• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৭

তথ্যপ্রযুক্তি

অনলাইননির্ভর জীবন আবারো শুরু হলো

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৭ এপ্রিল ২০২১

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশে ফের লকডাউন শুরু হয়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া মানা। দ্রুত কাজ সেরে সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরতে হবে মানুষকে। তাই প্রয়োজনীয় পণ্য বা কাজের জন্য নির্ভর করতে হবে অনলাইনের ওপর। বলা যায়, আবারো শুরু হলো অনলাইননির্ভর জীবনযাপন।

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত বছর ২৩ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশে লকডাউন ছিল। তখনো মানুষকে অনেক কিছুর জন্যই অনলাইনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। লকডাউনে চালু থাকবে ই-কমার্স। সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য লজিস্টিকস (কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান) ও ফুড ডেলিভারি সেবা চালু থাকবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ থাকবে। রেস্তোরাঁগুলোর শুধু অনলাইন কিংবা টেকঅ্যাওয়ে (খাবার নিয়ে যাওয়া) সেবা চালু থাকবে। সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ই-কমার্স সেবা চালু রাখার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (আইএসপি) লকডাউনে সেবা দিতে পর্যাপ্ত লোকবলের ব্যবস্থা করেছে। জরুরি সেবা ঘোষণা করায় আইএসপিগুলো তাদের গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বদ্ধপরিকর করে আইএসপিগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি জানিয়েছে। আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে) ফোরাম জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউউথের সরবরাহ রয়েছে। ব্যবহারকারীদের কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জুনায়েদ। বলেন, যখনই লকডাউন হয় বা কোনো জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সব কাজকর্মই কিন্তু চলে ইন্টারনেটের ওপর ভর করে।  ফলে আমরা এই বিষয়টিতে সচেতন আছি।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। গত বছরের মতো এ বছরও ই-ক্যাবের মাধ্যমে দেশের সব অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহযোগিতা দেবে। এদিকে দেশের কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) প্রযুক্তি খাতকে জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলি বা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপকে যথার্থ ও সময়োপযোগী মনে করে তারা। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা রাখার জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য, আইসিটি বিভাগ, ৮ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিসিএস। 

বিসিএস সভাপতি আবেদনে বলেছে, হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা মার্কেটগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সীমিত আকারে খোলা রাখার প্রস্তাব করে এ সেবাকে জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত করা হউক। প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি আরিফ নিজামী বলেন, লকডাউন ঘোষণার পরে আমরা ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করেছি।  লকডাউন চলাকালে আমরা এভাবেই অফিস করবো।

মটোরোলা মোবাইলের ন্যাশনাল পার্টনার সেলেক্সট্রা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব আরাফাত বলেন, আমরা ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ঘোষণা দিয়েছি। তবে বিকল্প ব্যবস্থাও রেখেছি। অল্টার করে সবাই অফিস করবে।  ফিল্ড সেলস (মার্কেট বা মোবাইল শপে বিক্রি) বন্ধ থাকবে। তবে আমাদের অনলাইন শপ সেলেক্সট্রা শপ চালু থাকবে। ক্রেতারা ঘরে বসেই গ্যাজেটস অ্যান্ড লাইফ স্টাইল পণ্যের ফরমায়েশ দিতে পারবেন।  ক্রেতাদের জন্য থাকছে বিশেষ আয়োজন।

শাওমি মোবাইল ফোনের অন্যতম ন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউটর সোলার ইলেকট্রো বাংলাদেশ লিমিটেডের (এসইবিএল) প্রধান নির্বাহী দেওয়ান কানন বলেন, লকডাউনে তো মার্কেট শপ বন্ধ। এজন্য আমরা অনলাইনে পণ্য বিক্রির বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ক্রেতারা পণ্যের অর্ডার করলে অন্য সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে সেবা পাবেন।

কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ই-কুরিয়ারের প্রধান নির্বাহী বিপ্লব ঘোষ রাহুল বলেন, আমাদের কুরিয়ার সেবা চালু থাকবে। পণ্য ডেলিভারির চাপ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। সংকটকাল মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেবাদান অব্যাহত রাখবো।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চালডাল ডট কম গ্রোসারি অর্ডার করলে ঢাকা শহরে এক ঘণ্টায় পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রিয়শপ ডট কম দিচ্ছে বিভিন্ন অফার। সাইটটিতে এখন চলছে বইমেলা।  প্রিয় লেখকের বই ঘরে বসেই কেনার ব্যবস্থা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ই-কমার্স মার্কেট প্লেস আজকের ডিলে চলছে বৈশাখি উৎসব, জিন্স ফেস্ট। ঘরে বসেই নিরাপদে কেনা যাবে বৈশাখের পোশাক।

 

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads