• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
আশা ফিরেছে রোহিঙ্গাদের

মিয়ানমারে নির্যাতনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা

সংরক্ষিত ছবি

জাতীয়

আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সফর

আশা ফিরেছে রোহিঙ্গাদের

  • মাহমুদুল হক বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৪ জুলাই ২০১৮

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের পর বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ। এখানে আশ্রয় শিবিরে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হলেও ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা। এ অবস্থায় প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তিতে আশা দেখেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের দীর্ঘসূত্রতা, রাখাইনে শিবির নির্মাণ ও নিরাপত্তা-নাগরিকত্বের বিষয়ে অস্পষ্টতায় দিন দিন তাদের দুশ্চিন্তা আরো বাড়ছে। তবে সম্প্রতি কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রধানদের আগমন ও বক্তব্যে অনিশ্চয়তার মেঘ অনেকটাই কেটেছে রোহিঙ্গাদের। নতুন করে নিজ দেশে ফেরা ও নিরাপত্তা পাওয়ার আশায় প্রাণচাঞ্চল্য এসেছে প্রতিটি আশ্রয় শিবিরে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে গতকাল মঙ্গলবার ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। কুতুপালং শিবিরের ডি-৫ ব্লকে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন এমন কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আমাদের দুর্দশার কথা শুনে মর্মাহত হয়েছেন। রোহিঙ্গা নারীদের ওপর চালানো পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা ও শিশুদের অবস্থা দেখে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ নূর ও মো. শরিফ জানান, নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমারের ওপর বিশ্বনেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

কুতুপালং শিবিরের হেড মাঝি আবু ছিদ্দিক (৫৫) জানান, তারা ২০১২ সাল থেকে এই শিবিরে রয়েছেন। দেশি-বিদেশি অনেক রাষ্ট্রপ্রধানসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল শিবিরটি ঘুরে গেছে। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় অনেকেই আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু গত সোমবার শিবির পরিদর্শন শেষে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। মিয়ানমারকে তাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে। তার এমন বক্তব্যে শিবিরের রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, হয়তো এবার দেশের মাটিতে যাওয়ার ভাগ্য খুলবে।’

উখিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ও পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তারা রোহিঙ্গাদের পরবাস জীবনযাত্রা দেখে আশাহত হয়েছেন। রোহিঙ্গাদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। আশা করছি, উনারা রোহিঙ্গাদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে রাখাইনে বসবাসের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাটের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এ অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে উল্লেখ ও আন্তর্জাতিক মহলে অব্যাহত সমালোচনার মুখে বাংলাদেশের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চুক্তি করে মিয়ানমার। কিন্তু এটি এখনো বাস্তবায়ন শুরু করেনি দেশটি।

রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সর্বশেষ জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও আইসিআরসি প্রধান বাংলাদেশ সফর করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads