• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads
চাঞ্চল্যকর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেই

চাঞ্চল্যকর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেই

ছবি : প্রতীকী

আইন-আদালত

চাঞ্চল্যকর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেই

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ১৮ মার্চ ২০১৯

অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ঢাকার চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনী, কুমিল্লার কলেজছাত্রী তনু, চট্টগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মিতু হত্যা মামলার ভবিষ্যৎ। এই তিন মামলা আর কোনো দিন আলোর মুখ দেখবে কি না এ নিয়েও যথেষ্ট সংশয় দেখা দিয়েছে জনমনে। এ ছাড়া হত্যা, মাদক, বিস্ফোরক, জঙ্গিবাদ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন আইনের মামলায় কারাগারে রয়েছে প্রায় ৫০০ আসামি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন ও কোনো মামলা আদালতে বিচারাধীন। এসব মামলার বিচার কবে শেষ হবে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরাও বলতে পারছেন না। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য ২০১৭ সালে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত মামলার শুনানির কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব স্মৃতি রানী ঘরামির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সব মামলার বিবরণ, কোন আদালতে বিচারাধীন, মামলার ধারা, মামলার তারিখ, আসামি ও সাক্ষীর নামসহ বিস্তারিত তথ্য জানাতে বলা হয়। যৌক্তিক কারণ উল্লেখসহ ৫৭ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়কে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বলা হয়। এরপর আর এগোয়নি সে কার্যক্রম। এর আওতায় প্রায় ৪শ’ মামলা থাকলেও তাতে নেই সাগর-রুনী হত্যা, তনু হত্যা ও মিতু হত্যা মামলা। এ মামলা ৩টি তুলনামূলকভাবে বেশি স্পর্শকাতর হলেও অজ্ঞাত কারণে এ মামলার ভবিষ্যৎ নেই বললেই চলে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় ঘটে যাওয়া সাগর-রুনী হত্যাকারীচক্রের সদস্যদের পুলিশ ৭ বছরেও গ্রেফতার করতে পারেনি। মামলাটি রয়ে গেছে রহস্যের বেড়াজালেই। এ নিয়ে সাংবাদিকরা তৎকালীন সময় সোচ্চার হলেও এখন আর কাউকে মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা ছাড়া কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। মামলার তদন্তকারীরাও আসামি গ্রেফতার করতে না পেরে প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানোর মধ্যেই নিজেদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রেখেছে। এতে হতাশ সাগর-রুনী পরিবারের সদস্যরা। এ মামলার রহস্য উদঘাটন আদৌ হবে কি না সেটাই এখন জনমনে প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ খুন হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। তিন বছরেও এ হত্যা রহস্য উদঘাটন হয়নি। ধরা পড়েনি হত্যাকারীচক্রের সদস্যরা। মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ রহস্য উদঘাটনের প্রশ্নে টালবাহানা করছে। ফলে হতাশ তনুর মা-বাবাসহ আত্মীয়-স্বজনরা। অন্যদিকে একই বছরের ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। দুর্বৃত্তরা এদিন তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করে। এই হত্যাকাণ্ডে কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। গ্রেফতার করতে পারেনি হত্যার নেপথ্য নায়ককে।

সুতরাং চাঞ্চল্যকর এ তিন মামলা যে ‘ডিপ ফ্রিজে’ চলে গেছে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। অন্যান্য প্রায় ৪শ’ চাঞ্চল্যকর মামলাও দীর্ঘসূত্রতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত মামলায় কারান্তরীণ আসামিদের বিচার চলছে বিভিন্ন জেলায় দায়রা জজ আদালতে। নির্ধারিত দিনে সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিচার শেষ হচ্ছে না। এর মধ্যে খুনের অভিযোগে কারান্তরীণ রয়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বাসিন্দা রাজু আহমেদ। ২০০৩ সালের ৩ মার্চ থেকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছে সে। বিচারের জন্য আসামিকে ১০৮ বার কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। বাগেরহাটের কাকা মোল্লা ২০০৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা রয়েছে। তাকে এ পর্যন্ত ৯০ বার আদালতে হাজির করা হলেও সাক্ষী হাজির হয়নি। এরই মধ্যে ১০ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। নাটোরে খুনের মামলায় আবদুল খালেক ২০০৫ সাল থেকে কারাগারে। ১১ বছরে তাকে ৭০ বার আদালতে হাজির করা হয়। একই কারাগারে মাদক মামলায় বন্দি নওশাদ মণ্ডল। তাকে ৮০ বার আদালতে হাজির হতে হয়েছে। বরগুনায় খুনের মামলায় ২০০৯ সালের ৬ মে থেকে আবদুল জলিল এবং একই বছর থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় জেলা কারাগারে বন্দি ওই জেলার জাহাঙ্গীর আলম। তাদের বিচার কার্যক্রম চলছে বরগুনার দায়রা জজ আদালতে। এরই মধ্যে তাদের আদালতে ৯৪ বার হাজির করা হলেও সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে বিচার কার্যক্রম থমকে আছে।

এ ছাড়া চাঞ্চল্যকর শতাধিক জঙ্গি মামলার ৩ শতাধিক দুর্ধর্ষ জঙ্গি কারাগারে রয়েছে। সাক্ষীর অভাবে মামলা থমকে আছে বছরের পর বছর। কারাগার থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এদের আদালাতে আনা-নেওয়া হচ্ছে। ২০১৪ সালে প্রিজনভ্যানে হামলা করে জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো হলি আর্টিজানে হামলার আসামিদেরও আদালতে নেওয়ার পথে ছিনতাইয়ের একটি পরিকল্পনা হয়েছিল ইতোমধ্যে, যদিও সে প্রচেষ্টা গোয়েন্দা নজরদারিতে ভেস্তে গেছে। সুতরাং কৃতকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে এসব ভয়ঙ্কর ও দুর্ধর্ষ আসামির শাস্তি নিশ্চিত করতে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads