• বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৫
ads
ইয়েমেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাতিসংঘের

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্য

ইয়েমেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাতিসংঘের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৫ অক্টোবর ২০১৮

ইয়েমেনে ভয়াবহ আকারে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের হিউমেনিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্স প্রধান মার্ক লোউকক। এতে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হবে। যার মধ্যে ৫০ লাখ শিশুও রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছে। আলজাজিরার খবর।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে মার্ক লোউকক বলেন, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝিতেই ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই দুর্ভিক্ষের ফলে দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ ১ কোটি ৪০ লাখ আক্রান্ত হবে। এর মধ্যে ৫০ লাখই শিশু। অর্থাৎ একটি প্রজন্ম দুর্ভিক্ষের কারণে মৃত্যুর মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। যদি ইয়েমেনিদের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে খাবার, পানি, চিকিৎসা ও জ্বালানি সরঞ্জাম পৌঁছাতে ব্যর্থ হই, তাহলে শতকের ভয়াবহতম এ দুর্ভিক্ষের জন্য আমরা দায়ী থাকব।

খবরে বলা হয়, দেশটিতে ২০১৫ সাল থেকে চলা গৃহযুদ্ধ ও একই সঙ্গে সৌদি জোটের বিমান হামলার কারণে আর্থ-সামাজিক অবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দেশটির ১০ লাখ ৩০ হাজার সরকারি চাকরিজীবী নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। অনেকের বেতন গত দুই বছর ধরেই বন্ধ। এ অবস্থায় খাদ্যদ্রব্যের দামও ভয়াবহ আকারে বেড়েছে। গৃহযুদ্ধ শুরুর সময় থেকে এ পর্যন্ত ৬৮ শতাংশ বেড়েছে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য। বিপরীতে ইয়েমেনি রিয়ালের মান কমেছে প্রায় ১৮০ শতাংশ। গত আগস্টেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ দরপতন ঘটে এই মুদ্রার। দেশটির অন্যতম বন্দর হুদাইদাতে চলমান সংঘর্ষও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে। কারণ অধিকাংশ সাহায্য এ বন্দর হয়েই দেশটির বিভিন্² অঞ্চলে পৌঁছায়। সৌদি জোটের অবরোধের কারণেও খাদ্য সাহায্য সেখানো পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে আলজাজিরার খবরে বলা হয়।

সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী হ্যালে থ্রেনিং শ্মিট বলেন, পরবর্তী খাবার কখন বা কীভাবে আসবে তা এদেশের শিশুদের অজানা। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের একটি হাসপাতালে গিয়ে দেখি, শিশুরা এতই দুর্বল যে তারা কাঁদতেও পারছে না। গত সেপ্টেম্বরে সংস্থাটি জানায়, ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভোগা পাঁচ বছরের কম বয়সী চার লাখ শিশুকে সহায়তা দিয়েছেন তারা। তাদের অনুমান চলতি বছরের শেষের দিকেই ৩৬ হাজারের বেশি শিশুর প্রাণহানি হতে পারে।

জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৫ থেকে চলা এ যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১০ হাজার বেসামরিক মানুষ। আহত হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads