• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
কয়লা তদন্তে গুরুত্ব সরকারের

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি

সংরক্ষিত ছবি

জাতীয়

কয়লা তদন্তে গুরুত্ব সরকারের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৩০ জুলাই ২০১৮

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উধাওয়ের ঘটনার তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সব তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এদিকে খনি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিকভাবে করা সিস্টেম লসের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, স্পষ্টতই এখানে চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং এতে খনির কর্মকর্তারা জড়িত।

কয়লা উধাওয়ের কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পেট্রোবাংলা আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে তারা প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমাও দিয়েছে। দুটি তদন্তেই দেখা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কাগজপত্র অনুযায়ী সর্বশেষ এক লাখ ৪৭ হাজার টন কয়লা মজুত থাকার কথা ছিল। কিন্তু মজুত আছে মাত্র তিন হাজার টনের মতো। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জানান, পেট্রোবাংলা প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে। এখন তারা বিস্তারিত তদন্ত করছে।

বিষয়টি নিয়ে গতকাল রোববার সচিবালয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সরকারের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘চাঁদের মধ্যে একটু কলঙ্ক হতে পারে। তাই বলে এ বিষয়ে সরকারকে দায়িত্বহীন বলা যাবে না। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখানেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না।’

এদিকে কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে খনি কর্তৃপক্ষ সিস্টেম লসের কথা বলছে। বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, কয়লা উৎপাদন এবং মজুতের ক্ষেত্রে সিস্টেম লস হয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ কয়লা না থাকার বিষয়টি সিস্টেম লসের ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, ‘বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়লা সরবরাহে বর্তমানে যে ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে কোনো চোরাই ট্রাক কয়লা নিয়ে চলে যাবে, তা অসম্ভব। তবে যে পথেই চুরি হোক না কেন, কয়লা অবৈধ হাতে অবৈধ স্থানে গিয়েছে, এর প্রমাণ পাওয়া যায় বড়পুকুরিয়ার কোনো কোনো ব্যবসায়ীর নিজস্ব কয়লাস্তূপের অবস্থান দেখে। এই অবৈধ কাজ বৈধ কাগজ নিয়েই করা হয়।’

জানা যায়, অবৈধভাবে কয়লা বিক্রির প্রক্রিয়ায় খনি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা জড়িত। এতে লোভনীয় কমিশন পাওয়া যায়। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অবৈধ ব্যবসা দেখভাল করে। বর্তমানে খনি কর্তৃপক্ষ এক টন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিক্রি করলে পায় ১১ হাজার টাকা। আর বাইরের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিক্রি করলে পায় ১৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া কয়লা বিক্রি করে যত বেশি লাভ দেখানো যায়, কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বোনাসের পরিমাণও তত বাড়ে।

স্থানীয় ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পানির সঙ্গে ১৬ থেকে ২০ হাজার টন কয়লা উত্তোলিত হয়। এই কয়লা সংগ্রহ করে শুকিয়ে রাখা হয় খনির ইয়ার্ডে। কিন্তু এই কয়লার কাগজ-কলমে কোনো হিসাব রাখা হয় না। গত সাত-আট বছর ধরে এ কয়লা স্থানীয় ঠিকাদারের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ। গোপনে এসব কয়লা বিক্রি করে দেন খনির কর্মকর্তারা। এ ছাড়া অনেকে জানান, খনিতে শুধু চীনা টেকনিশিয়ানদের উৎপাদিত কয়লারই হিসাব রাখা হয়। এর বাইরে ডাস্ট কয়লা হিসেবে যে ক্ষুদ্রাকৃতির কয়লা পানি নিষ্কাশন করে তোলা ও মজুত করা হয় সেগুলোর কোনো হিসাব রাখা হয় না। তাই সেগুলোর বিক্রি ও টাকার হিসাব নথিতে থাকে না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads