• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
দিল্লির মসনদ কার ?

ছবি : সংগৃহীত

ভারত

লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ

দিল্লির মসনদ কার ?

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২০ মে ২০১৯

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ভারতীয় সংসদের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। এদিন দেশটির ৫৯ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সাত দফার দীর্ঘতম এই ভোটপর্ব। শেষ দফায় ভোট গ্রহণ করা হয় মধ্যপ্রদেশ ও বিহারের ৮টি করে কেন্দ্রে, পাঞ্জাবের ১৩, ঝাড়খণ্ডের ৩, উত্তর প্রদেশের ১৩, হিমাচল প্রদেশের ৪, চণ্ডীগড় ও পশ্চিমবঙ্গের অবশিষ্ট ৯ কেন্দ্রে। ভোট গণনা করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে আগামী ২৩ মে বৃহস্পতিবার।

গতকাল ভোট গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় চ্যানেলে চ্যানেলে বুথ-ফেরত সমীক্ষার ফল। দীর্ঘতম ভোটপর্বের শেষ পর্বের মূল আকর্ষণ এটাই। সবার মধ্যেই যাবতীয় উত্তেজনা ও জল্পনা ছিল ওই বুথ-ফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’ ঘিরেই। গণনার দিন পর্যন্ত বিভিন্ন সমীক্ষার এই ফলই হবে আলোচনার বিষয়।

এদিকে লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম দফায়ও কিছু বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর প্রকাশ করেছে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। গতকাল ভোট শুরুর দিকে যাদবপুর ও বসিরহাটের বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহার ওপর আক্রমণের অভিযোগ তোলে দলটি। এ সময় তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এছাড়া ভোট কেন্দ্রে বিক্ষোভের মুখে পড়েন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের জোড়াসাঁকোর বিধানসভার একটি বুথে ভোট দিতে যান বাবুল। তখন তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘তার নিরাপত্তার কারণে অনেকেই ভোট দিতে পারছিলেন না। এ কারণে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়।’

প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন বাবুল।

অন্যদিকে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অনুপম হাজরা অভিযোগ করেন, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরাও তাকেও বুথে যেতে বাধা দিয়েছেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ওই এলাকার এক বিজেপি নেতার গাড়ি ভাঙচুর করেছে তৃণমূল। বসিরহাটে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি বলে দাবি করেন এ বিজেপি নেতা।

এ ছাড়া তৃণমূলের দুই মহিলা প্রার্থী বারাসতের কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের মালা রায় সিআরপিএফ সেনাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায় ইসলামপুর এবং ভাটপাড়ার উপনির্বাচনেও।

৫৪৩ কেন্দ্রেই শাসক দল ভোট চেয়েছে মোদির নামে। এবার ভোট শুরু হয়েছিল মোদি সরকারের পাঁচ বছরের ‘সাফল্য’ ঘিরে। কিন্তু প্রচার যত এগিয়েছে, ততই বড় হয়ে উঠেছে পুলওয়ামা-বালাকোট-পাকিস্তান। সবকিছু ছাপিয়ে এবারের ভোটে বড় করে তোলা হয়েছে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন। তাই ভোট ঘিরে কোনো মহলই এবার ভবিষ্যদ্বাণী করতে সাহস পাচ্ছে না।

এর আগে ভোটপর্ব শেষ হওয়ার আগেই ঈশ্বরের শরণাপন্ন হন মোদি ও শাহ। শনিবার মোদি চলে যান উত্তরাখণ্ড, শাহ গুজরাট। উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে সকালে পূজা দেন মোদি। এদিন গেরুয়া বসন পরে ধ্যানেও বসেন তিনি। হিমালয়ের পাদদেশে কেদারনাথ ভগবান শিবের পীঠস্থান। সেখানে প্রার্থনা সেরে তিনি যান বদ্রিধাম। এ ছাড়া অমিত শাহ শনিবার পূজা দেন ও প্রার্থনা সারেন গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে। ভোটের আচরণবিধি চালু থাকায় দুই নেতাই তীর্থে যাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নেন। তবে লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে মোদির যাত্রা এবং ধ্যানে বসার ছবিসহ যাবতীয় খবর সর্বভারতীয় ও স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে অব্যাহতভাবে দেখানোয় নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানায় দলটি।

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পাঠানো ওই চিঠিতে রাজ্যসভায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইসিকে আহ্বান জানানো হয়, যেন তারা প্রধানমন্ত্রী মোদির নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন ওই চিঠিতে লেখেন, শনিবার ১৭ মে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ দফার ভোটের প্রচার শেষ হলেও, গত দুদিন ধরে সর্বভারতীয় ও স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রধানমন্ত্রী মোদির কেদারনাথ যাত্রার খবর ঢালাওভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এটা বন্ধ করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন।

চিঠিতে আরো অভিযোগ তোলা হয়, কেদারনাথ মন্দিরের উন্নয়নের ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কেদারনাথে গিয়ে জনসভা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। এভাবে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তৃণমূলের দাবি, মোদি সেখানে গেলে তার পেছনে ‘মোদি মোদি’ জয়ধ্বনিও শোনা গেছে। এমনটা কখনোই করা যায় না। আর এটা নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী পুরোপুরি অনৈতিক। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

এ ছাড়া গতকাল ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরাকে একটি চিঠি পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘রোববার শেষ পর্বের ভোটগ্রহণ। আমি কমিশনকে অনুরোধ করব যাতে ভালোভাবে ভোট হয় সেটা আপনারা দেখুন। কেন্দ্রের শাসকদলের প্রভাব ছাড়া নিরপেক্ষভাবে যাতে ভোটপর্ব সম্পন্ন করা যায় তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনাদের।’

এদিকে ভোটের ফল প্রকাশের আগেই জোট গঠনে তৎপর হয়ে উঠেছে বিরোধীরা। এরই মধ্যে ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী বিরোধী নেতাদের চিঠি দিয়ে ২৩ মে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এছাড়া সক্রিয় হয়ে উঠেছেন অন্ধ্র প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেগু দেশম নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি আম আদমি পাটির নেতা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার, জনতা দল নেতা শরদ যাদব ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন। বিরোধীদের এক জোট করতে পুরোপুরি সচেষ্ট এই নেতা। আরেক বিরোধী দল ওড়িশার বিজু জনতা দলের নেতা নবীন পট্টনায়ক বিজেপিকে ‘সাম্প্রদায়িক’ দল অভিহিত করে বলেছেন, ওড়িশার স্বার্থরক্ষায় যে দল কাজ করবে, তিনি তাদের সমর্থন দেবেন। ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে বাম মহল থেকেও। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষ জোটকে তারা সমর্থন করবেন। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে কথা বলতে চন্দ্রবাবু গত শনিবার লক্ষেৗতে যান। সেখানে অখিলেশ যাদব ও মায়াবতীর সঙ্গে তার আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads