• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
নানা সমস্যায় যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কের উদ্যোক্তারা

যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক

ছবি : সংগৃহীত

তথ্যপ্রযুক্তি

নানা সমস্যায় যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কের উদ্যোক্তারা

  • শহিদ জয়, যশোর
  • প্রকাশিত ১৫ জুলাই ২০১৮

যশোরে চালু হওয়ার সাত মাসের মধ্যেই নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের উদ্যোক্তারা। তাদের অভিযোগ, ঘোষিত সুবিধা না পাওয়া ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির অব্যবস্থাপনার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকি দিয়েই চলছে প্রতিষ্ঠানটি, ভালো না করার বিষয়টি একান্তই তাদের ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর যশোরে উদ্বোধন করেন দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক।

জানা গেছে, যশোর শহরের নাজির শংকরপুর এলাকায় ১২ দশমিক ১৩ একর জমির ওপর ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ পার্কে চলতি বছরের শুরুতেই কাজ শুরু করেন উদ্যোক্তারা। সরকার পার্কটি পরিচালনার জন্য টেকসিটি নামে একটি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়।

উদ্যোক্তারা বলছেন, কোম্পানির অব্যবস্থাপনার কারণে শুরু থেকেই নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত তারা। সেই সঙ্গে সরকার-ঘোষিত সুবিধাদি না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষায়িত এ পার্কটিতে প্রাণসঞ্চার করতে দক্ষ জনবল পাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। যে কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন পুরাতন ও নতুন উদ্যোক্তারা। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে সব সমস্যার সমাধান দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজনেস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমরা এরই মধ্যে হাইটেকের সঙ্গে বসেছি। তারা আমাদের কাছ থেকে লিখিত চেয়েছে। আমরা সেগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। অবশ্য টেকসিটি বাংলাদেশ লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আবদুল্লাহ মুহিত জানিয়েছেন, ভর্তুকি দিয়েই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। ভালো না করার বিষয়টি উদ্যোক্তাদের ব্যাপার। ১ লাখ ৮০ হাজার স্কয়ার ফুট জায়গার এ পার্কে বর্তমানে ১৯টি কোম্পানি কাজ করছে। ১৪টি চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এবং ১৭টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে গত ২১ জুন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক মিলনায়তনে এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দেশের হাইটেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি সরবরাহ করার জন্য ৪১টি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এজন্য ১৮টি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন আইসিটি ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব মামুন আল রশীদ।

মামুন আল রশীদ তার প্রেজেন্টেশনে বলেন, আইসিটি ডিভিশনের আওতাধীন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য দেশের বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি। এজন্য হাইটেক পার্কে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহ করার জন্য ৪১টি বিষয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণে হাইটেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। হাইটেক পার্ক থেকে প্রশিক্ষণার্থী না পাওয়া গেলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণার্থী নেওয়া হবে। প্রতি কোর্সে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নারী প্রতিক্ষণার্থী নেওয়া হবে। কোর্সে অংশ নিতে হলে কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

মামুন আল রশীদ জানান, প্রশিক্ষণের মান সমুন্নত রাখার জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এক মাস পর ৩০ শতাংশ, কোর্স শেষে ৪০ শতাংশ এবং পরীক্ষার পর বাকি ৩০ শতাংশ প্রশিক্ষণের খরচ প্রদান করা হবে। কোর্সে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের ৯০ শতাংশ খরচ সরকার দেবে। বাকি ১০ শতাংশ খরচ প্রশিক্ষণার্থীদের বহন করতে হবে। এই কোর্সটি চলতি মাস থেকে শুরু হয়ে চলবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads