• রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৬
ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে হাইকোর্টের ৯ নির্দেশনা

সংগৃহীত ছবি

আইন-আদালত

ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে হাইকোর্টের ৯ নির্দেশনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারি ২০২০

যেসব যানবাহন মাত্রাতিরিক্তি কালো ধোঁয়া ছড়াচ্ছে, সেগুলো জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইনের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক যানবাহনের ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বাহন নিষিদ্ধের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন এইচআরপিবি করা একটি রিটের সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্টে বেঞ্চ এসব নির্দেশ দেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া টায়ার পোড়ানো বা ব্যাটারি রিসাইকেলিং বন্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ অধিদপ্তরকে এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে যেসব অবৈধ ইটভাটা এখনো বন্ধ হয়নি, সেগুলা বন্ধ করে দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দিতে হবে।

ঢাকার বায়ুমান উন্নয়নে এবং জনবল নিয়োগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানাতে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপিরচালককে আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমদ রাজা ও তৌফিক ইনাম টিপু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আদেশের পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন,  ঢাকার বায়ুদূষণ বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করেছিল এইচআরপিবি। সে প্রেক্ষিতে পানি ছিটানো ও ধুলোবালি কমানোর বিষয়ে দুটো নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালত। সে অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রোববার দুটি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। এখন পর্যন্ত বায়ুদূষণে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছি। এটা নিয়ন্ত্রণে কিছু পদক্ষেপ দরকার। সে জন্য সম্পূরক আবেদনে ১২ দফা নির্দেশনা চেয়েছিলাম। তার মধ্যে আদালত নয়টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

আদালত বলেছেন, ঢাকায় যেসব ট্রাক বালি, ময়লা ও বর্জ্য পরিবহন করবে, সেগুলো যাতে ঢাকা থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণ এলাকায় বালি, সিমেন্ট মাটিসহ নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখতে হবে।  সিটি করপোরেশনের যেসব এলাকায় পানি ছিটানো হয়নি সেসব এলাকাসহ ধুলোবালিপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটাতে হবে। আইন ও দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ নিশ্চিত করতে হবে। দোকান বা মার্কেটে দিনের ময়লা-আবর্জনা বিন বা ছালায় জমা রাখতে হবে। দোকান বা মার্কেট বন্ধ করার সময় মালিকরা তা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জায়গায় ফেলার ব্যবস্থা করবেন। এ বিষয়টি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে নিশ্চিত করতে হবে। 

এই নয় দফা নির্দেশনার পাশাপাশি ১ মার্চের মধ্যে সব বিবাদীকে সেগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার  বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণের কারণ এবং এটি উন্নয়নের জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা আদালতে এসে ব্যাখ্যা দেবেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি। বিশ্বব্যাংকের নির্মল বায়ু এবং পরিবেশের যে প্রকল্প ছিল, সেখানে ৩০০ কোটি টাকার বরাদ্দ ছিল। সেগুলো কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং পরিবেশ উন্নয়নে কী ধরনের ভূমিকা রেখেছে, এতে আমরা কী ধরনের সুফল পাচ্ছি অর্থাৎ প্রকল্পের টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে তার ব্যাখ্যা দেবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads