• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
তিস্তা নিয়ে মমতার প্রস্তাবই বিজেপির চিন্তায়

তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিকল্প প্রস্তাব ভেবে দেখছে বিজেপি

সংরক্ষিত ছবি

জাতীয়

সংবাদ সম্মেলনে সুষমা স্বরাজ

তিস্তা নিয়ে মমতার প্রস্তাবই বিজেপির চিন্তায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৯ মে ২০১৮

তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিকল্প প্রস্তাব ভেবে দেখছে বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টি)। গতকাল সোমবার ভারতের নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘তিস্তা চুক্তি শুধু ভারত আর বাংলাদেশ— এই দুই সরকারের বিষয় নয়, পশ্চিমবঙ্গও সেখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পক্ষ। সেজন্যই আমরা বার বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনার কথা বলছি।’

সুষমা আরো বলেন, ‘গত বছর শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটাকে কাজে লাগানো যায় কি না, তা-ই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ ওই প্রস্তাবটা ছিল তিস্তা বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের আরো দু-তিনটি নদী (যেমন মানসাই, ধরলা, জলঢাকা বা শিলতোর্সা) থেকে একই পরিমাণ পানি বাংলাদেশে পাঠানো।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওই নদীগুলোর পানি ভাগ হলে তাতে তারা (বাংলাদেশ) পানিও পাবে, তিস্তাও বাঁচবে। এখন কেন্দ্রীয় সরকারের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় ও রাজ্য সরকার মিলে সেই প্রস্তাবের ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে, যদিও আমরা সেই রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি।’

গত বছরের এপ্রিলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদেই তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা। সুষমা স্বরাজ অবশ্য এটাও দাবি করেছেন, মোদির দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমি এটাও বলব, আমাদের সরকারের মেয়াদের তো পুরো এক বছর এখনো বাকি, আমাদের আগেই ফেল করিয়ে দিচ্ছেন কেন? এক বছর বাকি থাকতেই আমাদের বিফল ঘোষণা না করে বরং একটু ধৈর্য ধরুন, আমরা কিন্তু এটার পেছনে লেগে আছি!’

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমারের ভূমিকার সমালোচনা করে এ দিন একটি কথাও বলেননি সুষমা স্বরাজ। বরং বিস্তর টালবাহানার পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্য থেকে তারা যে মাত্র ১ হাজার ২০০ লোককে ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে, সেটাকে তিনি বিরাট গুরুত্বপূর্ণ একটা অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সুষমা বলেন, ‘আমি কদিন আগেই অং সান সু চির (মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর) সঙ্গে দেখা করে এলাম। তার আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীও এখানে ঘুরে গেলেন। তারা দুজনই আমাকে দু’দেশের মধ্যকার প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে বলেছেন। আমি খুব খুশি যে মিয়ানমার এরই মধ্যে ১ হাজার ২২২ জনকে যাচাই-বাছাই করে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়ে গেছে। হয়তো এটা আকারে খুব ছোট পদক্ষেপ (বেবি স্টেপ), কিন্তু ফেলনা তো নয়!’

এই সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকেই যে ভারত একরকম মিয়ানমারের পক্ষ নিয়ে চলছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আপনারা কোথা থেকে এসব শুনতে পান জানি না। তবে আমরা এই ইস্যুতে মিয়ানমারকে সমর্থন করছি, বাংলাদেশ কিন্তু কখনো একবারের জন্যও আমাদের এমন কোনো অভিযোগ করেনি।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads