• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
আট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে ঐকমত্য

লোগো বিজিবি-বিএসএফ

সংরক্ষিত ছবি

জাতীয়

বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন সমাপ্ত

আট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে ঐকমত্য

# বাংলাদেশ থেকে দেশত্যাগের ঘটনা আর ঘটে না : বিজিবি মহাপরিচালক #এ বছর সীমান্তে একজনেরও মৃত্যু হয়নি : বিএসএফ মহাপরিচালক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে ৪৭তম সীমান্ত সম্মেলন গতকাল শুক্রবার জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন (জেআরডি) স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া এই সম্মেলন শেষে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে অনুসন্ধান ও মানব পাচার রোধসহ আটটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে একসঙ্গে কাজ করার যৌথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সম্মেলন শেষে গতকাল যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক সাফিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ক্রমেই উন্নত হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি। তাই ব্যাপক হারে দেশত্যাগের ঘটনা আর ঘটে না। আর বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মা দাবি করেন, চলতি বছরে সীমান্তে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। যদিও বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং অধিকারের তথ্য উল্লেখ করে বিবিসি বাংলা বলছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিএসএফের নির্যাতনে ৩ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। কে কে শর্মা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চলতি বছরে দু’দেশের দীর্ঘ সীমান্তে অবৈধ পারাপারের চেষ্টায় ১ হাজার ৫২২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে বিজিবির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই দেড় হাজার জনের মধ্যে ১৬৬ জন এমন যারা বুঝতে না পেরে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন, কেউ কেউ পাচারের শিকার।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশের কোনো ঘটনা ঘটে না। যেটুকু পারাপার হয় তার কারণ নিতান্তই পারিবারিক। সীমান্তের দু’পাশে একই পরিবারের মানুষের বসবাস। পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়া আসা স্বাভাবিক।

তিনি আরো বলেন, গরু পাচারের ঘটনা অনেক কমে গেছে। বাংলাদেশও গরুর বিষয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। পাচার রোধে বিজিবি ও বিএসএফ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় কোথাও কোনো ভারতবিরোধী গোষ্ঠীর অস্তিত্বও নেই।

সম্মেলন শেষে গতকাল সীমান্ত হত্যা বন্ধে পদক্ষেপ; বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর অনুসন্ধান; সীমান্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; মানব পাচার রোধ; জাল মুদ্রা পাচার রোধ;  আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে উন্নয়ন; ক্রাইম ফ্রি জোন ঘোষণা; সুসম্পর্ক আরো বৃদ্ধির মতো আটটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে একসঙ্গে কাজ করার যৌথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মার নেতৃত্বে ২০ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মোহসিন রেজা জানান, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত অংশগ্রহণমূলক আলোচনায় উভয়পক্ষের সুচিন্তিত মতামতের ফলে সম্মেলন অত্যন্ত অর্থবহ হওয়ায় উভয়পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। যা দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, মহাপরিচালক পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন ২০১৯ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উভয়পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। সম্মেলন শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আজ শনিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads