• শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭
লালমনিরহাটে গুজব ছড়িয়ে যুবক হত্যা, গ্রেপ্তার মোয়াজ্জিম ৫ দিনের রিমান্ডে

প্রতীকী ছবি

আইন-আদালত

লালমনিরহাটে গুজব ছড়িয়ে যুবক হত্যা, গ্রেপ্তার মোয়াজ্জিম ৫ দিনের রিমান্ডে

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৫ নভেম্বর ২০২০

লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি দিয়ে রংপুরের যুবক শহিদুন্নবী জুয়েলকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার বুড়িমারী জামে মসজিদের মোয়াজ্জিম আফিজ উদ্দিনের (৫৫) ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার বিকালে আমলি আদালত-৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগম এ রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

এছাড়া প্রধান আসামি আবুল হোসেন (৪৫) রিমান্ড শেষে গতকাল শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে আমলী আদালত-২ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফাজ উদ্দিনের আদালত তার এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন। গত ৯ নভেম্বর আমলী আদালত-৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগম আবুল হোসেনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ৭ নভেম্বর সকালে আলোচিত এ ঘটনায় দায়ের ৩ মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেনকে ঢাকা কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা।

এদিকে একই মামলায় এ নিয়ে ওই ৩ মামলায় মোট ১১ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোট ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। যার মধ্যে প্রধান আসামি আবুল হোসেন ও মসজিদের খাদেম জোবেদ আলীসহ চার জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কোরআন অবমাননা হয়নি উল্লেখ করে জবানবন্দিতে তারা ব্যাপক তথ্য দিয়েছেন। যা নিয়ে মামলার পরবর্তী তদন্ত চলছে বলেও জানায় পুলিশ।

হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেন ৫দিনের রিমান্ডে তদন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। যার তদন্ত চলছে। মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত জুয়েল কোরআন শরীফ অবমাননা করেননি। তবে কোরআন রাখা সেল্ফের ফ্লোরে পা দিয়ে উপরের ফেল্ফের বই খুঁজছিলেন। পরে তাকে প্রশ্ন করলে কখনো নিজেকে ডিবি কখনো সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা পরিচয় দিচ্ছিলেন জুয়েল। জুয়েলের মানসিক বিকারগ্রস্থ্য আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকটি চড় থাপ্পর দিয়ে ইউপি সদস্যের হাতে জুয়েলকে তুলে দেন বলেও স্বীকার করেন গ্রেপ্তার প্রধান আসামি আবুল হোসেন। ইউপি ভবনের জন বিস্ফোরণ থামাতে তার প্রতিষ্ঠানের মাইক ব্যবহার করে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। তখন তিনি মাইক পাঠিয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেছিলেন বলেও দাবি করেন আবুল হোসেন। তবে এ ঘটনায় প্রধান আসামি আবুল হোসেন অনুতপ্ত বলেও জানান মামলার এ তদন্ত কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য,শহিদুন্নবী জুয়েল গত ২৯ অক্টোবর সুলতান যোবাইয়ের আব্দার নামে একজন সঙ্গীসহ বুড়িমারী বেড়াতে আসেন। বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা।

নামাজ শেষে পাঠ করার জন্য মসজিদের সানসেটে রাখা কোরআন শরীফ নামাতে গিয়ে অসাবধনাতাবশত কয়েকটি কোরআন ও হাদিসের বই তার পায়ে পড়ে যায়। এ সময় দ্রুত কোরআন ও হাদিসের বই হাতে তুলে চুম্বন করেন এবং যথা স্থানে রেখে দেন জুয়েল। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে মুয়াজ্জিনের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান যোবাইয়েরকে মারতে মারতে নিয়ে গিয়ে পাশে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন।

সন্ধ্যায় পুরো বাজারে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, কোরআন শরীফ অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। খবর পেয়ে উত্তেজিত ও বিক্ষুব্ধ কয়েকশত জনতা জড়ো হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা জানালা ভেঙে প্রশাসনের কাছ থেকে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে তারা মরদেহ টেনে হেঁচড়ে পাটগ্রাম বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা থানা পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দফায় দফায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইট পাথরের আঘাতে পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন্ত কুমার মোহন্তসহ ১০জন পুলিশ সদস্য আহত হন। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ১৭ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে পুলিশ।

পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর ও পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন এবং নিহত জুয়েলের সঙ্গী সুলতান যোবাইয়েরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads