগরিককে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে। এই শক্তি আগামীর নতুন আশা নিয়ে আসবে। বাংলার মানুষকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি ওই ঐতিহাসিক সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য।’

প্রসঙ্গত ব্রিগেডের সভা ঘিরে গত শুক্রবার থেকেই কলকাতায় জারি হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ব্রিগেডের সভা উপলক্ষে কলকাতায় আসতে শুরু করেছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads