• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads
মাদকের মতো ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অনুরোধ হাইকোর্টের

হাইকোর্ট

সংগৃহীত ছবি

আইন-আদালত

মাদকের মতো ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অনুরোধ হাইকোর্টের

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১২ মে ২০১৯

মাদকবিরোধী অভিযানের মতো খাদ্যে ভেজাল মেশানোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ খাদ্যে ভেজাল দেয়া সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানিতে এ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলে, ‘খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র রমজান মাসেই অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়। সারাবছরই খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা উচিৎ। খাদ্যপণ্যের ভেজাল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের শুধুমাত্র নিজেদের কর্মকর্তা মনে না করে দেশ প্রেমিক নাগরিক ও জনগণের প্রতি ভালোবাসা থেকে দায়িত্ব পালন করা উচিৎ।’

আদালত আরও বলে, ‘যদিও এই জাতীয় বিষয়ে হাইকোর্টের নিয়মিত দেখা উচিৎ নয়। কারণ, এর জন্য যথাযথ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ রয়েছে। কিন্তু এরকম জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাইকোর্ট চুপ থাকতেও পারে না। তাই ভেজাল রোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্নিত প্রচেষ্টা জরুরি।’

একইসঙ্গে হাইকোর্ট অনুরোধ জানিয়ে বলে, ‘সরকার ও সরকারি দল এবং প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি যেন এসব ভেজাল খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যেমন যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল তেমনি ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রয়োজনে খাদ্যে ভেজাল রোধে জরুরি অবস্থা ঘোষণারও অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আদালত আরও বলে, ‘হাইকোর্ট সরকার ও নির্বাহী বিভাগের কাজের অগ্রাধিকার কি হবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারে না। কিন্তু খাদ্যে ভেজাল রোধের বিষয়টিকে এক নম্বরে অগ্রাধিকার দেয়ার অনুরোধ জানানো হলো।’

ভেজালের বিষয়ে আর কোন আপোষ কিংবা ছাড়া দেয়া দেয়া হবে না বলেও আদালত তার আদেশে হুশিয়ারি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমান প্রমাণিত হওয়া ৫২টি খাদ্যপণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে এই আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গত ৯ মে কনশাস কনজুমার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বাদী হয়ে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। আদালত আগামী ২৩ মে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য রেখেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads