• সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
সম্ভাবনার পথে দিনাজপুর বিসিক

সম্ভাবনার পথে দিনাজপুর বিসিক

ছবি : বাংলাদেশের খবর

শিল্প

সম্ভাবনার পথে দিনাজপুর বিসিক

  • মো. শাহাদৎ হোসেন শাহ, দিনাজপুর
  • প্রকাশিত ২৪ জানুয়ারি ২০১৯

হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও পণ্য উৎপাদন বাড়াতে ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে দিনাজপুরে কৃষিজাত পণ্যভিত্তিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এতে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কৃষিপ্রধান দিনাজপুরে এই অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলের কৃষকসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। যদিও দিনাজপুরের পুলহাট বিসিকের চালু কারখানাগুলোতে বিনিয়োগ, উৎপাদনসহ কর্মসংস্থানও বেড়েছে। এতে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা দিনাজপুর বিসিক শিল্পনগরী এখন সম্ভাবনার পথে হাঁটছে।

এই শিল্পনগরীতে রাইস মিল, ডাল মিল, ফ্লাওয়ার মিল, সেমাই ও সুজি মিল, আয়ুর্বেদিক ও কেমিক্যাল কারখানাসহ ৫৪টি চালু শিল্প ইউনিটগুলোতে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করেছে ২২ কোটি ২০ লাখ টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদিত হয়েছে। এ থেকে ওই অর্থবছরে সরকার বিভিন্ন খাতে রাজস্ব পেয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বিসিক দিনাজপুরের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. গোলাম রব্বানী জানান, দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় ৫০ একরের জায়গা বিসিক এক্সটেনশন করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখন সেটা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কাহারোল উপজেলার গড়নুরপুর মৌজায় চিনিকলের কান্তা ইক্ষু ফার্মের ১৯.৬১ একর এবং ব্যক্তি মালিকানার ৩০.৩৭ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই শিল্পনগরী গড়ে তোলার জন্য বিদ্যুৎ, যাতায়াত ও পানির সুবিধা রয়েছে। জায়গা অধিগ্রহণের পর সম্ভাব্য ১৮৬টি প্লট হবে। এটি একটি কৃষিজাত পণ্যভিত্তিক শিল্পনগরী হবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এতে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এটি বেকারত্ব দূরের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও বিশেষ অবদান রাখবে। তিনি আরো জানান, দিনাজপুরে বিসিক শিল্পনগরীর পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে শিল্প সহায়ক কেন্দ্র। এখানে শিল্পের রেজিস্ট্রেশন প্রদান, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি, পণ্য আমদানির শুল্ক হ্রাসে সুপারিশ করা, মৌ খামারিদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদান, বেকার যুবকদের কারিগরি ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান, নতুন শিল্প উদ্যোক্তা চিহ্নিতকরণ এবং তাদের কারিগরি সেবা প্রদান করে থাকে। শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন বাহারি পণ্যের নকশা বিতরণ, উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রজেক্ট প্রোফাইল বিতরণ করা হয়। এরপরও শিল্পনগরী এলাকার রাস্তা-ড্রেনসহ বিভিন্ন উন্নয়নেও কাজ করে থাকে বিসিক।

প্রকৌশলী মো. গোলাম রব্বানী আরো জানান, দিনাজপুরের পুলহাট বিসিকের বরাদ্দ দেওয়া ১৮৯টি প্লটে ৫৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে খাদ্য ও খাদ্যজাত রাইস মিল ৪১টি, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প ৫টি, কেমিক্যাল শিল্প ৪টি, বনজ শিল্প ১টি, টেক্সটাইল ২টি এবং আয়ুর্বেদিক খাতে ১টি শিল্প প্লটে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৪৫৫ মানুষ কর্মে নিয়োজিত রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads