• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
কাশ্মীরের বাস্তবতা ব্রিটিশ শাসনের অনুরূপ: অমর্ত্য সেন

নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন

ফাইল ছবি

ভারত

কাশ্মীরের বাস্তবতা ব্রিটিশ শাসনের অনুরূপ: অমর্ত্য সেন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২১ আগস্ট ২০১৯

নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও ব্যাপকসংখ্যক সামরিক উপস্থিতির কারণ হিসেবে মোদি সরকার প্রাণহানি ঠেকানোর কথা বললেও এটা ঔপনিবেশিক যুগের অজুহাত ছাড়া আর কিছুই নয়। ব্রিটিশরাও শাসন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে একই ধরনের অজুহাত ব্যবহার করত। গত সোমবার এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাধীনতা লাভের পর আমার চূড়ান্ত প্রত্যাশা ছিল, আমরা কখনো প্রতিরোধমূলক আটকের ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যে ফিরে যাব না। কিন্তু তা আজও বিদ্যমান। ব্রিটিশরা এভাবেই ২০০ বছর ধরে দেশ শাসন করেছিল। সরকারি সিদ্ধান্তের বিভিন্ন ফাঁকফোকরগুলোকে সামনে এনে ৮৫ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বিশ্বের গণতান্ত্রিক মানদণ্ড অর্জনের জন্য ভারত এত কিছু করেছে। ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিল। তারপরও আমি এখন আর ভারতীয় হিসেবে এসব নিয়ে  গর্বিত নই। কেননা কাশ্মীর বিষয়ে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি।

এত দিন কাশ্মীর রাজ্যটির নিজস্ব সংবিধান, পতাকা, দণ্ডবিধি ছিল। অন্য রাজ্যের কেউ এসে সেখানে জমি কিনতে পারত না। তবে ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ায় অন্য রাজ্যের মানুষদের কাশ্মীরে এসে জমি কেনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে অমর্ত্য সেন বলেন, রাজ্যের (জম্মু ও কাশ্মীর) জনগণকে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত। এটি এমন একটি বিষয় যে ক্ষেত্রে কাশ্মীরিদের আইনসংগত দৃষ্টিকোণ রয়েছে, কারণ এটি তাদের জমি।

জম্মু ও কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার কথায় সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, জননেতাদের কণ্ঠস্বর না শুনে আপনারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেন বলে আমি মনে করি না। যারা একসময় দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ও সরকার গঠন করেছিলেন তারাসহ হাজার হাজার নেতাকে আপনারা যদি দমন করে রাখেন এবং কারাগারে আটকে রাখেন...তাহলে আপনারা গণতন্ত্রের সেই মাধ্যমকে দমন করছেন, যা গণতন্ত্রকে সচল রাখে। এদিকে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যেই পাকিস্তান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি উভয় পক্ষকেই সংযত হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের পর গত সোমবার টুইটারে ট্রাম্প কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থাকে একটি কঠিন পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, আমার দুই ভালো বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কাশ্মীরে উত্তেজনা হ্রাসে কাজ করার বিষয়ে দেশ দুটির সঙ্গে কথা হয়েছে। একটি কঠিন পরিস্থিতি, কিন্তু ভালো আলোচনা হয়েছে!

ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির ফোনালাপের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীরে ভারতের সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন দুই নেতা। ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলের কিছু নেতার কার্যকলাপ ও বক্তব্য ভারতবিরোধী। যা শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক নয়।

জম্মু ও কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে ফোনালাপে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নমনীয় ভাষা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইমরানের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ট্রাম্প।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads