• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
গাড়িচাপায় হত্যার শাস্তি মৃত্যু দণ্ড

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

সংরক্ষিত ছবি

আইন-আদালত

গাড়িচাপায় হত্যার শাস্তি মৃত্যু দণ্ড

পরিবহন শৃঙ্খলা আইনের খসড়া কাল উঠছে মন্ত্রিসভায়

  • সাঈদ আহমেদ
  • প্রকাশিত ০৫ আগস্ট ২০১৮

শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’ ও একজন চালকের গাড়ি চালানোর সময় স্পষ্ট না করে কাল মন্ত্রিপরিষদে উঠছে ‘পরিবহন শৃঙ্খলা আইন-২০১৮’। চাপায় মানুষ হত্যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং গুরুতর আহত হলে যাবজ্জীবন সাজার বিধান রেখে ফের ওঠানো হচ্ছে। আইনের খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শনিবার টেলিফোনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে খসড়ার ত্রুটি-বিচ্যুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে চালকদের লাইসেন্স, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য শাস্তি, ফিটনেসবিহীন গাড়িসহ নানা বিভিন্ন বিধান অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো ড্রাইভারের ১২ পয়েন্ট কাটা যায় তাহলে তার লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। তিন পয়েন্ট কাটলে কী হবে এ রকম একটা বিধান করে দেওয়া হয়েছে। শাস্তির ব্যাপারে আমাদের দেখতে হয় যেন বেশি অপরাধে অল্প শাস্তি না হয়। আবার অল্প অপরাধে বেশি শাস্তিও না হয়। ত্বরিত বিচারের বিষয়টাও এ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ পরিবহন নেতাদের প্রবল আপত্তির মুখে আইনটি মন্ত্রিপরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। পরে গত দেড় বছর ধরে আইন মন্ত্রণালয় আইনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ধারাগুলো রাখা হয়েছে।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়, চালক যদি বেপরোয়া গাড়ি চালান এবং এ কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয় সেক্ষেত্রে চালকের ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকছে। গাড়িতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী কিংবা মালামাল বহনের শাস্তি ৩ বছর কারাদণ্ড কিংবা ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড। এসব অপরাধের জন্য চালক এবং চালকের নিয়োগকর্তা দুজনই ‘দায়ী’ হবেন।  বিদ্যমান আইনে  ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অর্থদণ্ড বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে খসড়া  আইনে।

বিদ্যমান আইনে গাড়ির ফিটনেস না থাকলে সর্বোচ্চ গাড়ির মালিককে ৬ মাসের কারাদণ্ড কিংবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল। আইন মন্ত্রণালয়ে খসড়ায় এটিকে ১ বছর করে জরিমানার অর্থ করা হয়েছে ১ লাখ টাকা। পাশাপাশি দুই গাড়ি পাল্লা দেওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে ৩ বছর কারাদণ্ড কিংবা ২৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো খসড়ায়। 

এতে উল্লেখ থাকছে গাড়ি চলন্ত অবস্থায় চালক মোবাইল ফোন বা কোনো ডিভাইস ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ১ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। নগরীর ফুটপাথের ওপর দিয়ে মোটরযান চালানো যাবে না। ব্যত্যয় ঘটলে ৩ মাসের কারাদণ্ড কিংবা ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা।

গাড়ি চালানোর লাইসেন্সের আবেদন করতে হলে চালককে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। চালকের সহযোগী, হেলপার বা কন্ডাক্টরের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্দিষ্ট করা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণি। লাইসেন্সবিহীন চালকের সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড ৫০ হাজার কিংবা উভয় দণ্ড। অপরাধ করলে তাকে গ্রেফতার করা যাবে ওয়ারেন্ট ছাড়াই। অপরাধ প্রমাণিত হলে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড। হেলপার বা কন্ডাক্টরের শিক্ষাগত যোগ্যতা না মানলে এক মাসের কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান। যানবাহনের সংরক্ষিত নারী, শিশু এবং প্রতিবন্ধী আসনে অন্য কাউকে বসতে দিলে ১ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা দুটো দণ্ডই প্রযোজ্য। তবে ভেটিং শেষে পাঠানো খসড়া আইনটিতে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের ভাড়ার হারের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। চালক নেশাজাতীয় দ্রব্য বা মদ পান করে গাড়ি চালালে ৩ মাসের কারাদণ্ড, ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা। খসড়া আইনে একজন চালক টানা কত ঘণ্টা গাড়ি চালাতে পারবেন, এর কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই।

গত জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, একজন গাড়িচালক ৫ ঘণ্টার বেশি টানা গাড়ি চালাবেন না। তবে রাস্তার পাশে চালকদের বিশ্রামাগার নির্মাণ, সিগন্যাল মানতে বাধ্য করা, যাত্রী ও চালকের সিটবেল্ট বাঁধার বিধান রয়েছে বলে জানা গেছে খসড়ায়।

জাতীয় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক খসড়া আইনে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনটি প্রণয়ন করলেই চলবে না। এটির প্রয়োগও থাকতে হবে। সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে যন্ত্র বসানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩৫ কিলোমিটার করতে হবে। যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে হবে।

কুর্মিটোলা আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের সামনে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর বাসচাপায় নিহতের ঘটনায় ৯ দফা দাবিতে গত ২৯ আগস্ট থেকে আন্দোলন করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ আগস্ট আইনমন্ত্রী ‘পরিবহন শৃঙ্খলা আইন’র খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদে উঠবে বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ পরিপ্রেক্ষিতে আজ  (সোমবার) আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে ওঠার কথা রয়েছে। এর আগে সরকার এ ধরনের আইন করার উদ্যোগ নেয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক-নেতারা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আইন প্রণয়নে বাধা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট এআরআইর গবেষণা মতে, দেশে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads