• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ডিসি সম্মেলন শুরু আজ, জমা পড়েছে ৩৪৭ প্রস্তাব

আজ থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু

সংরক্ষিত ছবি

জাতীয়

সুবিধার পাশাপাশি ক্ষমতা চান জেলা প্রশাসকরা

ডিসি সম্মেলন শুরু আজ, জমা পড়েছে ৩৪৭ প্রস্তাব

  • অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
  • প্রকাশিত ২৪ জুলাই ২০১৮

তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সকাল ১০টায় শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে মোট ৩৪৭টি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক বা ডিসিরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে ভূমিতে ২৯টি। এরপরই জনপ্রশাসনে ২৬ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকরা ২০টি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েই সম্মেলনে হবে মুক্ত আলোচনা। এরপর অধিবেশনগুলো হবে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিন দিনজুড়ে হবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক আলোচনা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সামনে লিখিত বক্তব্য দেবেন চার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও তিন বিভাগীয় কমিশনার। এজন্য প্রত্যেকের পাঁচ মিনিট করে সময় থাকবে। এসব জেলা প্রশাসক হলেন- পিরোজপুরের (ডিসি) আবু আহমদ ছিদ্দিকী, মাদারীপুরের মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, মুন্সীগঞ্জের সায়লা ফারজানা। বিভাগীয় কমিশনাররা হলেন- সিলেটের ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, বরিশালের মো. শহিদুজ্জামান, রাজশাহীর মো. নূর-উর-রহমান।

জানা যায়, লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরবেন ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১ এবং ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের কর্মপরিকল্পনার চিত্র উপস্থাপন করবেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা, সবার জন্য বাসস্থান নির্মাণ, স্বচ্ছতার সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন, আগামী প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিবিড় তদারকি নিশ্চিতকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানের কথাও বলবেন ডিসিরা। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলার সমস্যা-সম্ভাবনা ও ব্র্যান্ডিংয়ের দিকগুলো তুলে ধরবেন তারা।

সচিবালয়ে গতকাল সোমবার ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৮’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এনএম জিয়াউল আলম এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সামনাসামনি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সচিব জানান, এবারের সম্মেলনে মোট ২২টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ১৮টি, একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, একটি সমাপনী অনুষ্ঠান, মুক্ত আলোচনা এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে। ২৬ জুলাই সম্মেলন শেষ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ মোট ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশ নেবে। কার্য অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন।

জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ৩৪৭টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে জানিয়ে জিয়াউল আলম বলেন, এর বাইরেও তাৎক্ষণিক প্রস্তাব উপস্থাপিত হতে পারে। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ভূমি নিয়ে সব সময় বেশি প্রস্তাব আসে, তবে কি ভূমির সমস্যাগুলো সমাধান হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে জিয়াউল আলম বলেন, এই সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনের কাজ হচ্ছে। ভূমি রেজিস্ট্রেশন, সেটেলমেন্টও ডিজিটালাইজড হচ্ছে। এগুলো হয়ে গেলে ভূমি সংক্রান্ত মামলা কমে যাবে। তখন প্রস্তাবও কমবে। মাদক বিষয়ে ডিসিদের কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বলেন, সিদ্ধান্ত হলে জানাব। নির্বাচন সামনে রেখে সম্মেলন হচ্ছে কি না- এ বিষয়ে সচিব বলেন, প্রতি বছর সাধারণত এ সময়েই সম্মেলন হয়। এর সঙ্গে নির্বাচন কোনো মতেই সংশ্লিষ্ট নয়। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সম্মেলনের সূচি অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও তার দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন ডিসিরা। এটা হবে বঙ্গভবনের দরবার হলে। আগামী ২৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অধিবেশন। গত বছর ডিসি সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব বলেন, বাস্তবায়নের সমন্বিত হার ৯৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

ডিসি সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অধিবেশন আজ সন্ধ্যা ৬টা ৪০-এ শুরু হবে। এতে আলোচনার জন্য ডিসিরা বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব নিয়োগ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে চান জেলা প্রশাসকরা। বর্তমানে শুধু এন্ট্রি লেভেলে (প্রভাষক, সহকারী শিক্ষক, সহকারী মৌলভী ইত্যাদি) নিয়োগের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব এনটিআরসিএর। খুলনার ডিসি প্রস্তাব পাঠিয়ে বলেছেন, কিন্ডারগার্টেনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ানো হয়। বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে এসব বইয়ের বিষয়বস্তুর সম্পর্ক সামান্য। তিনি কিন্ডারগার্টেনের বইয়ের বিষয়ে জেলা কমিটির অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছেন। গাইবান্ধার ডিসি প্রস্তাব পাঠিয়ে বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফির সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। অথচ এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের শতভাগ সরকার দেয়। টিউশন ফির কোনো নীতিমালা না থাকায় তার যথেচ্ছ ব্যবহার হয়। এজন্য একটি নীতিমালা হওয়া দরকার।

সাতজন ডিসি এবং একজন বিভাগীয় কমিশনার মাদক নিয়ে চারটি সুপারিশ পাঠিয়েছেন। জেলা কারাগারে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করেছেন বগুড়া, টাঙ্গাইল ও ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসিরা। ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক প্রস্তাব করেছেন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার সময় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিলের।

মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ভাতা, হাওর এলাকার জন্য হাওর ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন বরগুনা ও ভোলার ডিসি। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অতিথিদের জন্য খাদ্য সহায়তার প্রস্তাব করেছেন চট্টগ্রামের ডিসি। লুটপাটের অভিযোগে গত কয়েক বছর ধরে এ সংক্রান্ত বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। জেলার অভ্যন্তরে গাড়িচালকদের বদলির এখতিয়ার জেলা প্রশাসকদের ওপর এবং নিয়োগ ও আন্তঃজেলা বদলির এখতিয়ার বিভাগীয় কমিশনারদের ওপর ন্যস্ত করার সুপারিশ করেছেন বরিশাল, গাইবান্ধা ও মাদারীপুরের ডিসি। জেলা পুলের যানবাহন মেরামতের খরচ সীমা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো ও প্রতি জেলায় মেরামতের জন্য শাখা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা ও যশোরের ডিসি। সিআরপিসি এবং ওথস অ্যাক্ট অনুযায়ী এফিডেভিট সংক্রান্ত কাজ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে হয়। হলফনামা বা শপথ বা ঘোষণাপত্র সম্পাদন করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশ করেছেন চট্টগ্রামের ডিসি। সরকারি কর্মকর্তাদের আদালত অবমাননা মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি এবং মামলা সরকারি কৌঁসুলি দিয়ে পরিচালনার সুপারিশ করেছেন ময়মনসিংহের ডিসি। জরুরি প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি প্রদান সহজ করার জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে ক্ষমতা অর্পণের প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকা জেলার ডিসি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন নরসিংদী ও ময়মনসিংহের ডিসি। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩-কে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর তফসিলভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন নোয়াখালীর ডিসি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads