• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উঠতে পারে তিস্তা ও ইলিশ

‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

শান্তিনিকেতনে হাসিনা-মোদি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ২৫ মে

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উঠতে পারে তিস্তা ও ইলিশ

  • অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
  • প্রকাশিত ১৮ মে ২০১৮

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে প্রায় ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। নবনির্মিত এই ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে ঘিরে আয়োজন চলছে হাসিনা-মোদি বৈঠকের। শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠেয় দুই নেতার বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত থাকতে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দুই নেতার এই বৈঠকে ‘তিস্তা পানি চুক্তির’ অমীমাংসিত বিষয়টি সুরাহা করতে চাইবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে জাতীয় মাছ ‘ইলিশ’ পুনঃরফতানির প্রসঙ্গ তুলতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা আভাস দিয়েছেন।

আগামী ২৫ মে বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি।  কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানের পরই হাসিনা-মোদির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে যুক্ত হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

বাংলাদেশ সরকার বলছে, ‘তিস্তার পানি’ এলে পশ্চিমবঙ্গে ‘পদ্মার ইলিশ’ যাবে। সোজা কথায় ‘তিস্তার পানি দাও’ বিনিময়ে ‘ইলিশ নাও’। এ বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।  

ভবন উদ্বোধন ঘিরে কলকাতার বাংলাদেশের উপদূতাবাসকে সঙ্গে নিয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করছে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সঙ্গে রয়েছে সংস্কৃতি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মসূচি ঠিক করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে থাকছেন একাধিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সরকারি কর্মকর্তা ও ৫০ জন বুদ্ধিজীবী। পাশাপাশি থাকবেন ৮০ সাংবাদিকের বহর। এই সফরকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নয়াদিল্লি। ধারণা করা হচ্ছে, দু’দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বেশকিছু দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে জট খুলতে পারে এ সফরে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিষয়গুলো দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা শুধু ভবন উদ্বোধনের বিষয়ে কাজ করছি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে দুই নেতার উপস্থিতি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে এখন যে পরিমাণ ইলিশ উৎপাদন হয় তাতে অনায়াসে রফতানি করা যায়। এ ছাড়া কলকাতায় পদ্মার ইলিশের চাহিদাও ব্যাপক।

কলকাতার সংবাদমাধ্যম বলছে, শেখ হাসিনার সফর ঘিরে বহু প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে রাজ্যের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের। তাদের আশা, আবার হয়তো বাংলাদেশের রুপালি ইলিশ পাওয়া যাবে কলকাতার বাজারে। ২০১২ সাল থেকে পদ্মার ইলিশের স্বাদ থেকে পশ্চিম বাংলার ভোক্তারা বঞ্চিত।

ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, কলকাতার বাঙালিরা এখন পদ্মার ইলিশ পাচ্ছে না। বার্মার (মিয়ানমার) ইলিশ নিয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। 

পদ্মার ইলিশ সত্যি সত্যি কলকাতায় রফতানি হবে কিংবা শেখ হাসিনার আসন্ন কলকাতা সফরে বিষয়টি উঠবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, উৎপাদন যেভাবে বেড়েছে তাতে ইলিশ দেওয়া যেতেই পারে। তবে ইলিশ এখনই কলকাতায় রফতানি করা হবে কি না সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ইলিশ উৎপাদনে আমরা এত বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছি যে অন্য দেশেও এ মাছ রফতানি করতে পারি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads