• বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
যাবজ্জীবনের সময় নিয়ে রায় যেকোনো দিন

ছবি : সংগ‍ৃহীত

আইন-আদালত

যাবজ্জীবনের সময় নিয়ে রায় যেকোনো দিন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১২ জুলাই ২০১৯

যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস-আপিল বিভাগের এমন অভিমত পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হবে মর্মে সিএভি (অপেক্ষমাণ) রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায়টি অপেক্ষমাণ রাখেন। রায় ঘোষণার পর জানা যাবে, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস কি না? এ বিষয়ে আইনি মতামত নিতে গত ১১ এপ্রিল চার আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ দেন আপিল বিভাগ। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ পান অ্যাডভোকেট এএফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান ও অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চোধুরী।

বৃহস্পতিবার অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সর্বশেষ মতামত তুলে ধরেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও শিশির মুহাম্মদ মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মুরাদ রেজা ও মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে গাজীপুরে জামান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায়ে যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস-সর্বোচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আসে। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম গাজীপুর মডেল থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ১৫ অক্টোবর তিন আসামি আনোয়ার হোসেন, আতাউর রহমান ও কামরুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন দ্রুত বিচার আদালত। রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। তাদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সও (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। শুনানি নিয়ে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

এরপর আসামি আনোয়ার ও আতাউর সাজা কমাতে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। কামরুল পলাতক থাকায় আপিলের সুযোগ পাননি। দুই আসামির আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ, যা আমৃত্যু কারাবাস হিসেবে গণ্য হবে। সঙ্গে সঙ্গে আদালত যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাসসহ সাত দফা অভিমত দেন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। 

এতে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা ও ৪৫ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অর্থ হবে আমৃত্যু কারাবাস। ফলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত সবাইকে আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে বলে ওই সময় জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আপিল বিভাগের দেওয়া এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামি আতাউর মৃধা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads