• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
তারেক মাসুদের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের রায় বহাল

আন্তর্জাতিক পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ

সংরক্ষিত ছবি

আইন-আদালত

তারেক মাসুদের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের রায় বহাল

পরবর্তী শুনানি ৮ অক্টোবর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৩ জুলাই ২০১৮

আন্তর্জাতিক পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে চার কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলে রায় স্থগিত না করে এটি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আগামী ৮ অক্টোবর এ আপিলের শুনানি হবে। ফলে ক্ষতিপূরণের হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

গতকাল রোববার এ সংক্রান্ত আপিলের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। এর আগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করে বাস মালিক কর্তৃপক্ষ। আদালতে বাস মালিকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। নিহত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক।

মামলায় গত বছর ৩ ডিসেম্বর তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, ছেলে নিষাদ মাসুদ ও বৃদ্ধ মা নূরুন নাহারকে চার কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের তিন মালিককে চার কোটি ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫২ টাকা, বাস চালক জমির উদ্দিনকে ৩০ লাখ টাকা এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয় রায়ে।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান তারেক মাসুদ এবং এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিশুক মুনীর। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাগামী একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। তাতে তারেক-মিশুকসহ মাইক্রোবাসের পাঁচ আরোহী নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। ঘটনার দেড় বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মোটরযান অধ্যাদেশের ১২৮ ধারায় বাস মালিক, চালক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা করেন। মামলায় বাস চালক জমির হোসেন, বাস মালিক কাসেদ মিয়া, মুজিবুল হক, মো. তুহিন ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে বিবাদী করা হয়। তারা সবাই জামিনে রয়েছে।

তারেক মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ মামলা করেন। মামলাটি বিচারিক আদালতে করা হলেও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে ক্যাথরিন মাসুদের দায়ের ক্ষতিপূরণ মামলার শুনানি শুরু হয়।

মামলায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ প্রথমে সাত কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৫২ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পরে ক্ষতিপূরণের দাবি বাড়িয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা করা হয়। এরপর সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে মামলা দুটি জনস্বার্থে হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে করা হলে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর তা মঞ্জুর হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads