• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads
ন্যূনতম মজুরির ধারণা নেই ৯৮% শ্রমিকের

শ্রমিক

সংরক্ষিত ছবি

শ্রমশক্তি

বিলসের গবেষণা প্রতিবেদনে তথ্য

ন্যূনতম মজুরির ধারণা নেই ৯৮% শ্রমিকের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশের শ্রমশক্তির ৮৫ শতাংশের বেশি নিয়োজিত আছেন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। এ খাতের ৫ কোটি ১৭ লাখ শ্রমিকের কাজের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ ও মজুরিসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ৮৮ ভাগ শ্রমিকের চাকরির লিখিত চুক্তি নেই। ৮২ ভাগের নেই পরিচয়পত্র। ৬২ ভাগ শ্রমিক বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতির শিকার হয়েছেন। ৯৮ ভাগ শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি সম্পর্কে ধারণা নেই। ৬০ ভাগেরই আয় ১০ হাজার টাকার নিচে। এর বাইরে ৩০ ভাগ কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম রয়েছে। গতকাল বুধবার প্রকাশিত সংস্থার এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

রাজধানীর একটি সম্মেলন কক্ষে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিক অধিকার ও তরুণ শ্রমিকের শোভন কাজ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় আয়োজিত গোলটেবিলে সভাপতিত্ব করেন বিল্স ভাইস চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঞা। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের যুগ্ম মহাসচিব মো. জাফরুল হাসানের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য দেন আইএলওর স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রডাকটিভিটি প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার কিশোর কুমার সিং, শ্রম অধিদফতরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম ফকির, অ্যাকশনএইডের ম্যানেজার নাজমুল আহসান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন খান প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজ আহমেদ।

তিনি জানান, নির্মাণ, বিউটি পার্লার, অটোমোবাইল, হোটেল রেস্টুরেন্ট এবং অনলাইন বিজনেস খাতের তথ্য নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, পাঁচ খাতের তরুণ শ্রমিকদের ৮৮ শতাংশই লিখিত চুক্তি ছাড়া কাজ করছেন। পরিচয়পত্র দেওয়া হয় না ৮২ শতাংশ শ্রমিককে। ৯৩ ভাগ শ্রমিকের সার্ভিস বুক নেই। তিনি আরো জানান, এ পাঁচ খাতে ৬২ ভাগ শ্রমিককে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করা হয়। বেশি কাজ করলেও ওভারটাইম বাবদ অর্থ পান না ৬৩ ভাগ শ্রমিক।

ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকদের অধিকার চর্চার সুযোগ খুবই কম। এই পাঁচ উপখাতে ৯৮ শতাংশ শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি সম্পর্কে ধারণা নেই। ৬০ শতাংশ, শ্রমিকের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার কম। তা ছাড়া এসব খাতে ৩০ ভাগ শিশুশ্রমের অস্তিত্ব রয়েছে। ৪৩ ভাগ শ্রমিক কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি সম্পর্কে জানেন না। ট্রেড ইউনিয়নে নেই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ৮০ ভাগ শ্রমিক।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নীতি অনুযায়ী দেশের শ্রম আইন শোভন কাজ পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি। তরুণ শ্রমিকরা তাদের অধিকার সম্পর্কে অবগত নয়। এ বিষয়ে তাদের সচেতন করতে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তা ছাড়া শ্রমিকদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা, শ্রমিক নিয়োগে মালিক শ্রমিক চুক্তি স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা, আইএলও সনদ ৮৭ ও ৯৮-এর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার এবং ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা ও শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয় গোলটেবিল বৈঠকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads