• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

মহাকাশে স্যাটেলাইট

ছবি: ইন্টারনেট

তথ্যপ্রযুক্তি

মহাকাশে যত ধরনের স্যাটেলাইট

  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১২ মে ২০১৮

বর্তমানে মহাকাশে প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি স্যাটেলাইট আছে। উৎক্ষেপিত এই স্যাটেলাইটগুলোর সবই যে এক কাজ করে তা নয়। বৈশিষ্ট্য অনুসারে এক-এক স্যাটেলাইটের একেক ধরনের কাজ। তবে সর্বাধিক আলোচিত স্যাটেলাইটের মধ্যে আছে জিওস্টেশনারি অরবিট। পৃথিবী থেকে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। মূলত এই স্যাটেলাইটটি সম্প্রচারের কাজে ব্যবহূত হলেও আবহাওয়া-সংক্রান্ত সংবাদও এর মাধ্যমে পাওয়া যায়। কাজের বৈচিত্র্যভেদে বিজ্ঞানীরা ৯ ধরনের স্যাটেলাইটের কথা বলেন।

অ্যাস্ট্রোনমি স্যাটেলাইট

এই স্যাটেলাইট মূলত মহাকাশে ভাসমান এক বিশাল টেলিস্কোপ। এটি ঠিক পৃথিবীর ওপরের কক্ষপথে অবস্থান করে। পৃথিবীতে অবস্থানরত শক্তিশালী টেলিস্কোপের তুলনায় কমপক্ষে দশ গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন এই স্যাটেলাইটের ভিশন। মহাকাশের অসীম প্রান্তে থাকা আল্ট্রাভায়োলেট, এক্স-রে, মাইক্রোওয়েভ এবং গামারশ্মি বিশ্লেষণ করে তার ছবি পাঠানো এই স্যাটেলাইটের কাজ। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গে সহায়তায় এই ছবি তৈরি হয়, যা থেকে বিজ্ঞানীরা মহাকাশ সম্পর্কিত নিত্যনতুন তথ্য পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া কৃষ্ণগহ্বর এবং কোয়েসারের রহস্যময় চরিত্র পর্যালোচনার জন্যও এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়।

অ্যাটমোসফেরিক স্যাটেলাইট

মহাকাশে উৎক্ষেপিত প্রথমসারির স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে অ্যাটমোসফেরিক স্যাটেলাইট অন্যতম। পৃথিবীর কক্ষপথের খুব কাছাকাছি এই স্যাটেলাইটের অবস্থান। পৃথিবীর আবহাওয়া নিরূপণের জন্যই অধিকাংশ উন্নত দেশ এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। অ্যালোয়েত্তে নামের এই গোত্রের প্রথম স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করে কানাডা।

নেভিগেশন স্যাটেলাইট

১৯৫০ সালের শেষের দিকে মূলত জাহাজ চলাচলের সুবিধার জন্য এ জাতীয় স্যাটেলাইট তৈরির প্রয়োজনীয়তা শুরু হয়। তবে ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর স্পুটরিক ১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে নেভিগেশন স্যাটেলাইটের যাত্রা শুরু হয়। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ফিজিকসের অধ্যাপকদের তত্ত্বাবধানে ওই স্যাটেলাইটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে নেভিগেশন স্যাটেলাইটগুলো দূরত্ব নিরূপণের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের স্যাটেলাইটগুলোর দুটি অংশ। একটি মহাকাশে থাকে এবং অন্যটি ভূমিতে থাকে। মহাকাশে থাকা অংশ থেকে ডপলার এফেক্টে পাঠানো সঙ্কেত ভূমিতে থাকা অংশগ্রহণ করে এবং পরে সেই তথ্য ব্যবহারের উপযোগী হয়।

রিকনাইস্যান্স বা ছদ্মবেশি স্যাটেলাইট

মহাকাশ সম্পর্কিত তথ্য জানার জন্য গবেষকরা অনেক স্যাটেলাইট ব্যবহার করলেও রিকনাইস্যান্স স্যাটেলাইটের খবর খুব কম মানুষই জানেন। বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশগুলো একে অপরের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য এ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। শত্রুদেশের সেনাবাহিনীর গতিবিধি এবং গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করাই এর প্রাথমিক কাজ। শুধু তা-ই নয়, এই স্যাটেলাইট যেমন মিসাইল চিহ্নিত করতে পারে, তেমনি মহাকাশে বিস্ফোরিত পরমাণু বোমার সঙ্কেতও দিতে পারে। সর্বাধুনিক রিকনাইস্যান্স স্যাটেলাইটগুলো পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ স্যাটেলাইট

বিপজ্জনক কোনো স্থানে আটকে থাকা জাহাজ, বিমান অথবা কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে সহায়তা করে এই স্যাটেলাইট। ১৯৮২ সালে কসমস-১৩৮৩ নামে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। ওই স্যাটেলাইট দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন সর্বপ্রথম দুটি বিধ্বস্ত বিমান খুঁজে বের করেছিল। ১৯৭৪ সালের দিকে কানাডা এ ধরনের স্যাটেলাইটের সুবিধার জন্য একটি আইন করে। ওই আইন মোতাবেক সব বিমানকেই ইমার্জেন্সি রোকেটর ট্রান্সমিটার ব্যবহার করতে হবে। যাতে কোনো বিপজ্জনক মুহূর্তে ওই ট্রান্সমিটার দিয়ে বিমানটিকে স্যাটেলাইন ব্যবহার করে খুঁজে বের করা যায়।

স্পেস এক্সপ্লোরেশন স্যাটেলাইট

পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ না করেই মহাবিশ্বের সব তথ্য সংগ্রহ করাই স্পেস এক্সপ্লোরেশন স্যাটেলাইটের কাজ। এর ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে সৌরজগতের যেকোনো স্থানে অনায়াসে যেতে পারে। শুরুর দিকে এই স্যাটেলাইটগুলো শুধু ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য পাঠালেও বর্তমানে নাসার গ্যালিলিওর মতো স্যাটেলাইটগুলো ছবিও পাঠাতে পারে। অন্য স্যাটেলাইটগুলোর তুলনায় এই স্যাটেলাইট কাজ করে কিছুটা ধীরগতিতে।

এ ছাড়া রিমোট সেন্সিং ও ওয়েদার নামে দুই ধরনের স্যাটেলাইট দেখা যায়। এই দুই ধরনের স্যাটেলাইটই জলবায়ুর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। তবে দুটির আচরণ এবং কর্মপদ্ধতি ভিন্ন। ওয়েদার স্যাটেলাইটগুলো একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে এবং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের জলবায়ুর সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে দিতে পারে। কিন্তু রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করা, কৃষিক্ষেত্রের ওপর নজর রাখার মতো কাজ করে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads