• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
‘চিহ্ন’ কোনো সিজনাল কাগজ না : শহীদ ইকবাল

শহীদ ইকবাল

সংরক্ষিত ছবি

সাহিত্য

‘চিহ্ন’ কোনো সিজনাল কাগজ না : শহীদ ইকবাল

  • প্রকাশিত ২৮ জুলাই ২০১৮

লিটল ম্যাগাজিন উদ্ভবের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু মতবাদ বা আদর্শ। এটা এক ধরনের শিল্প বিদ্রোহ বড় কাগজের বিরুদ্ধে। সেই বিবেচনায় এটি পরিবর্তন ও বিবর্তনের আন্দোলন, কলমের আন্দোলন, চিন্তার আন্দোলন, ফর্ম ভাঙার আন্দোলন। আর এগুলোকে আত্মস্থ করেই বেশ কিছু নান্দনিক অথচ ভিন্নধারার ছোটকাগজ বাংলাদেশের লিটল ম্যাগাজিনের আন্দোলনকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। ‘চিহ্ন’ তেমনই একটি ছোটকাগজ, যে কি-না এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পাঠককে নিয়ে গেছে আমাদের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির অন্য জগতে। দৈনিক বাংলাদেশের খবর-এর পক্ষে চিহ্ন সম্পাদক শহীদ ইকবালের মুখোমুখি হয়েছেন ‘অন্য রেখা’বিভাগীয় সম্পাদক

প্রশ্ন : এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আপনি ‘চিহ্ন’ নামে একটি লিটল ম্যাগ সম্কাদনা করে আসছেন। লিটল ম্যাগকেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চাকে আপনি কীভাবে দেখেন? শহীদ ইকবাল : লিটল ম্যাগই সৎ ও পরিশুদ্ধ সাহিত্যচর্চার প্রধান জায়গা। প্রকৃত সাহিত্য সৃষ্টি করতে গেলে লিটল ম্যাগচর্চা আরো বাড়াতে হবে। এ করপোরেট যুগে সাহিত্য বাঁচাতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।  

প্রশ্ন : আপনার সময়ের লিটল ম্যাগ চর্চা আর বর্তমানে যারা লিটল ম্যাগ করছেন— এ দু’য়ের মধ্যে কোনো গুণগত কিংবা দর্শনগত পরিবর্তন বা পার্থক্য লক্ষ করেছেন কী?

শ. ই. : অবশ্যই পার্থক্য আছে। তবে আগের চেয়ে লিটল ম্যাগের দায়িত্ব এখন বেশি। তবে সব কাজই যে পুরোপুরি ভালো হবে সেটা আশা করা যাবে না। তবে অবশ্যই ভালো কাজ হচ্ছে। বলতেই হয়, ষাট বা আশির দশকের কমিটমেন্ট তো এখন নেই। ফলে হতাশা আছে। 

প্রশ্ন : একসময় লিটল ম্যাগকেন্দ্রিক লেখকদের দৈনিকের সাহিত্যপাতার প্রতি অনীহা লক্ষ করা যেত; কিন্তু আজকে আর তেমনটি পরিলক্ষিত হয় না— এর কোনো বিশেষ কারণ আছে বলে কী আপনি মনে করেন?

শ. ই. : এর কারণ একটাই— পুঁজি ও প্রতিষ্ঠার প্রতি তীব্র মুগ্ধতা। প্রযুক্তির অত্যাচারও একপ্রকার বাধা।   

প্রশ্ন : পশ্চিমবঙ্গের লিটল ম্যাগ আর বাংলাদেশের লিটল ম্যাগের চরিত্রে কিংবা চর্চার ভেতরে মৌলিক কোনো পার্থক্য রয়েছে বলে কী আপনি মনে করেন? শ. ই. : অবশ্যই। পশ্চিমবঙ্গে লিটল ম্যাগ আন্দোলন এখনো বেশ তীব্র। একটা ‘অনুষ্টুপ’, ‘অমৃতলোক’ অনেক ঈর্ষান্বিত কাগজ। তাদের কাজের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা হয়তো আছে কিন্তু তারা অবশ্যই আমাদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে প্রতি তিন বছর অন্তর চিহ্ন আয়োজিত লিটল ম্যাগ মেলা দুই বাংলাতেই আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। এর পেছনের শক্তি কী? শ. ই. : ‘চিহ্ন’কর্মীদের আন্তরিকতা ও সংগঠনের একনিষ্ঠতাই এর কারণ। তবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। এ মেলার মধ্য দিয়ে আমরা এখনো সাহিত্যের জন্য ফলপ্রসূ কিছু করার চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন ও সামর্থ্যই আমাদের মূল শক্তি।    

প্রশ্ন : চিহ্ন (চিহ্ন পুরস্কার) যে পুরস্কার প্রবর্তন করেছে, সেখানে তার অনুসন্ধিৎসু চোখ মিডিয়ার আলোয় যারা আলোকিত, সেসব লেখকের বাইরে নিভৃতচারী লেখকদের খুঁজে আনছে— এর কোনো যৌক্তিক কারণ আছে কি? শ. ই. : এটাই তো প্রকৃত কাজ বলে মনে হয়। সামাজিক দায়ও বটে। তেলে মাথায় তেল দিয়ে কী হবে?

প্রশ্ন : ‘চিহ্ন’ ছোটকাগজের পাশাপাশি ‘চিহ্ন প্রকাশনা’ সংস্থাও গড়ে তুলেছেন। চিহ্ন প্রকাশনা নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্কর্কে যদি কিছু বলেন।

শ. ই. : ‘চিহ্ন’ তো একটা স্বপ্ন-কাঠামো। লেখক-পাঠক— ‘পাগলদে’র আশ্রম। তারই অংশ হলো প্রকাশনা। এখন পর্যন্ত আমাদের চল্লিশটিরও বেশি বই প্রকাশ পেয়েছে। এবং প্রতি বছর এই রাজশাহী থেকে অন্তত তিন-চারটি বই প্রকাশিত হয়। কোনোটা সৃজনশীল, কোনোটা মননশীল। তবে আমাদের কোনো বিপণন কেন্দ্র নেই।  

প্রশ্ন : বর্তমানে অনেক ছোটকাগজই প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। একুশে বইমেলাকে সামনে রেখে নিজেরাই বের করছে নানা গ্রন্থ। এর পেছনের কারণ হিসেবে ব্যবসায়িক দিকটিই প্রধান বলে কি আপনি মনে করেন? 

শ. ই. : তা হয়তো আছে। কিন্তু ‘চিহ্ন’ কোনো সিজনাল কাগজ না। সংগঠন হিসেবেও সিজনাল না। সাহিত্যই তার সার্বক্ষণিক ধ্যানজ্ঞান এবং সাধ্যমতো সেটি প্রকাশযোগ্য করে তোলাই মুখ্য কাজ।  

প্রশ্ন : দীর্ঘদিন ধরে আপনি ‘চিহ্ন’ ছোটকাগজ সম্কাদনা করছেন। আপনি কি মনে করেন, লিটল ম্যাগ চর্চার যে দর্শন, চিহ্ন তাকে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে? শ. ই. : না, তা পারেনি। এজন্যই আমরা ‘স্নান’ নামে একটি পূর্ণ লিটলম্যাগের পৃষ্ঠপোষকতা দিই, গত নয় বছর ধরে। ‘স্নানে’র সার্বভৌম শক্তি আছে। এবং এটি পূর্ণ লিটলম্যাগ, যার ছেচল্লিশটি সংখ্যা বেরিয়ে গেছে। তবে এর কোনো সংখ্যাই দুই ফর্মার বেশি হয় না কখনো। 

প্রশ্ন : ‘চিহ্ন’ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

শ. ই. : খুব সহজ কথা। পরিশুদ্ধ সাহিত্যের একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তোলা। যার কেন্দ্র কোনো ব্যক্তি নয়, ‘চিহ্ন’ নামেই পরিচিত হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads