• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
ads
বিদেশে টাকা পাচারের মচ্ছব

ছবি : সংগৃহীত

আইন-আদালত

বিদেশে টাকা পাচারের মচ্ছব

বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ঠেকাতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ঠেকাতে চায় সরকার। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ঠেকানো খুবই কঠিন। দীর্ঘদিন ধরেই এটি চলছে। নানা উদ্যোগ নিয়েও এটি ঠেকানো যাচ্ছে না। এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা অনেকে বিদেশে সরিয়ে নিচ্ছেন। বিদেশে আখের গোছাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকসহ অনেক প্রভাবশালী।

জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার ঠেকানো যাচ্ছে না। অর্থ পাচার করতে অভিনব এই কৌশল ব্যবহার করছেন অনেকে। আমরাও বিষয়টি বুঝতে পারছি। এখন অনেক ব্যবসায়ী বাংলাদেশে ব্যবসা করে বিদেশে আখের গোছাচ্ছেন। পরিবার-পরিজন বিদেশে স্থায়ী হচ্ছেন। এসব খুবই দুঃখজনক। দেশপ্রেম ও সততা না থাকাটা দুঃখজনক। এই কর্মকর্তা বলেন, এমনও হচ্ছে, কোনো পণ্যই রপ্তানি হচ্ছে না; কিন্তু রপ্তানি দেখিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। আবার আমদানি না করে ভুয়া এলসি খুলে অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এসবই অর্থ সরিয়ে নেওয়া।     

সূত্র বলছে, দেশ থেকে পণ্য রপ্তানির জন্য জাহাজীকরণের ১২০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত না আনলে রপ্তানিকারকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা করবে। এ জন্য আইনের সংশোধনী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে সে ক্ষেত্রে মামলার জন্য সরকারি গেজেট জারির প্রয়োজন হবে না। আইন লঙ্ঘনে জেল-জরিমানা কী হবে, তাও নির্দিষ্ট হচ্ছে। এ আইনে কোন ধরনের অপরাধ বিবেচনায় নেওয়া হবে, সেটাও উল্লেখ করা হচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন সংযোজন-বিয়োজনসহ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে ৭২ বছর পর বাংলায় প্রণয়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশোধিত আইনের খসড়ার ওপর মতামতের জন্য এরই মধ্যে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসার মুখে বলেছেন, তিনি ৪১ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট-বিএফআইইউ সূত্র বলছে, সংস্থাটি প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে এর পরিমাণ আরো বেশি। এলিট ফোর্স র্যাবের হাতে আটক যুবলীগের জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াও অর্থ পাচারের কথা স্বীকার করেছেন।

সংশোধিত আইনের খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় মতামতসহ সেখান থেকে যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদিত হলে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে। বাংলায় আইনের নাম হবে ‘বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১৯’। ইংরেজিতে ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭’ নামে আইনটি রয়েছে। ১৯৪৭ সালে আইন প্রণয়নের পর ১৯৭৬, ২০০৩ ও ২০১৫ সালে সংশোধনী আনা হলেও তা বাংলায় হয়নি।

বিদ্যমান আইনের ২৩(৩) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকার অনুমোদিত ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ আইনের ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বিচার করা যাবে। তবে ২৩(২) ধারায় বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এ আইনের আওতায় কোনো অপরাধের বিচার করতে চাইলে তা সরকারের গেজেট নোটিফিকেশন দ্বারা ঘোষিত হতে হবে। তবে ১৯৪৭ সালে আইন প্রণয়নের পর থেকে আজ অবধি এ-সংক্রান্ত কোনো গেজেট হয়নি। যে কারণে রপ্তানি বিল প্রত্যাবাসিত না থাকার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক গাজীপুরসহ কয়েকটি দায়রা জজ আদালতে মামলার উদ্যোগ নিলেও তা আমলে নেননি আদালত। বর্তমানে হাজার হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বিল অপ্রত্যাবাসিত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান আইনের ২৩ ধারার বিধান পুরোপুরি বিলুপ্ত করে নতুন সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের ২৩(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি এ আইনের বিধান বা আইনের আওতায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা প্রবিধান বা নির্দেশনা লঙ্ঘন বা বাধাগ্রস্ত করলে তাকে তিন লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাস থেকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যে কোনো মুদ্রা, সিকিউরিটি, স্বর্ণ বা রৌপ্য বা দ্রব্যসামগ্রী বা অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষেত্রে উক্ত লঙ্ঘন সংঘটিত হলে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল থেকে সাজার অতিরিক্ত হিসেবে তা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া যাবে। বিচারক মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিচার শেষ করবেন।  ট্রাইব্যুনাল বলতে সব দায়রা জজ আদালত এবং তার এখতিয়ারভুক্ত এলাকার এক বা একাধিক অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতকে বোঝাবে। আর কোনো ব্যাংক বা মানি চেঞ্জার প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিলে তিন লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads