• শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
ads
জোরালো হবে তৃণমূলের আইনশৃঙ্খলা

ছবি : সংগৃহীত

আইন-আদালত

জোরালো হবে তৃণমূলের আইনশৃঙ্খলা

কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা যাচ্ছে

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি থাকলেও অধিকাংশ কমিটির কার্যক্রম অনেকটা ফলশূন্য। এসব কমিটিকে আরো কার্যকর করতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এসব কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পদাধিকার বলে সভাপতি। কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন সংসদ সদস্যরা। অনুসন্ধান বলছে, প্রান্তিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এসব কমিটি কেবল কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। প্রতি মাসে কমিটির বৈঠক হওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা হচ্ছে না। অনেক উপজেলায় কমিটির বৈঠক করা হচ্ছে কেবল নিয়ম রক্ষার জন্য। কোনো কোনো উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্য বেশিরভাগ সময়ই অনুপস্থিত থাকছেন। তবে কমিটিকে কার্যকর করতে নির্দেশনা যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। 

সূত্রগুলো বলছে, নির্দেশনা পরিপালন করতে কমিটিগুলো গঠন করে রাখা হয়েছে। কার্যত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না এসব কমিটি। তবে জেলা পর্যায়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক কিছুটা সক্রিয়। জেলা প্রশাসকরা এই কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, মাঠ পর্যায়ে যাতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভা নিয়মিতভাবে করা হয়, সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। যেসব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটি নিয়মিতভাবে করছেন না, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। কারণ দর্শানো নোটিশও পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদ চলছে। গত ১১ বছরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। সব পর্যায়ের যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি করা হয়েছে। 

বাংলাদেশের খবরের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন গত কয়েক দিনে অন্তত্য পক্ষে ২৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন বিষয়টি নিয়ে। তবে তারা বেশিরভাগই কমিটির কার্যক্রম সন্তোষজনক নয় বলে মত দিয়েছেন। কিন্তু নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পাবনার একটি উপজেলার কর্মকর্তা আলাপকালে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে অধ্যাবদি গত ৮ মাসে একটি বৈঠকেও তিনি যোগ দেননি।

অবশ্য ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা অন্যরা নিয়মিতভাবে বৈঠক করে থাকি। সিদ্ধান্ত হয় আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে। তাছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়গুলো অবহিত করা হয়। তিনি সব সময় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

অপরদিকে টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, গত মাসেও তিনি সভাটি করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তবে আলাপকালে বেশিরভাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকার করেন, সঠিক এবং কার্যকরভাবে বৈঠকটি করা যাচ্ছে না। বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদের একটি বৈঠকেও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে এই কমিটি জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে, মাদক, ধর্ষণ, ইভটিজিং বন্ধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ অনেক অপরাধ সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যাবে যদি মাঠ প্রশাসন ও এই কমিটি আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করে।

জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ভূমি কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তারা যেমন আছেন। তেমনি সাংবাদিক, শিক্ষক, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও রয়েছে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটিতে।      

রাজনৈতিক সরকারের হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেয় জন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসন ক্যাডারেরর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিবরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে, উপসচিবরা জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান। আর অতিরিক্ত সচিবরা নিয়োগ পেয়ে থাকেন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে। সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সেবাগুলো তারা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে।

সাবেক জনপ্রশাসন সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন,  মানুষ এখন আগের থেকে সচেতন। তার কাছে এখন অনেক পথ খোলা। তাছাড়া সরকারের মধ্যেও এক ধরনের সুশাসন প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা আনা গেলে মানুষ হয়রানিবিহীন সেবা পাবে। এসব কমিটির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার চায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকবে না। বিশেষভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নানা স্তর কঠোরভাবে সংকুচিত করা হবে। প্রশাসনের মনোভাব হবে নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্বাহী নির্দেশাবলি বাস্তবায়ন। এর মাধ্যমে সরকার জনগণের আরো কাছাকাছি আসতে চায়।

রূপকল্প-২০২১ এবং ২০৪১-এর উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে একটি দক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। সরকারের প্রচেষ্টা, তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ফলে সরকারি দপ্তরে কাজের দক্ষতা ও পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে অহেতুক কালক্ষেপণ এবং কাজের জটিলতা কমিয়ে বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই ধারাকে অগ্রসর করে নিতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads