• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
ক্ষতিপুরণ না দিয়ে কাজ শুরুর পায়তারা

সিরাজগঞ্জ বেসরকারী ইকোনোমিক জোন

ছবি : বাংলাদেশের খবর

শ্রমশক্তি

সিরাজগঞ্জ ইকোনোমিক জোন

ক্ষতিপুরণ না দিয়ে কাজ শুরুর পায়তারা

  • সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর ২০১৯

সিরাজগঞ্জ বেসরকারী ইকোনোমিক জোনের জন্য অধিগ্রহনকৃত ভুমি, বসতভিটা, ফসল ও গাছপালার ক্ষতিপুরনের টাকা না দিয়েই কাজ শুরুর পায়তারা করায় ভুমি মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে-কতিপয় প্রভাবশালী হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নামধারউ নেতা-ঠিকাদার-ইকোনোমিক জোনের কর্মকর্তার জোকসাজসে জোরপুর্বকভাবে ক্ষতিপুরণ না দিয়েই উচ্ছেদসহ মাটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় যে কোন সময় ইকোনোমিক জোনের কর্মকর্তাসহ সরকার দলীয় সাব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এঅবস্থায় ভুমির মালিকরা শান্তি শৃংখলা রক্ষাসহ মানবিক কারণে দ্রুত ক্ষতিপুরন পরিশোধপুর্বক কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোড় দাবী জানিয়েছেন।

জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ও বঙ্গবন্ধু সেতুর দক্ষিনপাশে সিরাজগঞ্জ সদরের সয়দাবাদ ও বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের সিরাজগঞ্জ ইকোনোমিক জোন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ১১টি শিল্পোদ্যোক্তা-প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামকে জোনটি গড়ে তোলার জন্য সরকার প্রাক লাইসেন্স প্রদান করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সয়দাবাদ ও রাজাপুর ইউনিয়নের পাঁচটি মৌজার ১০.৩৫ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়। শুরুতেই উদ্যোক্তাগনের পক্ষ থেকে জোনের পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন সদর ও বেলকুচি দুজন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ভুমি মালিকদের জমিজমা বসতভিটাসহ ফসল ও গাছপালার ক্ষতিপুরন ও ক্ষতিগ্রস্তদের ইকোনোমিক জোনে চাকুরীর দেয়ার দেয়ার আশ^াস দেন। ভুমি অধিগ্রহনের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উপর দায়িত্ব দেয়া হয়। সে মোতাবেক প্রায় ২২শ ভুমি মালিক ক্ষতিপুরণ চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর বসতভিটা ও জমির কাগজপত্র জমা দেন। এর মধ্যে মাত্র প্রায় অর্ধেক মারিকদেও কিছু কিছু ক্ষতিপুরণ দেয়া হলেও অধিকাংশ ভুমির মালিককে এখনো পর্যন্ত ক্ষতিপুরনের দেয়া হয়নি। আবার ক্ষতিপুরন নিতে আসা ভুমি মালিকদের ভুমি অধিগ্রহন অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ও কাগজপত্র যাচাইপত্রের নামে নানা বিষয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এনিয়ে ভুমির মালিকরা একাধিবার মানববন্ধনসহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন। এঅবস্থায় সরকারী দলের প্রভাবশালী হাইব্রিড নেতা-ইকোনোমিক জোনের কর্মকর্তাদের সাথে যোজসাজসে আওয়ামীলীগ নামধারী কয়েকজন সাব ঠিকাদারের লোকজন দিয়ে জোরপুর্বকভাবে দরিদ্রদের বসতবাড়ী উচ্ছেদসহ মাটি ভরাটের কাজ শুরুর পায়তারা শুরু করেছে। ক্ষতিপুরণ ছাড়াই উচ্ছেদ এবং মাটি ভরাট কাজ শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। কাজ শুরু করলেই উভয়দেও মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা বিরাজ করছে। উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে মানবিক কারণ হলেও জমিজমার মুল্য প্রদানসহ অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ক্ষতিপুরণ প্রদান আবশ্যক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নচেত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পাশাপাশি ইকোনোমিক জোনে প্রতিষ্ঠা কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভুমি মালিক আব্দুল গাফফার, নুরনবী সরদার, হয়রত আলী, সুলতান সেখ, আকতার হোসেন, আফজাল হোসেন, ময়েজ উদ্দিন, আইয়ুব আলী, আব্দুল মালেক, আজিত, রহিম বক্স, বাবু, এছাহাক, শামসুল, মোহাম্মদ আলী, রইজ উদ্দিন ও বাবু তালুকদারসহ অনেকে জানান, আমরা নদী তীরের বাসিন্দা। প্রতিবছর ভাঙ্গন-বন্যার সাথে যুদ্ধ করে শেষ সম্বল বাপদাদার পৌত্রিক সম্পত্তি ফসলী জমি ও বসতভিটা আকড়ে ধরে বেঁচে আছি। আমাদের মতো অসহায়-দরিদ্র মানুষের জমি-জমা বসতভিটা ও ফসলী জমি অধিগ্রহন করা হলেও ক্ষতিপুরন দেয়া হয় নাই। ক্ষতিপুরণ না পেলে আমাদের পথে বসতে হবে-খোলা আকাশের নীচে থাকতে হবে। এ অবস্থায় ক্ষতিপুরণ ছাড়া কতিপয় হাইব্রিড আওয়ামীলীগ নেতা ভুমির মালিকদের ভয়ভীত প্রদর্শন করে জোরপুর্বক উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। তারা আরো জানান, ক্ষতিপুরণ ছাড়া ইকোনোমিক জোনের কাজ শুরু করা হলে যে কোন মুল্য প্রতিহত করা হবে।

ইকোনোমিক জোনের পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন জানান, প্রকল্পটি সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের জন্য ভুমি অধিগ্রহনের প্রায় তিনশ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জেলা প্রশাসন ক্ষতিপুরন টাকা ভুমি মালিকদের প্রদান করবেন। এক্ষেত্রে আমাদের কোন দায়-দায়িত্ব নেই।

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী ও ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা তানজীল পারভেজের কাছে কতজন-কি পরিমাণ ক্ষতিপুরণ পেয়েছে এ বিষয় তথ্য জানতে চাইলে আবেদন ছাড়া তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads