• রবিবার, ৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
পোশাকশিল্পে তিনশ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল

সংগৃহীত ছবি

শিল্প

পোশাকশিল্পে তিনশ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৪ এপ্রিল ২০২০

দিন যত যাচ্ছে ততই বাতিল হচ্ছে পোশাকশিল্পের ক্রয়াদেশ। এবার বাতিলের পরিমাণ তিনশ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেল। এ দফায় ১ হাজার ৯৭টি কারখানায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে বলে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তনিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার তিনি গণমাধ্যমকে আরও জানান, আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশের তৈরি পোশাক খাতের ৯৪ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজারটি পোশাক পণ্যের রপ্তানি আদেশ বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এর আর্থিক মূল ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ৩০১ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৫ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা (১ ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকা ধরে)। এসব আদেশ বাতিল হওয়া ওই সব কারখানায় ২১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন বলে জানান বিজিএমইএর সভাপতি।

বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ‘প্রতিমুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের ক্রেতারা ক্রয়াদেশ স্থগিত করছে। তবে আমাদের জন্য এটি স্থগিত নয় বাতিল। এভাবে চলতে থাকলে সামনে এ খাত ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে।’ তাই কঠিন এ সংকটময় মুহূর্তে বায়ারদের ক্রয়াদেশ স্থগিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন পোশাক মালিকরা।

এদিকে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের আট মাস (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) সময়ে পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২ হাজার ১৮৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। একই সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও কমেছে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এদিকে পোশাক ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমেরিকা, ইউরোপ ও কানাডা লকডাউন হয়ে আছে। ফলে প্রত্যেক দেশের ক্রয়াদেশগুলো স্থগিত করে বার্তা পাঠাচ্ছে সেসব দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে বড় সংকটের মুখে পোশাক খাত। ঝুঁকিতে পড়বে পুরো রপ্তানি বাণিজ্য।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের কারণে পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত ও বাতিল হওয়ার তথ্য সর্বপ্রথম ১৭ মার্চ প্রকাশ করে বিজিএমইএ। সেদিন সংগঠনটি জানায় ২০টি কারখানার ১ কোটি ৭২ লাখ ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। স্থগিত হয়েছে ১৩ লাখ ৩৮ হাজার ডলারের ক্রয়াদেশ।

তারপর থেকে প্রতিদিনই ক্রয়াদেশ স্থগিত ও বাতিলের তালিকাটি দীর্ঘ হয়েছে। ক্রয়াদেশ স্থগিত ও বাতিল হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক ৪১ ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে ই-মেইল করেন। তিনি ক্রেতাদের অনুরোধ করেন, ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত না করতে। এরপর কয়েকটি ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads