• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
হাইকোর্টের ১৫ দফা নির্দশনা নিম্ন আদালতের বিচারকদের

বিচারকদের দায়িত্ব পালনে আরো মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দিয়ে হাইকোর্ট

সংরক্ষিত ছবি

আইন-আদালত

হাইকোর্টের ১৫ দফা নির্দশনা নিম্ন আদালতের বিচারকদের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৫ জুন ২০১৮

অধস্তন আদালতের বিচারকদের দায়িত্ব পালনে আরো মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ বিচার বিভাগের স্বীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। বিচারিক আদালতের দুর্বলতা ও শৈথিল্যের কারণে কোনো মামলার তদন্ত বা বিচার বিলম্ব হচ্ছে বলে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ যাতে দোষারোপ করতে না পারে সে সক্ষমতা বিচারকদের অর্জন করতে হবে।

গাইবান্ধার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একটি আদেশের বৈধতার আবেদন নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ঘোষিত ১৫ দফা দিক নির্দেশনায় গতকাল সোমবার এসব কথা বলা হয়েছে। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে ১৫ দফা নীতিমালার অনুলিপি সকল জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর আদালতে বিতরণ এবং সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

রায়ে গাইবান্ধা জেলা জজকে নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে বিচারক এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে (হাকিম) নিয়ে একটি বিচার বিভাগীয় সম্মেলন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এবং মুখ্য বিচারিক হাকিমের (সিজেএম) সহযোগিতায় সব বিচারক এবং হাকিমকে নিয়ে জেলা বা মহানগর দায়রা জজ আদালতের আওতায় কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে মাসে ন্যূনতম একটি বিচারিক সম্মেলন করতে হবে।

রায়ে বলা হয়েছে, দায়রা জজ আদালতের বিচারকদের ফৌজদারি রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের রায় পুনর্বিবেচনায় শুধু সম্মত বা অসম্মত উল্লেখ করে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। মামলার বিষয়বস্তুর সঙ্গে জড়িত আইনগত প্রশ্নের গভীরে ঢুকে অনুসন্ধান করতে হবে। তারপর তাদের মেধা ও দক্ষতা অনুযায়ী নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে হবে এবং যেকোনো আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিশনাল বিষয়সমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

রায়ে আরো বলা হয়, এদেশের অনেক সরকারি কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার আগে দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করেন। জেলা ও দায়রা জজদের ওই ধরনের মানসিকতা ধারণ করা যাবে না। তাছাড়া তাদের দায়িত্ব পালনে আরও মনোযোগী হতে হবে।

বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিমের জন্য নীতিমালায় বলা হয়েছে, নারাজি দরখাস্তে যেসব সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয় তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিমের (ম্যাজিস্ট্রেট) প্রাথমিক দায়িত্ব হলেও যেসব সাক্ষী প্রাসঙ্গিক মনে হয়, তাদেরও বক্তব্য নিতে হবে। সম্ভব হলে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিমকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে হবে। বিচারবিভাগীয় অনুসন্ধানকালে একজন হাকিমের কাছে যদি কোনো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, অনুসন্ধান প্রতিবেদনে কোনো মতামত যোগ করতে হয়, তা হলে ওই হাকিমকে বিচারিক সাক্ষীদের আচরণও মানসিক অবস্থা রেকর্ড করতে হবে। যথাসম্ভব কম সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করতে হবে।

অভিযোগ আমলে নেওয়ার  ক্ষেত্রে নীতিমালায় বলা হয়েছে, একজন হাকিমকে বিচার্য বিষয়সমূহ যেমন এফআইআর, স্কেচ ম্যাপ, ইনডেক্স, সিজার লিস্ট, চিকিৎসা সনদ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান প্রতিবেদন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি ও কেস ডায়রি গভীরভাবে নিরীক্ষা করতে হবে।

কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হলে অথবা বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিম সুপারিশ করলে আমলে গ্রহণকারী হাকিম ওই আসামিকে বাদ দিতে পারবে না।

একটি নালিশি মামলার ক্ষেত্রে যখন একজন হাকিম ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর বক্তব্য রেকর্ড করবেন তখন  অবশ্যই সংক্ষিপ্তভাবে হবে যাতে যে কেউ সহজেই অভিযোগের ধরন বুঝতে পারে। হাকিমকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে, অপরাধ আমলে নেওয়ার মতো যথেষ্ট উপাদান (প্রাইমা ফেসি) আছে। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধরায় মামলা হলে হাকিমকে অবশ্যই ‘আলেয়া বনাম রাষ্ট্র’ মামলা অনুসরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads