• মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭
ads
চলনবিলের শুঁটকি চাতালের নারী শ্রমিকেরা মজুরী বৈষম্যের শিকার

শুঁটকি চাতালে কর্মরত নারী শ্রমিক

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

শ্রমশক্তি

চলনবিলের শুঁটকি চাতালের নারী শ্রমিকেরা মজুরী বৈষম্যের শিকার

  • চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলাঞ্চলে শুরু হয়েছে শুঁটকি মাছের মৌসুম। এ বিলপাড়ে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক শুঁটকি চাতাল বসেছে। এ সকল শুঁটকি চাতালের অধিকাংশ শ্রমিক নারী। সকাল, ভর দুপুর কিংবা সন্ধ্যা, সার্বক্ষনিক নিয়োজিত মাছ বাছাই আর শুকানোর কাজে এ সকল নারী শ্রমিক।

চলনবিল পাড়ের মহিষলুটি এলাকায় শুঁটকি চাতালে কাজ করেন তাড়াশের সাঁকোয়া দিঘী গ্রামের ষাটোর্ধ নারী পাতনী নেছা। আধা শুকানো মাছ বাছাই করে আকার অনুযায়ী আলাদা করছিলেন তিনি। প্রতিদিনই কাজ করেন চলনবিলের তাড়াশের মহিষলুটি এলাকায় মোফাজ্জলের শুঁটকি চাতালে। স্বামী পরান প্রাং। মারা গেছেন অনেক বছর আগে। তিন ছেলে তিন মেয়ে তার। মেয়েদের অনেক কষ্টে বিয়ে দিয়েছেন এ বিধবা নারী শ্রমিক। তিন ছেলেকে ও বিয়ে দিয়েছেন। সবাই পৃথক। যার যার সংসার নিয়ে সে সে ব্যস্ত। পাতনী নেছা এ ছেলেগুলোকে পেটে ধরলেও, বড় করে তুললেও এখন তারা মায়ের দায়িত্ব নিতে নারাজ। পেটের খাবার, ওষুধ পত্র, কাপড় চোপরের কারণেই যোগান দেওয়ার জন্যই প্রায় ২৫ বছর যাবত বছরের ৬ মাস কাজ করেন চলনবিলের শুঁটকি চাতালে।

অন্য সময় মাটি কাটা, ধানের চারা তোলাসহ যখন যে কাজ পান তাই করতে হয় তাকে। শুঁটকির চাতালে কাজ শুরু হয় ভোরে। সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। বিনিময়ে প্রতিদিনের পারিশ্রমিক বাবদ মালিক তাকে দের’শ টাকা করে দেন।

পাতনী নেছার মতো তারা খাতুন (৪০), রমেছা (৫০), সাদিয়া খাতুন (৩০), কামরুন্নাহার (৪৫)সহ ২ শতাধিক নারী শ্রমিক প্রতিদিন চলনবিলের চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, তাড়াশ, সিংড়া, গুরুদাসপুর উপজেলার অর্ধ শতাধিক চাতালে কাজ করেন।প্রতিদিন তারা রান্না থেকে শুরু করে মাছ বাছাই আর শুকানোর কাজ করেন। অথচ মজুরী পান একবারেই কম। একজন পুরুষ শ্রমিককে প্রতিদিনের মজুরী ৪শ’ টাকা দেয়া হলেও নারী শ্রমিককে দেয়া হয় মাত্র ২’শ টাকা। এ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই নারী শ্রমিকদের। কিন্তু কে শোনে কার কথা। অন্য কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা এসময় কাজ করেন শুঁটকির চাতালে।

শুঁটকি চাতাল মালিক দেলবার, পরাণ সাধু ও মোফাজ্জল হোসেন জানান, এলাকায় মাছের দাম বেশী এবং সৈয়দপুর নীলফামারীসহ অন্যান্য শুঁটকির আড়তে দাম কম হওয়ায় আমরা লাভ করতে পারছি না। এসময় কখনো কখনো কয়েকদিন যাবত বৃষ্টি হয়। কাজ না থাকলেও শ্রমিকদের বেতন ও খাবার দেয়া হয়। নারী শ্রমিক কম মজুরীতে পাওয়া যায়, তাই এদের সংখ্যাই বেশী।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads