• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
আলাদা সাইবার সেন্টার হচ্ছে পুলিশের

আলাদা সাইবার সেন্টার হচ্ছে পুলিশের

প্রতীকী ছবি

জাতীয়

আলাদা সাইবার সেন্টার হচ্ছে পুলিশের

# পরিচালিত হবে সিআইডির অধীনে # ৩৬৯ পদ সৃষ্টির অনুমোদন

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ২৬ আগস্ট ২০১৮

দেশে সাইবার অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় এ নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করতে ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। পুলিশের প্রস্তাবিত ধারণাটি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৩৬৯টি পদ সৃষ্টির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। দ্রুতই বিষয়টি অনুমোদিত হয়ে নতুন সেন্টারটি চালু হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

পুলিশ বিভাগ জানায়, সেন্টারটি সাইবার অপরাধ তদন্তে কাজ করবে। এর কার্যক্রম সিআইডির (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) অধীনে পরিচালিত হবে। এ ইউনিটটি গঠিত হলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলা, ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা সহজ হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে সাইবার অপরাধ কমে আসবে। বর্তমানে পুলিশের বিভিন্ন উইংয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিট থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা সাইবার সেন্টার নেই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পুলিশ সদর দফতরের প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয় থেকে গত জুলাইয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পুলিশের করা ৫৮৫টি পদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ৩৬৯টি পদ সৃষ্টির সম্মতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৬ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অনুবিভাগে পাঠানো হয়। সেন্টারের পদগুলোর মধ্যে ডিআইজি ১টি, অতিরিক্ত ডিআইজি ২টি, পুলিশ সুপার ৩টি, এডিশনাল এসপি ৬টি, এএসপি ১৯টি, ইন্সপেক্টর ৬৫টি, এসআই (নিরস্ত্র) ১৩০টি, এএসআই ৩৯টি ও কনস্টেবলের ৭০টিসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও জঙ্গি দমনে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম বন্ধে ফিজিক্যাল প্যাট্রলিংয়ের চেয়ে সাইবার জগতে প্যাট্রলিংয়ে জোর দিতে হবে। এজন্য সাইবার অপরাধ দমনে লোকবল বাড়ানোর পাশাপাশি টেকনিক্যাল সাপোর্ট বাড়ানো জরুরি বলেও মনে করেন তারা। এ বিষয়ে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সেন্টার না থাকলেও পুলিশ সদর দফতরে একটি সাইবার ডেস্ক করা হয়েছে। এখান থেকে প্যাট্রলিং করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই ডেস্ক থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে যখন যেখানে যা করা দরকার সেটা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না।’

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গিদের চেয়ে দৌড়ে এখন পুলিশ অনেক এগিয়ে আছে। কিছু করার পরিকল্পনার পর্যায়েই তারা ধরা পড়ে যাচ্ছে। তারা (জঙ্গি) চাচ্ছে যে অনলাইনে বা বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কাউকে মোটিভেট করা। সেজন্য তারা ছদ্মবেশে বিভিন্ন নামে ফেসবুক, টুইটারে গ্রুপ খুলছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আলাদা সাইবার সেন্টার গঠন হলে শুধু জঙ্গিরা নয়, কেউই সাইবার অপরাধ করে পার পাবে না।’

তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই সন্ত্রাসীরা এখন অনলাইনে কাজ করছে। তাদের প্রত্যেকটি গ্রুপের আবার নিজস্ব অর্থায়নে পৃথক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপস আছে। এতেই বোঝা যায় প্রযুক্তিগতভাবে তারা কতটা সুসংগঠিত। আর এদের যদি মনিটরিং করতে হয় তাহলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের দেশের ভেতরে যে গেটওয়েগুলো আছে, সেই গেটওয়েগুলোতে আমাদের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার দুটোই ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ডিজিটাল কর্মকাণ্ড নজরদারি করা যাবে। তাদের অর্থায়নের উৎসটা কী সেটাও জানা যাবে। গেটওয়ের ভেতরেই আমাদের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার বসিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংযুক্ত করে নজরদারি করলে বিষয়টি অনেক বেশি কার্যকর হবে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads