• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

শেষ সংসদ অধিবেশনে পাস হবে সড়ক পরিবহন আইন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বর্তমান সরকারের শেষ সংসদ অধিবেশনে সড়ক পরিবহন আইন পাস হবে বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আইনটির খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সংসদে উপস্থাপনের পর তা স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে এ আইনটি নিয়ে চুলচেরা আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটি এ আইনটির বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে এ আইনটি পরিবর্তন ও সংশোধন হতে পারে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন আইনটি গ্রহনযোগ্য না হলে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে এবং জনগন এ আইনের সুফল পাবে না।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আমি সম্মান করি। কারণ তারা এ আন্দোলন না করলে এ আইনটি কখনো আলোর মুখ দেখতে পেত না।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বসছে জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন। এটাই বর্তমান সরকারের শেষ অধিবেশন।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে গত ৬ আগস্ট ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

রাস্তায় মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের হেলমেট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সার্বিক উন্নতিতে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল হলেও ঢাকা শহরের দিকে তাকানো যায় না। অনেক বাসের ছাল-বাকর পর্যন্ত উঠে গেছে। বাসের গায়ে লেখা থাকে মা-বাবার দোয়া ও আল্লাহর নামে চলিলাম।

তিনি বলেন, আর এভাবে চলতে চলতে বাসগুলো পথচারীদের গায়ের ওপর তুলে দেয়। শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা তারই প্রতিফলন।

সড়ক ও মহাসড়কে ছোট যানবাহন ও ইজিবাইক ব্যবহাওে ক্ষোভ প্রকাশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও ইজিবাইক তৈরির কারখানা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ধরনের যানবাহনের উৎসমুখ বন্ধ করা হলে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে।

সভায় বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সড়ক পরিবহনে ভাল আইন থাকলে দুর্ঘটনা কমানো সহজ হয়।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এ আইনটি অনেক ফাঁক-ফোঁকর রয়েছে। তা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। তা না হলে আইনটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

এ সময় তিনি দুর্ঘটনা ও হত্যাকাণ্ডের সংজ্ঞা নির্ধারনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, দামী দামী গাড়ীর চালকদের যেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয় সেভাবে কমদামী গাড়ীর চালকদের প্রশিক্ষণ ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে।

সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল বলেন, হাইড্রোলিক স্টপেজ ডোর ব্যবহার করলে বাসগুলো যত্রতত্র থামতে পারবে না। সেজন্য বৈধ পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারণ করতে হবে।

এছাড়াও সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, মহা-পুলিশ পরিদর্শকের প্রতিনিধি,ডিএমপি’র প্রতিনিধি, হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)’র চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান প্রমূখ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads