• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

শিল্প

দুই বছরে উৎপাদন শুরু হবে ওষুধশিল্প পার্কে

  • মঈনউদ্দিন সুমন
  • প্রকাশিত ১৫ মার্চ ২০১৮

আগামী দুই বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে ওষুধশিল্পের কাঁচামাল তৈরির শিল্প পার্কে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের সরকারি অংশের ৮৫ শতাংশ অবকাঠামো নির্মাণ সমাপ্ত হয়েছে। কিন্তু শিল্প পার্কের বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) নির্মাণ এখনো শুরু হয়নি। আগামী দুই বছরের মধ্যে ইটিপি নির্মাণ সম্পন্ন করে কাঁচামাল উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওষুধশিল্প পার্কের প্রকল্প পরিচালক আবদুল বাছেত বাংলাদেশের খবরকে বলেন, প্রকল্পের সরকারি কাজের ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি অংশের গ্যাস সংযোগ ও প্রকল্প এলাকা থেকে নদী পর্যন্ত ড্রেনসহ রাস্তার কাজ বাকি আছে। অচিরেই এসব কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি আরো জানান, শিল্প পার্কে যারা প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন, তারা ইটিপি নির্মাণ করবেন। এখনো এটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। তবে আশা করছি শিগগিরই নির্মাণের কাজ শুরু হবে এবং ২০২০ সালের মধ্যে শিল্প পার্কটিতে উৎপাদন শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওষুধশিল্পের কাঁচামাল তৈরিতে ঢাকা থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরত্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে উপজেলার বাউশিয়া মৌজায় ২০০ একর জমিতে শিল্প পার্কটি গড়ে তোলা হচ্ছে। অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্প পার্ক নামে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০০৮ সালে একনেকের অনুমোদন পায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। ২০১০ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা করতে ব্যর্থ হয় বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানটি। পরে দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে সবশেষ ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১৩ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ পিছিয়ে থাকায় ও নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩১ কোটি টাকায়। এর মধ্যে সরকার ২৫১ কোটি টাকা ও সিইটিপি ও ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণে ৮০ কোটি টাকা ওষুধশিল্প মালিকদের দেওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এখনো ইটিপি নির্মাণের কাজই শুরু হয়নি। এটিকে এই প্রকল্পের অন্যতম দুর্বল জায়গা বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মোহাম্মদ ইফতিখার জানান, ২৭টি ওষুধ কোম্পানিকে শিল্প পার্কে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সিইটিপিট নির্মাণ, গ্যাস সংযোগের মতো কাজগুলো অচিরেই হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে আগামী দুই বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানান, ওষুধশিল্পে ব্যবহূত কাঁচামাল আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বর্তমানে ওষুধের কাঁচামালের ৯০ শতাংশ ভারত, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ। ওষুধ খাতে ১৫০-২০০ ধরনের কাঁচামাল আমদানি করা হয়। শিল্প পার্কে উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে। এর ফলে দেশে উৎপাদিত ওষুধের দাম কমে আসবে।  

বর্তমানে দেশের ওষুধশিল্প খাতে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন হচ্ছে। এই উৎপাদনে অভ্যন্তরীণ চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগ মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। এপিআই শিল্প পার্ক স্থাপন করা হলে ওষুধশিল্পের কাঁচামালের দেশীয় চাহিদার শতকরা ৭০ ভাগ জোগান দেওয়া সম্ভব হবে।

শিল্প পার্কে প্লট বরাদ্দপ্রাপ্ত একমি ল্যাবরেটরিজের মিজানুর রহমান সিনহা জানান, মেডিকেল যন্ত্রাংশগুলো খুবই ব্যয়বহুল। এসব আমদানি করে স্থাপন করতে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ ছাড়া ইটিপি স্থাপনের জন্য ব্যয়ভার কোম্পানিগুলো নিয়েছেন। আমরা এটি নির্মাণ শুরু করব।

মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদফতরের সিনিয়র কেমিস্ট আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে তাদের অবস্থানগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করে তাদের সঙ্গে কথাও হয়েছে। আমরা সরেজমিন এই প্রজেক্টটি পরিদর্শন করে যাচাই-বাছাই করছি। 

এদিকে, বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিক যে ২৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ৪১টি প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। কেউ কেউ তিনটি করে প্লট পেয়েছে। কেউ পেয়েছে দুটি করে। বাকিরা একটি করে প্লট পেয়েছে। তিনটি প্লট পেয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও অপসোনিন ফার্মা। স্কয়ার ফার্মা পেয়েছে প্রায় ১০ একর জমি। আর অপসোনিন পেয়েছে সাত একর জমি। দুটি করে প্লট পেয়েছে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস, দি একমি ল্যাবরেটরিজ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্লোব ড্রাগস, এরিস্টোফার্মা, হেলথকেয়ার কেমিক্যালস ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ইবনে সিনা, ডেলটা ফার্মা, ফার্মাটেকসহ অন্যরা পেয়েছে একটি করে প্লট।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads