• শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮
টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার চায় বিসিএমইএ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

শিল্প

টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার চায় বিসিএমইএ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০১ মার্চ ২০২১

দেশীয় টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারসহ আগামী ৫ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দাবি করেছে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপােটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ)। এছাড়া টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যে আমদানিতে আন্ডার ইনভয়েসিংজনিত শুল্ক ফাঁকি রোধে ন্যূনতম ট্যারিফ মূল্য হালনাগাদেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ২০২১- ২০২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপনা করেন সংগঠনের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।

আলোচনা সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু মো. রহমাতুল মুনিম।

বাজেট প্রস্তাবনায় তিনি বলেন, দেশীয় সিরামিক শিল্পখাতের সুরক্ষায় কাঁচামাল আমদানিতে ময়েশ্চার সমন্বয়ে কাঁচামাল ও উপকরণের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক কমানো, বিদেশ থেকে তৈরি সিরামিক পণ্য আমদানিতে আন্ডার-ইনভয়েসিং জনিত কারণে শুল্ক ফাঁকি রোধে ন্যূনতম ট্যারিফ মূল্য হালনাগাদ করা জরুরি। দেশীয় টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত সম্পূরক শুল্ক যথাক্রমে ১৫ ও ১০ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং মূসক ও আয়কর আইনের কতিপয় বিধান সংশাধনের প্রস্তাব করেন তিনি

সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, কাঁচামাল ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানি বাজারে অসম বাণিজ্য প্রতিযোগিতা থেকে দেশীয় সিরামিক শিল্পকে রক্ষা ও এর প্রসারের সহায়তায় এবং দেশে সিরামিক শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে অংশীদার হতে প্রস্তাব বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে দেশি বিদেশি প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ ৬৮টি সিরামিক শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশীয় উৎপাদক পণ্য রপ্তানি করে দেশের জন্য যেমন মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম, তেমনি ক্রমান্বয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি হ্রাস পাওয়ায় কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে। এ অবস্থায় কাঁচামাল ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ দেশগুলার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানি বাজারে অসম বাণিজ্য প্রতিযোগিতা থেকে দেশীয় সিরামিক শিল্পকে প্রসারের সহায়তায় প্রস্তাব বিবেচনার জন্য অনুরোধৱ জানান তিনি।

আলোচনা সভায় সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল আরো বলেন, সম্ভাবনাময় উদীয়মান এ শিল্পের উৎপাদনকারী কারখানাগুলোকে কর অবকাশ সুবিধার অন্তর্ভুক্তির যোগ্য। আগামী ৫ বছর কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করছি। এতে করে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, যার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ কর্মসংস্থান বাড়বে বলে মনে করি।

তিনি বলেন, সিরামিক টাইলস এখন বিলাসী পণ্য হিসাবে বিবেচিত নয়। ভবন নির্মাণের অন্যতম উপকরণ হিসাবে ব্যবহার্য এই পণ্যের ব্যবহার স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হওয়ায় পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসাবে সাধারণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা যায় দেশীয় টাইলসের মূল্য কমবে, ব্যবহারের মাত্রাও বাড়বে।

আলোচনায় সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, আমরা দেশীয় শিল্পের বিকাশের জন্য সব ধরনের সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি। যেখানেই আমরা দেখতে পাই যে দেশীয় কোনো শিল্পকে সাপোর্ট দিলে সেটা ভালো করবে, সেখানেই আমরা সাপোর্ট করে থাকি। আমাদের দেশে ১৯৯২ সালে সিরামিক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এনবিআরের সাপোর্টের কারণে সিরামিক শিল্প আজকের এই অবস্থানে এসেছে। দেশীয় চাহিদা পূরণ করে তারা এখন রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে। কোনো শিল্প যদি এগিয়ে যায় সেক্ষেত্রে এনবিআর দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় সহায়তার হাত বাড়াবে সব সময়। 

তিনি আরো বলেন, সমস্যা হচ্ছে আমাদের একটু সতর্ক থাকতে হয়। অনেক সময় দেখা সজ্ঞানে আপনাদের সাপোর্ট করতে গিয়ে আপনাদেরই ক্ষতি হয়ে যায়। সে কারণে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেব। স্থানীয় শিল্প কারখানার জন্য আমাদের সাপোর্ট অব্যাহত থাকবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, এখন আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ আসছে। গার্মেন্টস ও প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজে অভিযোগ অনেক বেশি। এসব অভিযোগ সামলাতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। মোট কথা দেশীয় শিল্প সংরক্ষণের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। রাজস্ব আহরণে রাজস্ব বিভাগ থেকে কী পলিসি নেওয়া যেতে পারে, আমরা সেটা করে থাকি। কারণ রাজস্ব ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সভায় এনবিআরের আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট শাখার সদস্যসহ এনবিআর ও সিরামিক শিল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads