• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

বড়পুকুরিয়া বিদুৎকেন্দ্র

সংরক্ষিত ছবি

জাতীয়

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

বিদ্যুৎ সঙ্কটের মুখে উত্তরের আট জেলা

  • দিনাজপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ জুলাই ২০১৮

কয়লা সঙ্কটের কারণে গতকাল রোববার বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় বিদ্যুৎ সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে রংপুর বিভাগের আট জেলা।

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাকিম জানান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ কয়লা সরবরাহ করতে না পারায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করতে হয়েছে।

এর আগে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পেট্রোবাংলাকে জানালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে বিপুল ঘাটতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা ঘাটতির কারণে গত ১৯ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মদ ও কোম্পানির সচিব (জিএম প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে প্রত্যাহার করেছে খনিটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। একই কারণে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং অ্যান্ড অপারেশন) এটিএম নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপমহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে খনি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এ কয়লার ঘাটতির ঘটনা সিসটেম লসের কারণে ঘটেছে। ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরুর পর এই লস হয়।

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের ঘটনার বিরূপ প্রভাব পড়বে উত্তরবঙ্গে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড নেসকের রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, ‘রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রতিদিন ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। এর মধ্যে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে বড়পুকুরিয়া কেন্দ্র থেকে। কিন্তু কয়লা সঙ্কটের কারণে গত এক মাস ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট বন্ধ থাকায় সেখান থেকে মাত্র ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসত। এখন সর্বশেষ ইউনিটটিও বন্ধ হওয়ায় ঘাটতি আরো বাড়ল।’ তিনি বলেন, ‘বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটি বন্ধ হলেও, বাইরে থেকে বিদ্যুৎ এনে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা হবে। তবে এতে ভোল্টেজ কমে যাওয়া ও লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে।’

বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। ফুলবাড়ী লাভলী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি বলেন, ‘প্রতিদিন দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও পাঁচ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে।’ একই কথা বলেন মির্জা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জেনারেল ম্যানেজার মশিউর রহমান। তিনি জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে শুধু উৎপাদনেরই ক্ষতি নয়, এতে মেশিনেরও ক্ষতি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি লোকসান বাড়ায়।

এদিকে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে। এরপর এই সঙ্কট কেটে যাবে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads