• রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
ডাক আসতে পারে ইন্তিফাদার

গাজার খান ইউনিসে ইসরাইলি হামলায় নিহত শিশুর লাশ নিয়ে স্বজনদের আহাজরি

ইন্টারনেট

মধ্যপ্রাচ্য

ডাক আসতে পারে ইন্তিফাদার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৬ মে ২০১৮

নাকাবা দিবসের ৭০তম পূর্তি ও জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে হতাহতের ঘটনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুরস্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়া ইসরাইলকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী সাব্যস্ত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনা হয়।

জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর এবং গাজায় ইসরাইলের গুলিতে নিহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশ। আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশও ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জেইদ রাদ আল হুসেইন ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে ঘটনা পরবর্তীতে তলব করেছে তুরস্ক। দক্ষিণ আফ্রিকাও ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার সাফাই গেয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। নিজেদের সীমান্ত রক্ষার অধিকার সব দেশেরই আছে, এমন মন্তব্য করে তিনি সীমান্তে হত্যাকে বিচারের বাইরে রাখতে চাইছেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আনীত গণহত্যার প্রস্তাব আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

অথচ দূতাবাস উদ্বোধন উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে শান্তিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র পরিপূর্ণ প্রতিশ্রুতিশীল।’ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। কিন্তু গত ডিসেম্বরে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। ওই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় গত সোমবার দূতাবাস স্থানান্তরিত হয়। ঐতিহাসিকভাবেই জেরুজালেমের ওপর ফিলিস্তিনি এবং ইসরাইলিদের দাবি আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পূর্ব জেরুজালেম একটি অধিকৃত অঞ্চল। তবে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চায় আর ইসরাইল তাতে অসম্মত। কারণ, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইহুদিরা জেরুজালেমের পশ্চিম অংশে নিষিদ্ধ ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ২৫ বছর ধরে চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং সোমবারের রক্তক্ষয়ী ঘটনা। ধারণা করা হয়েছিল, সোমবার দূতাবাস উদ্বোধনের সময় আরব বিশ্বের রাস্তায় তুমুল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা একটি দেশেও হয়নি।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিহতদের স্মরণে গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমতীরে অচলাবস্থা জারি করেছেন। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক, বেসরকারি এবং সরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ইসরাইলি স্নাইপারদের গুলিতে নিহতদের কবর দেওয়া হয়। গাজা-ইসরাইল সীমান্তে সাম্প্রতিক হতাহতের ঘটনা পশ্চিম তীর ছাড়াও ফিলিস্তিনের অন্যান্য স্থানে ইসরাইলবিরোধী কার্যক্রম উসকে দেওয়া এবং ইন্তিফাদার ডাক আসতে পারে। এবং শান্তি প্রক্রিয়া আরো ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন রাজনীতিক বিশ্লেষকরা।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ইসরাইলি হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং এই গণহত্যার জন্য ইসরাইলকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বলে অভিহিত করেন। আঙ্কারা ইসরাইল থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পরিস্থিতি প্রশ্নে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার অংশ হিসেবে। এদিকে, এক টুইটবার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় খোলা আকাশের নিচের কারাগারে যখন তারা বিক্ষোভ করছিল তখন ইসরাইলের শাসনতন্ত্র ঠান্ডা মাথায় ফিলিস্তিনে রক্ত ঝরায়। মনোযোগ সরানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ দূতাবাস স্থানান্তর উদযাপনে ব্যস্ত ট্রাম্প এবং তার আরব মিত্ররা।’

এর আগে আরব লিগের প্রধান আহমেদ আবুল ঘেইত দূতাবাস স্থানান্তর উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগদান করা রাষ্ট্রগুলোর সমালোচনা করেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্য ইয়েভেস লি দ্রিয়ান এক বিবৃতিতে দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ফ্রান্স দূতাবাস স্থানান্তরকে অনুমোদন দেয় না বলেও তিনি জানান। গত সোমবার গাজা ইসরাইল সীমান্তে প্রায় লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ করলে ইসরাইলি স্নাইপার থেকে গুলি চালানো হয়। এতে কমপক্ষে ৬০ জন নিহত ও আড়াই হাজারেরও বেশি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads