• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
পুরান ঢাকার আসন-১৮০ (ঢাকা-৭)

জনগণই প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে তাদের প্রতিনিধি

আর্ট : রাকিব

বিবিধ

পুরান ঢাকার আসন-১৮০ (ঢাকা-৭)

  • প্রকাশিত ১০ জুন ২০১৮

মোগল ঐতিহ্যসমৃদ্ধ পুরান ঢাকার আসন-১৮০ (ঢাকা-৭)

বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের সরকার— জনগণই যেখানে সকল ক্ষমতার উৎস। সংবিধানমতে, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জনগণই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে তাদের প্রতিনিধি। যিনি মহান সংসদে দাঁড়িয়ে নির্বাচিত এলাকার জনসাধারণের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কথা বলবেন এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। দেশের সাধারণ জনগণের নিজস্ব অনেক মতামত থাকে, যার সঠিক প্রতিফলন অনেক সময়ই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজেকর্মে প্রতিফলিত হয় না। সে কারণে সাধারণ জনগণ এবং বাংলাদেশের সব মানুষের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে আমাদের এক পাতা জুড়ে আয়োজন ‘খবরের কাগজে সংসদ’। এখানে রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতাকর্মীর পাশাপাশি কথা বলবেন তৃণমূল থেকে শুরু করে সংবিধান প্রণেতাসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিরা, যাদের অনেকেই হয়তো কোনোদিনই মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দেশ ও জনগণের সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা বলার সুযোগ পাবেন না। তাদের কথা তুলে ধরার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। এবারের আয়োজন ঢাকা-৭ আসন। এই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে আয়োজনটি সাজিয়েছেন আসিফ সোহান

regular_2527_news_1528559000

এক নজরে ঢাকা-৭ আসন

পুরান ঢাকার লালবাগ, চকবাজার, বংশাল ও কোতোয়ালি থানার ১৩টি ওয়ার্ড (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২,৩৩, ৩৫ ও ৩৬) নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসন। এই আসনের ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতা প্রয়াত লে. জেনারেল (অব.) মীর শওকত আলী নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সেই সংসদের মেয়াদ স্বল্পস্থায়ী ছিল। একই বছরে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন ঢাকা-৮ (বর্তমান ঢাকা-৭) আসনে জয়লাভ করেন হাজী মোহাম্মদ সেলিম। এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে পরাজিত করে বিএনপির প্রয়াত নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতস্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাজী মোহাম্মদ সেলিম আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে পরাজিত করেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে পিন্টুর স্ত্রী কল্পনা আক্তার ও ভাই নাসিম আহমেদ রিন্টুর নামও শোনা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ঢাকা-৭ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা আনুমানিক ৭৩ হাজার ৩৯৯ জন।

jalal

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন

সাবেক এমপি (আওয়ামী লীগ)

মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ১৯৫১ সালের ১৫ মার্চ পুরান ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৯৬৯ সালে বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও তুখোড় ক্রিকেটার এই ছাত্রনেতা জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস পদে নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ১৯৭১-এ ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। পরে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগ দেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক, ’৭৪-এ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, ’৭৮-এ সহ-সভাপতি এবং ১৯৮১ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৮৭ সালে আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নির্বাচনে মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে নির্বাচিত বাস্কেটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও বর্তমানে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সঙ্গে ঢাকা-৭ আসনের নির্বাচন বিষয়ে কথা বলেছেন আসিফ সোহান

বাংলাদেশের খবর : আপনি ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে রয়েছে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে বলে আপনি মনে করেন? 

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন : বাংলাদেশের রাজনীতি যেদিকে যাওয়ার কথা ছিল, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সেদিকে নিতে পারছে না। আমি একটা কথা বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দশ বছর একটানা দেশ পরিচালনা করছেন। আমরা ডাক্তারদের অনেক দাবি-দাওয়া ছিল, এখন প্রায় সবই পূরণ হয়ে গেছে। খাদ্য, বিদ্যুৎ, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ সবক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে। পদ্মা সেতু ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ-কে চ্যালেঞ্জ করে শুরু করেছেন- এখন যা দৃশ্যমান। কাজেই শেখ হাসিনা আসলে বাপের বেটিই। তিনি পারেন, তিনি পারছেন, তিনি পারবেন- এরকম একটা ডিটারমিনেশন তার মধ্যে আছে। সে কারণেই দেশ আগাচ্ছে।

বাংলাদেশের খবর : আপনি এই এলাকার জনপ্রতিনিধি থাকাকালে এমন কী উন্নয়ন করেছেন, যে কারণে জনগণ আপনাকে ভোট দেবে?

মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন : আমার এলাকায় শিক্ষার বিষয়ে মানুষ একটু অন্যরকম ছিল। মেয়েরা উপযুক্ত হলেই বিয়ে দিয়ে দিত আর ছেলেদের ঢুকিয়ে দিত ব্যবসায়। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আজিমপুর গার্লস স্কুলকে কলেজ করে দিয়েছি। এখন সেখানে মেয়েরা ভর্তি হয়ে একেবারে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারবে খুবই অল্প খরচে। এটা আমার একটা অ্যাচিভমেন্ট বলে আমি মনে করি। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন আমার সময়ে হয়েছে। রাস্তাঘাট একটু সরু হওয়ার কারণে দুটি গাড়ি পাশাপাশি চলাচল করতে অসুবিধা হতো। আমি ওয়ানওয়ে করে দিয়েছিলাম। পুরান ঢাকায় মোগলদের আমলের একটা ঐতিহ্য আছে, বিশেষ করে রমজান মাসে পুরান ঢাকার ইফতারের একটা কদর আছে।

নিউ টাউন থেকে মানুষ ইফতার নিতে এসে জ্যামে পড়ে রাস্তায়ই ইফতারের সময় হয়ে যেত। ওয়ানওয়ে করায় সেই সমস্যা ঠিক হয়ে যায় তখন। বিদ্যুতের সমস্যা নেই, চুরি-ডাকাতি পুলিশ দিয়ে কন্ট্রোল সম্ভব হয় না। আমি নিজের টাকা দিয়ে দারোয়ান রেখেছি, গেট করে দিয়েছি। এখন আল্লাহর রহমতে এসব সমস্যা আর নেই। এখন লালবাগ, চকবাজার, কোতোয়ালি ও বংশাল এলাকায় ভালো অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এখন অনেক ভালো।

বাংলাদেশের খবর : আপনার এলাকার এখন মূল সমস্যা কী? কারণ সমস্যা জানা থাকলেই কেবল সমাধান করা সম্ভব...

মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন : আমার এলাকার একটি সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। কিছুদিন পরপর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এর মূল কারণ। আমাকে মনোনয়ন দিলে আর জনগণ নির্বাচিত করলে এই এলাকায় রাস্তা কাটাকাটির বিষয়ে সিটি করপোরেশন, গ্যাস, ওয়াসা সবার মধ্যে একটা সমন্বয় করে দেব- যদি মেরামতের জন্য রাস্তা কাটার প্রয়োজন হয়, তাহলে সবার কাজগুলো যেন একসঙ্গে করে ফেলা যায়, বার বার খোঁড়াখুঁড়ি করতে না হয়। আরেকটি সমস্যা, আমাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই। বাড়ির ভেতরেই টিভি  কম্পিউটার নিয়ে থাকছে। মা-বোনদের একটু হাঁটার জায়গা নেই। আমি রহমতগঞ্জ ক্লাবে বিদেশ থেকে ঘাস এনে সুন্দর ওয়াকওয়ে বানিয়ে দিয়েছিলাম। লালবাগ কেল্লায় ওয়াকওয়ে করে দিয়েছিলাম। টিকেট করে হলেও মা-বোনরা একটু ফ্রেশ এয়ার নিতে পারে। মানুষের ডায়াবেটিস বাড়ছে, একটু হাঁটাহাঁটি খুবই দরকার।

বাংলাদেশের খবর : বিরোধী দলের বর্তমান রাজনীতি ও এলাকার প্রতিপক্ষ নিয়ে আপনার মতামত কী?

মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন : দেশ যেন একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়, সে বিষয়ে বিরোধী দলেরও চিন্তা করা উচিত। ‘বিশটা হোন্ডা, দশটা ডাণ্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা’- এ ধরনের ধ্যান-ধারণা থেকে তাদের উত্তরণ দরকার আছে। তিনবার তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে; কিন্তু দুই-একজন ছাড়া দেশ পরিচালনার সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাদের মধ্যে একদমই দেখা যায় না। এখন পরিস্থিতি এমন, কোনো আন্দোলনেই তারা রাজপথে নেই। তাদের রাজনীতি এখন ঘরে বসে আন্দোলন করছে ফেসবুকে। হরতাল ডেকে একটা ছবি তুলে ঘরে ঢুকে বসে বসে তাস খেলছে। এভাবে আন্দোলন হয় না। আমরা করিনি? সবই আমরা করেছি। মিছিল আন্দোলন কোনো কিছুতেই তারা নেই। রাজপথে আন্দোলন, জেল খাটা এসব রাজনীতিরই অংশ। দলের জন্য কষ্ট করার মানসিকতা তাদের কারোর মধ্যে নেই। এভাবে রাজনীতি হয় না।

বাংলাদেশের খবর : আমাদের ‘খবরের কাগজে সংসদ’ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে একটি সার্ভে টিম কাজ করে। এই টিম এলাকার সব শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে একটি রিপোর্ট তৈরি করে। তাতে যেসব সমস্যা উঠে আসে, মূলত সেগুলো নিয়েই আমরা কথা বলি। আজিমপুর-লালবাগ এলাকার যেসব সমস্যার কথা সবাই বলেছেন, সেগুলো হচ্ছে- অবৈধ বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত দখল করে বাজার, দোকানপাট, ব্যাটারিচালিত অবৈধ থ্রি হুইলার। কম বেতনে ১২ থেকে ১৫ বছরের ছেলেদের ড্রাইভার রাখে। এরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। ফলে দুর্ঘটনা  ঘটছে। আজিমপুর গার্লস স্কুলের সামনে এখন বাসস্ট্যান্ড, শত শত বাস টেম্পোর আস্তানা। সঙ্গত কারণেই বখাটেদের আড্ডা।

এলাকার কোনো বাবা-মা মেয়েকে আর এই স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না। ছাপড়া মসজিদের সামনে থেকে মেটারনিটি হাসপাতাল পর্যন্ত ফুটপাতে বসানো দোকানে লাখ টাকা আয়ের আধিপত্য নিয়ে খুনোখুনির ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, কে এমপি হবেন জানি না কিন্তু এসব সমস্যার সমাধান চাই। আপনি কী মনে করেন?

মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন : এলাকাবাসীর দাবি মোটেও অযৌক্তিক নয়। আমিও এমপি থাকার সময় চেষ্টা করেছিলাম বাসস্ট্যান্ড তুলে দিতে। সব ঠিক হয়েছিল কিন্তু সময়ের অভাবে আর করতে পারিনি। আসলে এখানে অ্যাক্সিডেন্ট হয়। আজিমপুর গার্লস স্কুলের মেয়েরা চলাফেরা করে। এখনো আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমার গাড়িও একবার সেখানে অ্যাক্সিডেন্টের কবলে পড়েছিল। যেভাবে বাস চলাচল করে, তাতে দুর্ঘটনা ঘটার সমূহ আশঙ্কা থাকে। স্কুলের সামনে পুরো রাস্তাজুড়ে বাস পার্ক করে রাখা হয়। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এর অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। আল্লাহর রহমতে আমি যদি এবার নির্বাচিত হই, এটাকেই আমি আমার প্রথম কেস হিসেবে নেব। যে কোনো মূল্যে এই বাসস্ট্যান্ড আমি তুলে দেব। বিসমিল্লাহ বলে এই কাজটি আমি আগে ধরব ইনশাল্লাহ।

selim

হাজী মোহাম্মদ সেলিম এমপি

(স্বতন্ত্র)

১৯৯৬ সালে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই হাজী সেলিম পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচন হন। এর আগে দুবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন লাগবাগের একটি ওয়ার্ড থেকে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ঢাকায় আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকেন তিনি। পুরান ঢাকার রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। এরপর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে পরাজিত করে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হন। মদিনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী মোহাম্মদ সেলিম ঢাকা-৭ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রথমবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন লাভ করেন এবং বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য। হাজী সেলিম ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদের জন্য নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের উদ্দেশ্যে স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের কাছে পদত্যাগপত্রও জমা দেন; কিন্তু তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। আইন অনুযায়ী, কোনো এমপি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে সংসদে তার আসন ছেড়ে দিতে হয়। যে কারণে হাজী সেলিম সে সময় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেও আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোয় আর জমা দেননি। কারণ আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে মেয়র নির্বাচনে ঢাকা সিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খোকনকে দলীয় সমর্থন ঘোষণা করে। এর পরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাজী মোহাম্মদ সেলিম চিকিৎসার জন্য ভারতে চলে যান এবং পরে আজমীর শরিফ জিয়ারত করে বাংলাদেশে ফেরেন।

বর্তমানে ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের এই প্রতাবশালী নেতার শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতির মাঠে তাকে আর ততটা দেখা যাচ্ছে না। শারীরিক অসুবিধার কারণে ঠিকমতো গুছিয়ে কথা বলতে পারেন না। তবে প্রবল মানসিক শক্তি আর মনোবলের কারণে তিনি আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের এই আয়োজনের মূল বিষয় জনগণের কাছে তাদের প্রতিনিধিদের উন্নয়ন কার্যক্রম ও জবাবদিহিতা তুলে ধরা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাংবাদিকদেরও এড়িয়ে চলছেন। তবু দীর্ঘ ২৫ বছরের সম্পর্কের কারণে ঢাকা-৭ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম এমপি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশের খবরের বিশেষ প্রতিনিধি আসিফ সোহানের সঙ্গে। শারীরিক অসুস্থতা আর বাকশক্তির সমস্যার কারণে জবাব দিতে কষ্ট হওয়ায় প্রশ্নের উত্তরগুলো লিখিত দিয়েছেন, যা হুবহু তুলে ধরা হলো

বাংলাদেশের খবর : আপনি কি এবার নির্বাচনে অংশ নেবেন?

হাজী মোহাম্মদ সেলিম : অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইব। আমি আশা করব, যেহেতু আমি প্রমাণ করতে পেরেছি, বিগত সময়ে যিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি আওয়ামী লীগকে এই আসন উপহার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। অতএব আমি এবার পাব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকা-৭ আসন উপহার দেব।

বাংলাদেশের খবর : আপনাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে- এটি আপনি কেন আশা করছেন?

হাজী মোহাম্মদ সেলিম : দেখুন, আমি এ এলাকার মানুষ। আমার শিকড় এখানে। এলাকার মানুষ চায় এমন একজন তাদের প্রতিনিধি হবে, যে হবে তাদের মনের মানুষ। যে তাদের মন বোঝে- সে-ই এ এলাকায় ভোট পাবে এটাই আসল কথা। বাকি সব নকল। নকল মানুষ আমার লালবাগ, হাজারীবাগ, কোতোয়ালি এলাকা পুরান ঢাকার মানুষ পছন্দ করে না। এ এলাকার মানুষ নিজেরা যেমন আসল, পছন্দও করে আসল। আমি সিটি করপোরেশনের মনোনয়নপত্র কিনেছিলাম। আমাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে অনুরোধ করা হয়েছে, আমি করিনি। কাজেই এবার আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে- এটা আমি আশা করি।

বাংলাদেশের খবর : গত নির্বাচনে আপনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে পরাজিত করেছিলেন। নির্বাচনে জিতে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এটা আওয়ামী লীগেরই জয় হয়েছে, শুধু নৌকার মাঝি বদল হয়েছে। এ কথা দিয়ে আপনি কী বোঝাতে চেয়েছিলেন?

হাজী মোহাম্মদ সেলিম : আমি নিজেকে সবসময় আওয়ামী লীগেরই  মনে করি। যতদিন বাঁচব ইনশাল্লাহ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবেই দলের পাশে থাকব, এটা আমার পরিবার। কোনো কারণে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি বলেই কি আমি পরিবার ছেড়ে দেব? মা-বাবা তো অনেক সময় দুই সন্তানের মধ্যে কখনো এক সন্তানকে কখনো অন্য সন্তানকে বেশি আদর করে। তাই বলে কি সন্তানের কাছে বাবা-মা পর হয়ে যায়? আমি প্রমাণ করেছিলাম আমি ভালো সন্তান। তাই বলেছিলাম, এটা নৌকারই জয় হয়েছে, শুধু মাঝি পরিবর্তন হয়েছে। আমি কি ভুল বলেছিলাম?

বাংলাদেশের খবর : না, আপনি ঠিকই বলেছেন। বর্তমান শারীরিক অবস্থায় কি আপনি নির্বাচন করতে পারবেন?

হাজী মোহাম্মদ সেলিম : আপনি তো এখন আমার সঙ্গে কথা বলছেন। আমাকে দেখে কি আপনার মনে হচ্ছে আমি নির্বাচন করতে পারব না? হ্যাঁ, এটা ঠিক আমার শরীর কিছুটা খারাপ। চিকিৎসা চলছে, ইনশাল্লাহ নির্বাচন পর্যন্ত আমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আপনাদের মাঝে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়ব। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার এলাকার মানুষ ও দেশের সবার কাছে আপনাদের পত্রিকার মাধ্যমে আমি দোয়া চাইছি, আমার জন্য আপনারা দোয়া করবেন।

বাংলাদেশের খবর : এবার যদি আওয়ামী লীগ থেকে আপনাকে মনোনয়ন দেওয়া না হয়, তাহলে কি বিগত সময়ের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন?

হাজী মোহাম্মদ সেলিম : এবার দল আমাকে মনোনয়ন দেবে ইনশাল্লাহ, কারণ আমার এলাকার মানুষ যেমন খাঁটি, তেমনি খাঁটি মানুষ তাদের পছন্দ। তাই আমি জয়লাভ করেছিলাম। এবারো করব আল্লাহর রহমতে। তাই আমি জানি আমিই মনোনয়ন পাব। এ মুহূর্তে এর থেকে বেশি আর কিছু ভাবতে চাই না, শুধু আমার জন্য দোয়া করবেন।

বাংলাদেশের খবর : ২০০১ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নির্বাচনী অনুষ্ঠানে আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনার মিছিলে নাইন শুটার হাতে এক সন্ত্রাসীর ছবি পত্রপত্রিকায়  ছাপা হয়েছিল। আপনার জবাব ছিল, ‘নাইন শুটার নাইন শুটার শুধু বলছে, পুলিশ যদি দেখেই থাকে তবে অ্যারেস্ট করল না কেন?’ এখন অনেক দিন পার হয়েছে, দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে, এখনো আপনাকে সন্ত্রাসীদের মদতদাতা মনে করে অনেকে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখবেন?

হাজী মোহাম্মদ সেলিম : তখনো যেমন বলেছি, এখনো তেমনি বলব- কোথায় কাকে মদত দিয়েছি, এরকম কি কেউ দেখাতে পারবে? শুধু কিছু মানুষ এরকম বলেই যাবে, একটা মানুষ কখনো সবার মন জয় করতে পারে না। আওয়ামী লীগ সরকার কত ভালো কাজ করেছে, আমরা রাজাকারদের ফাঁসি দিয়েছি, দেশের জনগণ সবাই খুশি হয়েছে, যাদের বিচার করেছি তারা তো খুশি হবে না। নিন্দা করবে, করুক কি আসেযায়। জনগণ কী মনে করল সেটা দেখতে হবে। আমি সন্ত্রাসীদের মদত দিলে কি আমার এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করত? করত না।

বাংলাদেশের খবর : বিএনপির প্রতিপক্ষ আপনার এলাকায় কতটা শক্তিশালী? 

হাজী মোহাম্মদ সেলিম : আমার এলাকায় আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই নেই। আমি যতদিন বেঁচে আছি, ঢাকা-৭ আসনটি ততদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়ে যেতে পারব ইনশাল্লাহ। বাকি আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। 

akther

মো. আখতার হোসেন

(আওয়ামী লীগ)

মো. আখতার হোসেন- ১৯৮০ সালে ছাত্রলীগের মাধ্যমে প্রথম রাজনীতি শুরু হয়। এরপর তিনি লালবাগ থানা ছাত্রলীগ ও ঢাকা কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া জড়িত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে। ১৯৯২ সালে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন। ১৯৯৪ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের উপকমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। লালবাগে আওয়ামী লীগের মিছিলমিটিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি ছিলেন সব সময় সক্রিয়। ২০০৭-এর ১/১১ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনের বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য মনোনয়ন চেয়েছিলেন এবারো প্রত্যাশা করছেন। নির্বাচনের নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন আসিফ সোহান

বাংলাদেশের খবর : আপনি কেন আশাবাদী যে, সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পাবেন? এর আগে কি আপনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন নাকি এবারই প্রথম?

মো. আখতার হোসেন : হ্যাঁ, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। ২০০৮ সালে আমি চাইনি, কারণ যখন নেত্রী ৩ নাম্বারে এলেন তখন আমাকে বললেন, ৩ নাম্বারে থেকে নির্বাচন পরিচালনা কর। আমি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছিলাম এবং দাখিলও করেছিলাম। আমাকে তখন মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এবার আমি ফিল্ডে আছি। তরুণ সমাজ এবং লালবাগের ৭০ ভাগ ভোটার আমার সঙ্গে আছে। এবার আশা করি নেত্রী আমাকে ফেরাবেন না, কারণ নেত্রীর দুঃসময়ে আমি ছিলাম।

বাংলাদেশের খবর : বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাজী সেলিম জয়লাভ করেন। তারপর তিনি অসুস্থ হয়ে গেছেন। পরিষ্কার করে বলতে গেলে ঢাকা ৭ আসন এখন একটি অভিভাবকহীন এলাকা। আপনি যেহেতু নির্বাচন করতে চাইছেন, আপনার কি পরিষ্কার ধারণা আছে- এই এলাকার মূল সমস্যাগুলো কী কী?

মো. আখতার হোসেন :  অবশ্যই আছে। আশির দশকে যে সমস্যা ছিল এখনো সেই সমস্যায় জর্জরিত জনগণ। জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। এটাই মূল সমস্যা। পানির সমস্যা আছে। সেই নোংরা পানি খেতে হচ্ছে। গ্যাসের সমস্যাও আছে। এগুলো তো দৃশ্যমান। এগুলো সমাধানে কেউ কাজ করেনি। এখন সেই কাজগুলোই করতে হবে। জনগণকে যদি নাগরিক সেবা দিতে না পারি, তবে কেন আমি সংসদ সদস্য হব। তারাই বা আমাকে কেন নির্বাচন করবে যদি আমি তাদের পাশে না দাঁড়াতে পারি। এলাকার জনগণের সুবিধা-অসুবিধা যদি আমি না দেখি, তবে কেন আমাকে তারা ভোট দেবে। কাজেই জনগণ আমার সঙ্গে আছে বলেই আমি শতভাগ আশাবাদী, আমাকে মনোনয়ন দিলে জয়লাভ করব। আমি একটা ভোট বিপ্লব ঘটাতে পারব।

বাংলাদেশের খবর : আজিমপুর গার্লস স্কুলের ঠিক সামনে এখন একটা বাসস্ট্যান্ড হয়েছে। যে স্কুলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পড়াশোনা করেছেন। সেই স্কুলে এখন কোনো বাবা-মা আর তাদের মেয়েকে পাঠাতে নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। যেহেতু পুরো এলাকা এখন বাসডিপো আর বাসস্ট্যান্ড। সঙ্গত কারণে মাদক আর বখাটেদের আড্ডা স্কুলের চারপাশ জুড়ে, লেগুনা চলছে খেয়াল খুশিমতো। পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে সংবাদ হলেও কোনো পরিবর্তন নেই। সরকারের ক্ষমতার ছায়াতলে থাকা কিছু দুর্বৃত্তের কারণেই এগুলো হয়- যা মূলত ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে। আপনার দল ক্ষমতায়, আপনার পক্ষে কি এটা বন্ধ করা সম্ভব?

মো. আখতার হোসেন : আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগুলো বন্ধের চেষ্টা করব। কারণ আমার কথা সবই আপনি বলে দিয়েছেন আমি কী বলব। ছত্রছায়া, শেল্টার সবই বলে ফেলছেন। আমার আর এর বাইরে বেশি কিছু বলার নেই। আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।

বাংলাদেশের খবর : আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তাকে না দিয়ে কেন আপনাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে?

মো. আখতার হোসেন : মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অযোগ্য- এটা আমি বলব না। তিনিই যোগ্য। কিন্তু এখানে কথা রয়েছে। এখানে অনেক ব্যাকগ্রাউন্ডওয়ালা জাতীয় নেতা আছেন। ড. কামাল হোসেন আছেন। জাতীয়ভাবে তার মূল্যায়ন আপনি ফেলে দিতে পারেন না, কিন্তু নির্বাচনে দাঁড়ালে পাস করতে পারেন না। কেন পাস করেন না, এগুলো কিন্তু খুঁটিয়ে দেখতে হবে। নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলা বা সমস্যা এখানে রয়ে গেছে, যে কারণে তিনি পাস করতে পারেন না। কাজেই এটার মূল্যায়ন জনগণ করে।

বাংলাদেশের খবর : এলাকার জনগণের কাছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী আপনার?

মো. আখতার হোসেন :  আমি নেত্রীর পাশে থেকে রাজনীতি করেছি এবং তার কাছ থেকে শিখছি জনগণকে কীভাবে সেবা দিতে হয়। আমি এখনো শিখছি, কীভাবে তিনি দেশের মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি চেষ্টা করব জনগণকে শতভাগ সেবা দেওয়ার। আমি সেই চেতনা ধারণ করি বলেই বুঝি। আমি নিজেও একজন ভুক্তভোগী, বৃষ্টি হলে হাঁটু পানিতে ডুবে রাস্তা পার হই। আমি গুলশান বা ধানমন্ডি থেকে এসে প্রার্থী হইনি। এই এলাকার সমস্যা জানি বলেই জনগণকে চাইতে হবে না, আমি নিজ থেকে এগুলোর সমাধান করব।

regular_2527_news_1528559028

মোশাররফ হোসেন খোকন

(বিএনপি)

আলহাজ মো. মোশাররফ হোসেন খোকন। ১৯৬১ সালে লালবাগের পৈতৃক নিবাসে জন্ম। পিতা হাজী দেলোয়ার হোসেন। মা হাজী সালেহা খাতুন। পেশা : ব্যবসা। বিএনপির সঙ্গে জড়িত কিশোর বয়সেই। স্থানীয় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সহ-সভাপতি। দলীয় আদর্শ আর কর্মসূচি বাস্তবায়নে সফল ভূমিকা রাখায় দল তাকে কমিশনার পদে মনোনীত করেছেন দু’দফায়। দুই যুগের বেশি সময়ের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার খোকন এবার ঢাকা-৭ আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই আসনের সংসদ সদস্য ছাত্রনেতা মরহুম নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর অবর্তমানে আলোচনা-সমালোচনা ছাপিয়ে তিনি অন্যতম অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী নির্বাচন, দলীয় মনোনয়ন, আসন উদ্ধার, সংগঠন, আন্দোলন এবং নির্বাচনী এলাকার সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের খবরকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার আফজাল বারী        

বাংলাদেশের খবর : কমিশনার থেকে সংসদ সদস্য। দলের কাছে এর আগে মনোনয়ন চেয়েছিলেন কি? 

মোশাররফ হোসেন খোকন : ২০০১ সালে চেয়েছিলাম। পিন্টু আমাকে বড় ভাই হিসেবেই মানতো। ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে বলেছিল, ‘ভাই এবার আমি নির্বাচন করি, পরবর্তীতে আপনি।’ এটা ম্যাডামও (খালেদা জিয়া) জানেন। পিন্টু বেঁচে থাকলে সে আমার জন্যই ম্যাডামের কাছে সুপারিশ করত। তার স্ত্রী কল্পনার সঙ্গেও আমার যোগাযোগ আছে। যখন কমিশনার ছিলাম, তখন দায়িত্ব-অধিকারের পরিসর ছোট ছিল। ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারিনি। তাই সেবার ইচ্ছা থেকেই সংসদ নির্বাচন করতে চাই। সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকাও বড়, বরাদ্দ এবং দায়িত্বও বেশি।

বাংলাদেশের খবর : দল কেন মনে করবে আপনি প্রার্থী হিসেবে যোগ্য?

মোশাররফ হোসেন খোকন : দেখুন, সবকিছুই দলের জন্য করেছি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন দল গঠন করেন, তখন থেকেই আমি বিএনপির কর্মী। দল আমাকে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেয়। মানুষের পাশে থাকি। এই এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই আমাকে, আমার ছেলেদের আসামি করা হয়। কম্পিউটারে আসামিদের নাম লেখাই আছে। ৩২টি মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হয়েছে অনেকবার। আসন উদ্ধার করতে হলে আদি ঢাকাইয়া পোলা, স্থানীয় লোক লাগবে।

বাংলাদেশের খবর : জনপ্রতিনিধি থাকাকালে কী ধরনের উন্নয়ন করেছেন?

মোশাররফ হোসেন খোকন : বৃহত্তর লালবাগ পানির নিচে ছিল। বড় রাস্তা ছিল না। নৌকায় ঘুরে ঘুরে ভোট চেয়েছি। কমিশনার পদে নির্বাচন করার সময় বলেছিলাম, আমাকে ভোট দিন। এবার নৌকায় চড়ে এসেছি, রাস্তা করে সামনের নির্বাচনে গাড়ি চালিয়ে আসব। দেখেছেন- মাঝে মাঝে আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে যেত, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে পারত না কারণ যাওয়ার রাস্তা ছিল না। খেলার মাঠ, মিনি স্টেডিয়াম, ৩২টি রাস্তা, পানির পাম্প, মাতৃসদন, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজ, ব্যায়ামাগার, কমিউনিটি সেন্টারসহ সুয়ারেজ লাইন নির্মাণ করেছি। চাঁদাবাজ, মাদক-সন্ত্রাস ছিল না। মানুষ শান্তিতে ছিল। উন্নয়ণের জন্য জমির দাম বেড়েছে, মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে।  অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তা করেছি, তখন মানুষ বলত - ‘এটা কোন কমিশনারের পাল্লায় পড়লাম।’ এখন তারাই বলে, ভাই আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে দিয়েছেন। তারা এখন এমপি হিসেবে চায়।

বাংলাদেশের খবর : ঢাকা-৭ আসন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

মোশাররফ হোসেন খোকন : এই এলাকার মানুষের কষ্ট কমেনি বরং আরো বেড়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ খুবই সামান্য। খাবার পানির লাইন আর মলমূত্রের লাইন একাকার। মানুষ বোতলের পানি কিনে খান। ব্যবসায়িরা সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ আতঙ্কে থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম। শিক্ষা, গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানি, জননিরাপত্তার অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন করব। 

বাংলাদেশের খবর : আপনার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তার থেকে আপনি কোন দিক থেকে এগিয়ে আছেন বলে মনে করেন?

মোশাররফ হোসেন খোকন : তারা (আওয়ামী লীগ) তো নিজেরাই মারামারিতে ব্যস্ত। দ্বন্দ্ব তাদের চিরসঙ্গী। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। কারণ তারা তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। উন্নয়নের বদলে লুটপাট করেছে। গত ১০ বছরে তাদের শাসনে মানুষ অতিষ্ঠ। নিরপেক্ষ ভোট হলে তাদের বারোটা বাজবে।

বাংলাদেশের খবর : বিএনপিতেও তো পিন্টু-খোকন গ্রুপ আছে।

মোশাররফ হোসেন : না, বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই। কারণ কেন্দ্রে দ্বন্দ্ব নেই। সবাই খালেদা জিয়ার অনুসারী। যে যার গ্রুপই করুক, দিন শেষে ভোট ধানের শীষেই পড়ে।   

বাংলাদেশের খবর : আপনার দল খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করছে? আপনি কী মনে করেন?

মোশাররফ হোসেন খোকন : দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাব না। নির্বাচন হতেও দেব না। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না খুলনা তার প্রমাণ। গাজীপুরেরটা দেখে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেবে। ঈদের পরে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের আন্দোলন শুরু হবে।

বাংলাদেশের খবর : দল ও আসনের মানুষের প্রতি আপনার আহ্বান কী?

মোশাররফ হোসেন খোকন : দলের প্রতি আহ্বান, এই আসন উদ্ধারে একজন আদি ঢাকাইয়াকে মনোনীত করুন। পুরান ঢাকার মানুষ বহিরাগত নয়, আত্মার আত্মা খোঁজে। তাদের সন্তানদেরই নেতা-এমপি বানায়। এলাকাবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি- কমিশনার হয়ে যে উন্নয়ণ করেছি, নির্বাচিত হলে ১৩ গুণ বেশি উন্নয়ন ও সেবা করব।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads