• সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৫
ads
রাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শিক্ষকরাও

কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকরাও

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

রাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শিক্ষকরাও

কোটা সংস্কার

  • রাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৪ জুলাই ২০১৮

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরতদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকরাও। তবে তাদের খালি পায়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে প্রক্টরিয়াল বডি উপস্থিত হয়ে তাদের চলে যেতে নির্দেশ দেন। এ সময় গত সোমবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেন তারা। প্রক্টর শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো লিখিত আকারে চেয়ে অবস্থানস্থল থেকে চলে যেতে ধমক দেন।

তবে প্রশাসনের বাধার মুখেও শামসুজ্জোহা চত্বরে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা চত্বরে আসতে থাকেন। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জোহার মাজারে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর শিক্ষকদের সঙ্গে সেখান থেকে তাদের চলে যেতে অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপির কয়েকজন শিক্ষক কয়েক মিনিট নীরবতা পালনের নাম করে এখানে অবস্থান করেন। পরে বিভিন্ন উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে ছাত্রদের জড়ো করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমরা তাদের সরিয়ে দিতে সক্ষম হই।’

কর্মসূচিতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. সালেহ হাসান নকীব, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. আকতার বানু, আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসুদ, ফার্মেসি বিভাগের বায়তুল মোকাদ্দেছুর রহমান, কম্পিউটর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলামসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।

ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘আমাদের দুঃখবোধ থেকে আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। বিবেকের তাড়নায় এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। বর্তমানে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা হচ্ছে, তা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। সভ্য সমাজে পেশিশক্তি কখনোই কোনো ইস্যুকে হ্যান্ডেল করার এখতিয়ার রাখে না।’

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান ফেসবুক স্ট্যাটাসে খালি পায়ে অবস্থানের ঘোষণা দেন। তবে এদিন তিনি অবস্থানস্থলে আসতে পারেননি। তাকে আসতে বাধা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি বিএম মাহবুবুর রহমান। অধ্যাপক মাহবুবুর বলেন, ‘ফরিদ উদ্দিনের বিষয়ে ওপর থেকে রিপোর্ট এসেছিল। তিনি খালি পায়ে প্রতিবাদ জানালে খারাপ একটা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা হতো, তাকে নিয়ে আমরা বিপদে পড়তাম। তাই বিভাগ থেকে তাকে যেতে দেওয়া হয়নি।’

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে অবস্থান নেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads