• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স বিদায়ে নতুন প্রকল্প

পোশাক শিল্প

সংরক্ষিত ছবি

শ্রমশক্তি

পোশাক শিল্পের উন্নতি ধরে রাখার উদ্যোগ

অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স বিদায়ে নতুন প্রকল্প

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ নেয় সরকার, উদ্যোক্তা, বহুজাতিক দাতা সংস্থা ও ক্রেতারা। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিক অনুসরণে কর্মপরিবেশের উন্নতিও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বিশ্বের শীর্ষ ১০ পোশাক কারখানার সাতটির অবস্থানই এখন বাংলাদেশে। কর্মপরিবেশের উন্নতিতে ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের দেশ ছাড়ার আলোচনাও উঠছে। দুই ক্রেতাজোটের বিদায়ে পোশাক খাত সংস্কারের দায়িত্ব নেবে রেমেডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল (আরসিসি)। আরসিসি শক্তিশালী করতে পোশাক খাতে কর্মপরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এ প্রকল্পে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দেবে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জোগান দেবে ২০৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সংস্থাটি কানাডা ও নেদারল্যান্ডস সরকার এবং যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ডিএফআইডি থেকে এ তহবিল সংগ্রহ করবে। বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) প্রস্তাবের বিষয়ে সভার আয়োজন করেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পে প্রস্তাবিত বেশ কিছু কাজ অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রকল্প থেকে কিছু খাত বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু খাতে বাড়তি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দিয়েছে পিইসি। সুপারিশ পালন করে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। একনেকের অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর এবং আইএলও।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া ধরে রাখতে ক্রেতাজোটের চাইতে সরকারের আরসিসি ভালো ভূমিকা রাখবে। সব দায়দায়িত্ব একসময় আরসিসিকেই নিতে হবে। বাস্তবতা বিবেচনায় আরসিসি শক্তিশালী করার পাশাপাশি ক্রেতাজোটের পরিদর্শনে উঠে আসা সংস্কার ধরে রাখার প্রকল্পটি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পোশাক খাত উন্নয়নে সরকার ও দাতা সংস্থার প্রকল্প থেকে বেসরকারি খাত প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছে না। এসব প্রকল্পে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বিরাজ করে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে উদ্যোক্তাদের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্র অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাকের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং শোভন কাজের নিশ্চয়তার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এ শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য সামনে রেখে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এ খাতের রেমেডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল (আরসিসি) শক্তিশালী করার মাধ্যমে ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের আওতাধীন তৈরি পোশাক কারখানার সংস্কার কাজ সমাপ্ত করা হবে। তা ছাড়া শ্রম পরিদর্শন সংক্রান্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা জোরদার এবং বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে প্রকল্পটির আওতায়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র আরো জানায়, আগে তিন বছর মেয়াদি ‘তৈরি পোশাক খাতে কর্মপরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’ বাস্তবায়ন হয়। এর মাধ্যমে কারখানা ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তা মূল্যায়ন, শ্রম পরিদফতর সংস্কার, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বাড়ানো, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহতদের পুনর্বাসন এবং বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচি নেওয়া হয়।

কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে শুরু হওয়া কাজ শেষ করা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের মাধ্যমে যাচাই করা ৮ শতাধিক কারখানার নিয়মিত ফলোআপের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে লেবার ইন্সপেক্টরদের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ, আরসিসি অফিসের জন্য সাপোর্ট সার্ভিস ও সরঞ্জাম ক্রয়সহ আরো কিছু কার্যক্রমের কথা বলা হয়েছে।

পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম পোশাক খাতকে বদলে দিয়েছে। কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন করে সবুজ শিল্পায়নে অগ্রগামী হচ্ছে পোশাক খাত। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) এবং গ্রিন বিজনেস সার্টিফিকেশন ইনকরপোরেট (জিবিসিআই) কর্তৃক সবুজ কারখানার স্বীকৃতি পেয়েছে দেশের বেশ কিছু কারখানা। দেশের প্রায় ৭০ কারখানা লিড সনদ পেয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি কারখানা সর্বোচ্চ প্লাটিনাম ক্যাটাগরির। আরো ২৮০টি সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads