• রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
ডাটার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ

ছবি : সংগৃহীত

তথ্যপ্রযুক্তি

ডাটার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনে সব সেক্টরের ডাটা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিদ্যমান সেবাগুলোকে জনবান্ধব উপায়ে প্রদানের বিষয়ে একটি কর্মশালা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ডাটা : প্রিসিয়াস রিসোর্স অব টুয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি’ শীর্ষক কর্মশালাটি এটুআই, ই-গভর্নমেন্ট লিডারশিপ সেন্টার এবং সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়। এর আওতায় ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কৌশল বিনিময়ে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যে দুই বছরব্যাপী ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় বিভিন্ন সেশনের পাশাপাশি ডাটাভিত্তিক পলিসি গঠন বিষয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এনএম জিয়াউল আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সিস্টেমস সায়েন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খং চান ম্যাং এবং গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের পরিচালক ড. ল্যাং মুন কিউ। প্যানেল আলোচনায় মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী।

কর্মশালায় এমএ মান্নান বলেন, এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জ্ঞান বিতরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং নিজেদের সেবাগুলোকে আরো জনবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, ডাটার মালিকানা স্বত্বের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে এবং বিশাল ডাটার নিরাপত্তা দিতে হবে। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য সব ডাটা একত্রিত করে এর সুষ্ঠু প্রক্রিয়াকরণ করা প্রয়োজন। বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়ন পর্যালোচনা এবং ডাটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিশেষজ্ঞ তৈরি করার পরামর্শও দেন তিনি।

এছাড়া অন্যান্য প্যানেল আলোচকরা সাতটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জনবান্ধব ডাটা সুনিশ্চিতকরণ, ডাটা সঙ্গতি এবং ডাটার আন্তঃসংযোগ স্থাপন, এনালগ ডাটা সোর্সের ব্যবহার বন্ধ, রিপোর্টিং ও পরিকল্পনার জন্য ডাটা ব্যবহার না করে সার্ভিস ডেলিভারির জন্য ব্যবহার করা, ডাটার গুণগত মানের ব্যাপারে লক্ষ রাখা, সরকারি পর্যায়ে ডাটা দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সেক্টরে ডাটা সমন্বয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তারা।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত নানা ধরনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রম মূলত এটুআই এবং ই-জিএল কর্তৃক গৃহীত দুই বছরব্যাপী ‘ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালা। ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পলিসি নির্মাণের গুরুত্ব ও উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এ কর্মশালার প্রধান উদ্দেশ্য। এর মধ্যে রয়েছে অপেক্ষাকৃত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মডেল নির্মাণ এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডাটা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, ইউএসএইড এবং ইউএনডিপির সহায়তায় এটুআই ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads