• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
‘প্রশ্নফাঁসের মতো গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ফাঁস’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

সংরক্ষিত ছবি

জাতীয়

‘প্রশ্নফাঁসের মতো গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ফাঁস’

  • রেজাউল করিম লাবলু
  • প্রকাশিত ২৭ আগস্ট ২০১৮

প্রশ্নফাঁসের মতো একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ফাঁস করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী-এমপিরা- এ অভিযোগ বিএনপি নেতাদের। তারা বলছেন, আগেভাগেই দলটির নেতাকর্মীরা যেভাবে কথা বলছেন তাতে মনে হয়, সরকার রায় চূড়ান্ত করে রেখেছে। শুধু আদালতকে দিয়ে তা বলানো বাকি। তারা বলেন, চলতি সপ্তাহে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে দলের বক্তব্য দেশ ও জাতিকে জানাবেন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলার রায় সেপ্টেম্বরে হবে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু তার আগেই প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে অন্যান্য মন্ত্রী, এমপি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে যেভাবে বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে সরকার রায় চূড়ান্ত করে রেখেছে। এখন আদালতকে দিয়ে তা ঘোষণা বাকি।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতোই সরকার মামলার রায়ও ফাঁস করে দিচ্ছে। বিচারাধীন মামলা নিয়ে দায়িত্বশীল কারো কথা বলা আদালত অবমাননার শামিল। কিন্তু তারপরও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি দুঃখজনক। এর আগেও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের আগে সরকারের পক্ষ থেকে যে কথা বলা হয়েছিল, রায় তার সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, গত শনিবার বিকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাতেই চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে তার নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে- আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা এবং তার মামলা পরিচালনার বিষয়ে কোনোরকম ভুল না করা।

তিনি আরো জানান, খালেদা জিয়া নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখতে বলেছেন। বিশেষ করে প্রার্থী বাছাই ও কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি খালেদা জিয়া আন্দোলনের জন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করারও তাগিদ দিয়েছেন দলীয় মহাসচিবকে।

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান জানান, গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যের কড়া জবাব দিতে সংবাদ সম্মেলন করতে বলেছেন খালেদা জিয়া। চলতি সপ্তাহে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। মামলার বিষয়ে আলোচনার জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ডেকে আনা হয় গুলশান কার্যালয়ে।

ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, এই আইনজীবীরা গ্রেনেড হামলা মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে দলের মতামত প্রস্তুত করে তা দলের মহাসচিবের কাছে দেবেন। তাছাড়া বিষয়টি যতটা না আইনি তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। তাই এ বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যও থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি যেসব বিষয় তুলে ধরবে তার মধ্যে রয়েছে- প্রথমত, আওয়ামী লীগ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। দলটি ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে। অথচ ওয়ান-ইলেভেনের সময় ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে নামটি ছিল না। শুধু তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক ও নির্মম নির্যাতন চালানো হয় মুফতি হান্নানের ওপর। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুইবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির নজির নেই।

দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ২ ঘণ্টা আগেও জানতেন না, সমাবেশ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে হবে। তাহলে মুফতি হান্নান কীভাবে দু’দিন আগেই তা জেনেছিলেন? কার সিদ্ধান্তে সমাবেশস্থল মুক্তাঙ্গন থেকে সরিয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে নেওয়া হয়েছিল। মুফতি হান্নান তার স্বীকারোক্তিতে বলেছিলেন, মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের সভার কথাটি তিনি জানতেন। আবার স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছেন। প্রশ্ন হলো, মুফতি হান্নান সভার স্থান পরিবর্তনের সংবাদটি কার কাছ থেকে পেয়েছিলেন?

তৃতীয়ত, মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিতে গ্রেনেড নিক্ষেপের কথা উল্লেখ আছে, বন্দুক ব্যবহারের কথা নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় ও সিকিউরিটি অফিসার নাজিব আহমেদ বলেছেন, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বুলেটপ্রুফ গাড়িতে অসংখ্য গুলি করা হয়েছে। এই বন্দুক ও গুলি এলো কোথা থেকে?

চতুর্থত, ২০০৮ সালের ১১ জুন বর্তমান আইজিপি ও তৎকালীন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি জাবেদ পাটোয়ারীর তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেনেড হামলা চালায় হরকাতুল জিহাদ। মুফতি হান্নানই পরিকল্পনাকারী। মওলানা তাজউদ্দিন গ্রেনেড সরবরাহকারী। হামলার পরিকল্পনা হয় ১৯ আগস্ট। জাবেদ পাটোয়ারীর তদন্ত প্রতিবেদনে কোথাও তারেক রহমান বা বিএনপির নাম নেই।

পঞ্চমত, মামলা তদন্ত করতে তৎকালীন বিএনপি সরকার এফবিআইকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের সহায়তা করেনি। এমনকি শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়িটিও দেখতে দেওয়া হয়নি। কেন তারা সুষ্ঠু তদন্ত করতে দিল না? এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য।

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের সাহেবরা মামলার রায়কে প্রভাবিত করতেই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে বেসামাল বক্তব্য রাখছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে এ জাতীয় বক্তব্য সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতবাহী।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads