• শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫
ads
অন্ধ্রপ্রদেশে সহিংসতায় নিহত দুই

অন্ধ্রপ্রদেশে সহিংসতায় নিহত দুই

ছবি : ইন্টারনেট

ভারত

ভারতে লোকসভা নির্বাচন

অন্ধ্রপ্রদেশে সহিংসতায় নিহত দুই

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১২ এপ্রিল ২০১৯

বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় সকাল থেকে ১৮টি রাজ্য ও দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৯১ লোকসভা আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এদিকে ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। রাজ্যের অনন্তপুর জেলার তাদিপত্রি আসনের বীরাপুরাম গ্রামে দুটি রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা।

অন্ধ্রপ্রদেশের দুটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল তেলেগু দেশম পার্টি ও ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে বীরাপুরাম গ্রামে অন্তত দুজন নিহত ও আরো কয়েকজন আহত হন। সত্তেনপল্লী আসনের ইনুমেতলা গ্রামের কাছে কংগ্রেস পার্টির সমর্থকদের হামলায় বিধানসভার স্পিকার ডা. কোদেলা শব প্রসাদ রাও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তেলেগু দেশম পার্টির স্থানীয় নেতা সিদ্দা ভাস্কর রেড্ডি ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সমর্থকদের হামলায় মিরাগুরোমে নিহত হন।

রাজ্যের ইয়াল্লামান্ডা গ্রামের কাছে তেলেগু দেশম পার্টির কর্মীরা বিধানসভার সদস্য ও ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী নারাসারাওপেত গোপিরেড্ডি শ্রীনিবাস রেড্ডির গাড়িতে হামলা চালায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামে খাবার, অর্থ বিতরণ, সংঘর্ষ, বিরোধীদের বিক্ষোভ ও ইভিএম বিকল হওয়ার কারণে তা আছড়ে ভেঙে ফেলাসহ নানামুখী অভিযোগ উঠেছে।

ত্রিপুরায় বিজেপি ও কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের হামলায় বিজেপির চার সমর্থক আহত হয়েছেন। অন্ধ্রপ্রদেশে তেলেগু দেশম পার্টির এক প্রার্থী বিরোধীদের হামলায় গুরুতর আহত হন। এই প্রদেশে ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভেঙে ফেলার অভিযোগে জনসেনা পার্টির একটি প্রার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩ আসনে মোট সাত ধাপে ভোট হবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই ভোট শেষ হবে আগামী ১৯ মে। ৯০ কোটি ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে ২৩ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবে দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সরকার গঠন করতে হলে যেকোনো দলকে ২৭২টি আসন পেতে হবে।

লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য ও সিকিমে বিধানসভার ভোটগ্রহণ হবে। এ ছাড়া ওড়িশা রাজ্যের কিছু আসনেও বিধানসভার ভোট হয় বৃহস্পতিবার। প্রথম দফা ভোট গ্রহণে হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে যাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে তারা হলেন- পাঁচ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, (নাগপুর) কিরেন রিজিজু (অরুনাচল পশ্চিম), জেনারেল ভি কে সিং (গাজিয়াবাদ), সত্যপাল সিং (ভাগপত) এবং মহেশ শর্মা (গৌতমবুদ্ধ নগর)। রাষ্ট্রীয় লোকদল প্রধান অজিত সিং এবং তার ছেলে জয়ন্ত চৌধুরীও ছিলেন জনরায়ের মুখে। সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশের ৮০ আসনের মধ্যে আট আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এখানে বিজেপির সঙ্গে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির (বিএসপি) তীব্র লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করেন ১৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে আছে- বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, বাম দল ফরোয়ার্ড ব্লক, আরএসপিসহ কয়েকটি ছোট দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই দুটি আসন মূলত বাম দল ফরোয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপির দখলে ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর আসন দুটি চলে যায় তৃণমূলের হাতে। আলিপুরদুয়ার আসনে উল্লেখযোগ্য প্রার্থী হচ্ছেন- তৃণমূলের দশরথ তিরকে, বিজেপির জন বারলা, আরএসপির মিলি ওরাঁও এবং কংগ্রেসের মোহনলাল বসুমাতা। কোচবিহার আসনের উল্লেখযোগ্য প্রার্থী হলেন তৃণমূলের পরেশ চন্দ্র অধিকারী, বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক, ফরোয়ার্ড ব্লকের গোবিন্দ রায়, কংগ্রেসের পিয়া রায় চৌধুরী।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads